

২০২১ সালে তৃণমূলের প্রবল হাওয়াতে বনগাঁ উত্তরের আসনে পদ্মফুল ফুটিয়েছিলেন তিনি। এ বারের বিধানসভা ভোটেও ওই আসন বিজেপিকে এনে দিয়েছেন। দীর্ঘদিনের এই লড়াইয়ের স্বীকৃতি পেলেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় জায়গা পাচ্ছেন বনগাঁ উত্তরের বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া।

সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা অশোক কীর্তনিয়ার রাজনৈতিক কেরিয়ার বেশ চমকপ্রদ। অশোক রাজনীতিতে এসেছেন অনেক পরে, তার আগে লড়াই করেছেন ব্যবসা দাঁড় করাতে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী ছিলেন তিনি। অল্প বয়স থেকেই ব্যবসার প্রতি আগ্রহ ছিল প্রবল।

পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতির কথা ভেবে খুব অল্প বয়সেই ব্যবসায় নামেন। প্রথমদিকে ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করলেও ধীরে ধীরে সাফল্য আসে। লাভের টাকা দিয়ে লরি কেনেন, জমি কেনেন, বাড়িও তৈরি করেন একাধিক। এর পরে হাত দিয়েছিলেন সুপারির ব্যবসায়, তার পরে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।

ব্যবসায় সাফল্যের পরে ধীরে ধীরে রাজনীতির ময়দানে ঢোকেন অশোক কীর্তনীয়া। সীমান্ত এলাকার নানা সমস্যা, অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, কৃষক সমস্যা এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন দুর্ভোগ নিয়ে সরব হতে শুরু করেন তিনি। ভারতীয় জনতা পার্টির সংগঠনকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় স্তরে দীর্ঘ দিন কাজ করেছেন। সেই সময়ে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে একাধিকবার রাজনৈতিক হামলা ও অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ জানা যায়। অশোক কীর্তনিয়ার স্ত্রীর উপরেও হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পরে অশোক কীর্তনিয়া বলেন, ‘সামনে আরও বড় লড়াই রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখিয়েছেন, তা বাস্তবায়িত করতে কাজ করতে হবে।’ অনুপ্রবেশ নিয়েও কড়া বার্তা দেন তিনি। আগামী ছয় মাসের মধ্যে কাঁটাতারবিহীন সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে অনুপ্রবেশ বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

মন্ত্রীর মা অহল্যা কীর্তনিয়া জানান, পরিবারের কঠিন সময়ে ছেলেই ছিল অন্যতম ভরসা। তিনি বলেন, ‘’ছোট থেকেই খুব পরিশ্রমী ছিল। মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করত সবসময়।’ তিনি আরও বলেন, ‘সবাই আসুক, চা-বিস্কুট দেব, মিষ্টি দেব। ছেলে মন্ত্রী হয়েছে, এটা তো আমাদের সবার আনন্দ।’ পরিবারের সদস্যদের কথায় উঠে এসেছে অশোক কীর্তনীয়ার জীবনের এক বিশেষ অধ্যায়ও। ছোট বোনের ছেলে হওয়ার সময় পরিবারে সিদ্ধান্ত হয়েছিল শিশুকে সোনার চেন উপহার দেওয়া হবে। কিন্তু তাঁর বোন সেই টাকা দাদার হাতে তুলে দিয়ে ব্যবসা শুরু করার পরামর্শ দেন। সেই অর্থ দিয়েই ব্যবসার পথচলা শুরু করেন অশোক। পরবর্তীকালে সেই ব্যবসাই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া শহর বনগাঁ। সেই এলাকার এক বিধায়ক রাজ্যের মন্ত্রী হচ্ছেন, এই খবর আসতেই খুশির হাওয়া বনগাঁয়। ছেলে মন্ত্রী হওয়ার খবরে আবেগে ভাসছেন মা অহল্যা কীর্তনিয়া। ছেলেকে তাঁর পরামর্শ, ‘মানুষের পাশে সবসময় থাকতে হবে। লক্ষ লক্ষ মানুষের সমর্থন না থাকলে এই সাফল্য আসত না।’ এ দিন স্বামীর মঙ্গল কামনায় বনগাঁর সাত ভাই কালীতলায় পুজো দিলেন স্ত্রী মৌমিতা কীর্তনিয়া। পুজো শেষে তিনি বলেন, ‘খুব আনন্দ লাগছে। মানুষের জন্য আরও কাজ করার সুযোগ এসেছে।’



