

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্টের ছবিটা কিছুটা হলেও আলাদা। বিজেপি এবং তৃণমূলের দ্বৈরথের মাঝেই নিঃশব্দে জমি পুনরুদ্ধারের কাজ চালাচ্ছে সিপিআই(এম)। আর এই লড়াইয়ে আলিমুদ্দিনের প্রধান অস্ত্র , একঝাঁক তরুণ মুখ এবং নারী শক্তিকে সামনে রেখে তিন দশকের বেশি সময় ধরে বাংলার মসনদে থাকা বামফ্রন্ট এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে।

এবারের নির্বাচনে বামেদের প্রার্থী তালিকায় মহিলা প্রার্থীদের আধিক্য চোখে পড়ার মতো। ২০২১-এর নির্বাচনে যেখানে বামফ্রন্ট ২০ জন মহিলাকে টিকিট দিয়েছিল, এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে করা হয়েছে ২৭। এই তালিকায় যেমন রয়েছেন অভিজ্ঞ মুখ, তেমনই রয়েছেন রাজনীতির আঙিনায় একেবারে নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিরা। গত বছর কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের সময় বোমার আঘাতে প্রাণ হারানো শিশুর মা সাবিনা ইয়াসমিন এবার সেই কালীগঞ্জ থেকেই লড়াই করছেন।

অন্যদিকে, ডিওয়াইএফআই-এর রাজ্য নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এবার হুগলির উত্তরপাড়া থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে গর্জে উঠছেন। আর জি কর কাণ্ডের বিচার চেয়ে সামনের সারিতে থাকা মীনাক্ষীর স্পষ্ট কথা, লড়াইটা কোনও নির্দিষ্ট জাতির বা দলের নয়, বরং বাংলার মেয়ের বিচার পাওয়ার লড়াই।

জেএনইউ-এর প্রাক্তনী এবং এসএফআই নেত্রী দীপ্সিতা ধর লড়ছেন উত্তর দমদম থেকে। তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ তৃণমূলের ওজনদার নেত্রী তথা মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। দীপ্সিতার মতে, লড়াইটা আদর্শের, যেখানে প্রতিটি পরিবার থেকে অন্তত একজনের স্থায়ী চাকরির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে বামেরা।
মাত্র ২৯ বছর বয়সেই বালিগঞ্জের মতো হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রে লড়াই করছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক আফরিন শিল্পী। বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি এমনকি উর্দুতেও সমান সাবলীল আফরিন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ তুলে মানুষের দুয়ারে পৌঁছাচ্ছেন।

তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বা ‘বাংলার যুব সাথী’ প্রকল্প প্রসঙ্গে বামেদের এই তরুণ তুর্কিদের দাবি, ভাতা দেওয়া সাময়িক স্বস্তি দিলেও বেকারত্ব দূর করাই হওয়া উচিত সরকারের আসল লক্ষ্য। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল বাংলার মানুষ ইভিএমে রায় দেবেন এবং ৪ মে জানা যাবে, এই নতুন প্রজন্ম বামেদের পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনতে পারল কি না।




