

শুক্রবার লোকসভায় (Lok Sabha)
(Women Reservation Bill) মুখ থুবড়ে পড়েছে। দুই তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন নিয়ে সেই বিল পাশ করাতে পারেনি এনডিএ (NDA) সরকার। তার পরই শনিবার সন্ধেয় জাতির উদ্দেশে বক্তৃতা তা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)।

দেশের মা বোনের কাছে এ জন্য যেমন ক্ষমা চাইলেন। তেমনই এ ব্যাপারে কাঠগড়ায় তুলতে চাইলেন কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি ও ডিএমকে-র মতো রাজনৈতিক দলকে। প্রধানমন্ত্রীর কথায় ওঁরা স্বার্থপর। পরিবারতন্ত্রে জর্জরিত এই দলগুলো বিল পাশ না হওয়ার পর শনিবার হাততালি দিচ্ছিল।

প্রধানমন্ত্রীর কথায়, কংগ্রেস তৃণমূল শনিবার সংসদে টেবিল চাপড়ে যে উল্লাস করেছে তা ছিল আসলে মহিলাদের আত্মসম্মানের উপর আঘাত। কিন্তু মহিলারা এই অপমান ভুলবে না। দেশের মহিলারা যখনই তাঁদের এলাকায় এই নেতাদের দেখবেন, মনে পড়বে, এঁরাই সংসদে মহিলা বিল তথা নারী শক্তি বন্দন সংশোধন বিল আটকেছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যাঁরা গতকাল সংসদে বিল আটকেছেন তাঁদের উদ্দেশে দু’কথা বলতে চাই। তাঁরা অন্যায় করেছেন। এই পাপের সাজা কড়ায়গণ্ডায় পাবে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার হাইলাইটস—
নারী শক্তি বন্দন বিল কারও অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য ছিল না। ২০২৯ সালে লোকসভা ভোটে মহিলাদের অধিকার সুনিশ্চিত করার জন্য ছিল। মহিলাদের সামনে থেকে বাধা সরানোর জন্য এই বিল পেশ করা হয়েছিল।
দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা হল মহিলা। সততার সঙ্গে একটা পবিত্র প্রয়াস ছিল মহিলাদের জন্য সংসদে ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ। এটা হল সময়ের দাবি।

উত্তর,দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম সব অঞ্চলের রাজ্যে মহিলাদের সমানাধিকারের জন্য এই বিল আনা হয়েছিল।
রাজ্য ছোট হোক, বড় হোক, সেখানে জনসংখ্যা বেশি হোক বা কম হোক—সেখানে পুরুষ মহিলা বৈষম্য ঘোচাতে চেয়েছিল সরকার। কিন্তু কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে ভ্রুণহত্যা করে দিয়েছে। এরা ভ্রুণহত্যার অপরাধী।
কংগ্রেস মহিলা সংরক্ষণের বিষয়টিকেই ঘেন্না করে। ওরা মহিলা সংরক্ষণ আটকানোর জন্য কংগ্রেস ষড়যন্ত্র করেছে। এর আগে যতবার এই বিল পাশের চেষ্টা হয়েছে, ততবার কংগ্রেস বাধা তৈরি করেছে। এবারও কংগ্রেস আর সঙ্গীরা এই বিল আটকাতে একটার পর একটা মিথ্যা বলেছে।

প্রতিবার এক বাহানা দিয়ে মহিলা সংরক্ষণ বিল আটকে দিয়েছে কংগ্রেস, তৃণমূল আর ডিএমকে। দেশ রাজনীতির এই প্যাটার্ন বুঝতে পেরেছে। এর নেপথ্য কারণও জেনে গেছে। নারী শক্তি বন্দন বিল আটকানোর অন্যতম কারণ হল, এই পরিবারবাদী পার্টিদের ভয়। কারণ, মহিলারা মজবুত হয়ে গেলে তাঁদের মৌরসীপাট্টা চলে যাবে।
কংগ্রেস আর শরিকরা অকারণে ডিলিমিটেশন আটকাতে চাইছে। কারণ, তাদের লক্ষ্য বিভাজনের রাজনীতি। এই বিভাজনের রাজনীতির খেলায় হাওয়া দিচ্ছে।
কংগ্রেস ডিলিমিটেশন নিয়ে মিথ্যা প্রচার করছে। কিন্তু কেন্দ্র আগেই জানিয়েছে, সব রাজ্যের সিট সমান ভাবে বাড়বে। কারও প্রতিনিধিত্ব কমবে না। কিন্তু কংগ্রেস, সপা, তৃণমূল তা মানতেই চাইছে না।
ডিলিমিটেশন বিল পাশ হলে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু সব রাজ্যে লোকসভা আসন বাড়ত। যেমন তামিলনাড়ুর কাছে সুযোগ ছিল, আরও বেশি দ্রাবিড় মানুষকে সংসদে পাঠানোর। তৃণমূলের কাছেও সুযোগ ছিল, বাংলার আরও মানুষকে তাঁরা সংসদে পাঠাতে পারত। সমাজবাদী পার্টিও এতে চুপ ছিল।

কংগ্রেসকে সংস্কার বিরোধী পার্টি বলেও এদিন তুলোধনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার যে সব সংস্কারের পদক্ষেপ করছে, সবেতেই বাধা দিচ্ছে কংগ্রেস। এটাই কংগ্রেসের নেগেটিভ পলিটিক্স। এই কংগ্রেসই জনধন, জিএসটি-র বিরোধিতা করেছিল। কংগ্রেস জিজিটাল পেমেন্ট, তিন তালাক, ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারেরও বিরোধিতা করেছিল। এমনকি অভিন্ন দেওয়ানি বিধিরও বিরোধিতা করে কংগ্রেস। সংস্কারের নাম শুনলেই কংগ্রেস বিরোধিতার ঝাণ্ডা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে।
নারীদের সংরক্ষণ বিল নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রয়াস থামবে না। জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বললেন, ‘আমাদের প্রয়াস থামবে না’।



