

এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের পর এবার আয়কর। ফের নজরে তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক দেবাশিস কুমার । আজ, শুক্রবার সকাল থেকে তল্লাশি শুরু হয়েছে দেবাশিস কুমারের বাড়ি ও অফিসে। মনোহরপুকুর রোডে তাঁর বাড়িতে সকালেই পৌঁছে গিয়েছেন আয়কর দফতরের অফিসাররা। কয়েকদিন আগেই তাঁকে তলব করেছিল ইডি। এদিনই কালীঘাটের তৃণমূল নেতা কুমার সাহার বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটের মুখে এজেন্সিকে ব্যবহার করছে বিজেপি।

সূত্রের খবর, এদিন ভোরবেলা ইডি কলকাতার মোট পাঁচটি জায়গায় হানা দেয়। এর মধ্যে রয়েছে সল্টলেক, মিডলটন স্ট্রিট-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় ওইসব জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। বিশেষ করে সল্টলেকের সিএফ এবং সিকে ব্লকে একটি আবাসনে অভিযান চালানো হয়, কেন্দ্রীয় বাহিনী পুরো এলাকাই ঘিরে রাখে। ওই বাড়িতে কারও প্রবেশ বা বাইরে বেরোনোর উপর সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সম্প্রতি একটি পরিচিত রিয়েল এস্টেট সংস্থার (real estate company) বিরুদ্ধে জমি জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত এগোচ্ছে। ওই সংস্থার মালিককেও আগেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল বলে খবর। সেই সূত্র ধরেই শুক্রবার সকালে ইডির আধিকারিকরা সল্টলেকের দুটি ঠিকানায় পৌঁছান এবং তল্লাশি শুরু করেন।
একই দিনে ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ মিডলটন স্ট্রিটেও ইডির একটি দল অভিযান চালায়। সেখানে একটি আবাসিক বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ ধরে তল্লাশি চলে। পাশাপাশি একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের অফিসেও হানা দেন তদন্তকারীরা। সেখানেও নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এর পাশাপাশি একই সময় সক্রিয় হয় আয়কর দফতরও। ভোর সাড়ে পাঁচটার কিছু পরেই তারা পৌঁছে যায় দেবাশিস কুমারের (Debasish Kumar) মনোহরপুকুরের বাড়ি এবং অফিসে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে দুই জায়গায় তল্লাশি শুরু করেন আয়কর আধিকারিকরা।
দেবাশিস কুমার, যিনি রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী, বর্তমানে নিজের বাড়িতেই রয়েছেন বলে জানা গেছে। নির্বাচনী প্রচারও আপাতত বন্ধ রেখেছেন তিনি। আয়কর দফতরের এই অভিযানের কারণ নিয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি।

তবে স্থানীয় সূত্রে খবর, তল্লাশি চলাকালীন দফতরের নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যা নিয়ে কিছু সমর্থকের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান এবং স্লোগানও তোলেন। তাঁদের অভিযোগ, এই তল্লাশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এ বার কালীঘাটের এক তৃণমূল নেতার বাড়িতে হানা দিল আয়কর দফতর। শুক্রবার সকাল থেকে কালীঘাটের গ্রিক চার্চের কাছে কুমার সাহার বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছেন আয়কর দফতরের আধিকারিকেরা। পেশায় ব্যবসায়ী কুমার এলাকায় তৃণমূলের নেতা হিসাবেও পরিচিত। কী কারণে তাঁর বাড়িতে আয়কর দফতর হানা দিয়েছে, তা প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট নয়। কুমারের বাড়ির বাইরে মোতায়েন রয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা। বাইরে জড়ো হয়েছেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরাও। কেন এই অভিযান, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন তাঁরা।

কী বলছে তৃণমূল-বিজেপি?
ভোটের আগে এজেন্সিকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি তৃণমূলের। মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদারেরা দাবি, ভোটের আগে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা বলেন, “চোর ধরার জন্য কোনও নির্দিষ্ট সময় থাকে না। চুরি করলে, যা পদক্ষেপ করা উচিৎ, তা করা হচ্ছে। আরও তো অনেক প্রার্থী আছে, তাদের ক্ষেত্রে তো তদন্ত হচ্ছে না।”
কেন ইডি স্ক্যানারে দেবাশিস কুমার
কিছুদিন আগে দক্ষিণ কলকাতার একটি নির্মাণ সংস্থার অফিসে ইডি তল্লাশি চালায়। ওই সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ, পুরসভার সাহায্য নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় জমি দখল করা হচ্ছে ও নির্মাণ প্রকল্প করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে দেবাশিস কুমারের এলাকাতেও এই ধরনের নির্মাণ হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত অভিযোগ আসার পরই তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। পরে তাঁকে ব্যাঙ্কের তথ্য সহ তলব করা হয়। উল্লেখ্য, বর্তমানে দেবাশিস কুমার বিধায়ক হলেও, দীর্ঘ সময় ওই এলাকার কাউন্সিলর হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই জমি দখল সংক্রান্ত একটি প্রতারণা মামলায় দেবাশিস কুমুরকে তলব করেছিল ইডি। তিনি সেই সময় হাজিরাও দিয়েছিলেন। এরপর ভোটের ঠিক আগে আবারও তাঁর বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। শাসক শিবিরের দাবি, এর পিছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে তারা সন্দেহ করছে।
সব মিলিয়ে কলকাতায় ভোটের আবহে কেন্দ্রীয় সংস্থার এই একাধিক তল্লাশি শহরজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ও আলোচনা তৈরি করেছে।



