Mamata political decorum remark:‘আমি কটূক্তি করব না, আপনারাও সীমা রাখুন’! নাম না করে পানিহাটির বিজেপি প্রার্থীকে ‘সৌজন্যের’বার্তা মমতার

0
111

Mamata indirect message Panihati: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রটি এখন সরগরম। ২০২৬ নির্বাচনে পানিহাটি কেন্দ্রে বিজেপি রত্না দেবনাথ-কে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে। রত্না দেবনাথ স্থানীয় স্তরে বিজেপির একজন পরিচিত মুখ। প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর থেকেই তিনি এলাকায় সক্রিয় প্রচার শুরু করেছেন।

আরজি কর আবহে পানিহাটি কেন্দ্রের লড়াই এখন আর কেবল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সীমাবদ্ধ নেই, তা গড়িয়েছে কুরুচিকর আক্রমণ আর আইনি লড়াই পর্যন্ত। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়েই বৃহস্পতিবার পানিহাটির জনসভা থেকে একদিকে যেমন নিজের দলের আদর্শ তুলে ধরলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ,তেমনই অন্যপক্ষকে মনে করিয়ে দিলেন সৌজন্যের পাঠ। নাম না নিলেও তাঁর নিশানায় যে ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী তথা আরজি করের নির্যাতিতার মা ছিলেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কোনও সংশয় নেই।

এ দিন সভার শুরুতেই অন্যমেজাজে দেখা গেছে তৃণমূল সুপ্রিমোকে ।  কিছুটা শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে মমতাকে  বলতে শোনা গেল, ‘‘আপনার সন্তান, শিক্ষা, ইতিহাস, খাবার, সংস্কৃতি, অধিকার যদি বাঁচাতে হয়, আপনাদের দরকার তৃণমূল সরকার। যে যতই নাটক, ছলনা করুক, একটা কথা বলবেন, ভোটে কেউ প্রার্থী হলে তাঁর নিজের কথা বলার অধিকার রয়েছে। কিন্তু ভোট রাজনীতির অঙ্গ। এক রাজনীতির লোক অন্য রাজনীতিক লোককে বলতেই পারে। কিন্তু আমি কাউকে কটূক্তি করব না। আপনারাও সৌজন্যের সীমারেখা রাখবেন।’’

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রটি এখন সরগরম। ২০২৬ নির্বাচনে পানিহাটি কেন্দ্রে বিজেপি রত্না দেবনাথ-কে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে। রত্না দেবনাথ স্থানীয় স্তরে বিজেপির একজন পরিচিত মুখ। প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর থেকেই তিনি এলাকায় সক্রিয় প্রচার শুরু করেছেন। তবে প্রচার চলাকালীন তিনি শাসকদলের পক্ষ থেকে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে একাধিকবার অভিযোগ তুলেছেন।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই কেন্দ্রে তাদের পুরোনো এবং অভিজ্ঞ সৈনিকের বদলে এবার তীর্থঙ্কর ঘোষকে প্রার্থী করেছে। তীর্থঙ্কর ঘোষ স্থানীয় স্তরে জনপ্রিয় এবং দলের দীর্ঘদিনের কর্মী। তিনি বিদায়ী বিধায়ক নির্মল ঘোষের ছেলে।

উল্লেখ্য, পানিহাটির বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে ‘প্রাণনাশের হুমকি’এবং অত্যন্ত কুরুচিকর ভাষায় ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। এই ঘটনায় গত রবিবারই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছিল জোড়াফুল শিবির। কল্যাণের দাবি ছিল, এই ধরনের মন্তব্য কেবল নিন্দনীয়ই নয়, তা সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্যও অত্যন্ত ক্ষতিকর।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আরজি কর কাণ্ডের আবেগ নিয়ে বিজেপি প্রার্থী যখন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তোপ দাগছেন, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সচেতনভাবেই পালটা কোনও মন্তব্য এড়িয়ে গিয়েছেন। বরং ‘সৌজন্যের সীমা’র কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি কৌশলে বলটি বিরোধীদের কোর্টেই ঠেলে দিতে চেয়েছেন। মমতা বুঝিয়ে দিয়েছেন, রাজনৈতিক লড়াই চললেও ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অশালীনতা তাঁর দলের সংস্কৃতি নয়।

Previous article‘যিনি অনুপ্রবেশকারীদের মাথা, তাঁকে জেলে ঢোকানো হবে’, হুঁশিয়ারি মোদীর ,২৬-এর ভোটে বগটুই কাণ্ডের কথা মনে করালেন প্রধানমন্ত্রী
Next articleWB Assembly Election 2026: মমতার ম্যারাথন প্রচার: রইল তথ্য ও চিত্র

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here