

পশ্চিমবঙ্গ সহ ৫ রাজ্যে কবে ভোট ঘোষণা করা হবে তা এক প্রকার চূড়ান্ত করে ফেলল নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেই বিধানসভা ভোট হবে তামিলনাড়ু, কেরল, অসম ও পন্ডিচেরিতে। শেষ পর্যন্ত কোনও অঘটন না ঘটলে বা নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত বদল না করলে ১৬ মার্চ সোমবার বাংলা সহ এই ৫ রাজ্যে বিধানসভা ভোট ঘোষণা করবেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।

ক’দফায় ভোট হতে পারে পশ্চিমবঙ্গে?
বাংলায় ভোট সন্ত্রাসের জন্য নব্বইয়ের দশকের শেষ থেকে বামেদের বিরুদ্ধে লাগাতার নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানাত তৃণমূল কংগ্রেস। মুকুল রায়রা বারবার কমিশনের কাছে গিয়ে বলতেন, বাংলায় ভোট স্বচ্ছ ও অবাধ করতে যথাসম্ভব বেশি দফায় ভোট করাতে হবে। সেই থেকে বাংলায় ভোটের দফা ক্রমশই বাড়তে থাকে। এক সময়ে তা ৮ দফা পর্যন্ত পৌঁছয়। কিন্তু কমিশনের কাছেও এখন স্পষ্ট যে, এটা একটা মিথ। বিজেপি-র কাছেও তা অস্বচ্ছ নয়। ফলে এবার যে ভোটের দফা কমে যেতে পারে সেই দেওয়াল লিখন অনেক দিন ধরেই পড়া যাচ্ছিল।

সম্ভবত সেটাই হতে চলেছে। বাংলায় এ বার ভোট হতে পারে দু’দফায়। ১৬ মার্চ ভোট ঘোষণা হলে প্রথম দফার ভোটের আগে অন্তত ২৮ থেকে ৩০ দিন সময় দিতে হবে। অর্থাৎ এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি বা তৃতীয় সপ্তাহে হবে প্রথম দফার নির্বাচন। সে ক্ষেত্রে এপ্রিলের মধ্যেই ভোট গ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণাও শেষ হয়ে যেতে পারে।
জাতীয় নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, ১৮ মার্চ থেকে জমা নেওয়ার কথা ঘোষণা করে দেওয়া হতে পারে। তবে বাংলার রাজনীতিকদের অনেকে মনে করছেন, তা হয়তো বাংলার জন্য হবে না। অসম, তামিলনাড়ু, কেরল, পণ্ডিচেরিতে এক দফায় ভোট হবে। তা সাঙ্গ করে তবেই বাংলায় ভোট হবে।

এখন কৌতূহলের বিষয় হল, ৬০ লক্ষ আবেদনের ভবিষ্যৎ কী? সেই সব আবেদনের নিষ্পত্তির কী হবে? সামপ্লিমেন্টারি তালিকাই বা কবে প্রকাশ হবে?
গত ১০ মার্চ শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার করেই জানিয়েছে, ভোট ঘোষণায় কোনও বাধা নেই। শুনানিতে জানা গেছে, ৬০ লক্ষের মধ্যে ১০ লক্ষ আবেদনের নিষ্পত্তি ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে। তার মধ্যে ৩ লক্ষ ৪ হাজারের মতো আবেদন খারিজ হয়েছে। সাপ্লিমেন্টারি তালিকা কীভাবে প্রকাশ করা হবে তা কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি স্থির করবেন বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। সেই মোতাবেক আজ বৃহস্পতিবারই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের সঙ্গে বৈঠকে বসবে সিইও দফতর।

তবে ৬০ লক্ষ আবেদনের নিষ্পত্তি কত দিনের মধ্যে শেষ করা যাবে তা এখনও অনিশ্চিত। এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টও নজর রাখছে। বাকিটা আদালতেই পরিষ্কার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।




