

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বেনজির অপমানের মুখে পড়তে হল রাজ্যের শাসকদলের প্রতিনিধিদের। ভোটার তালিকা থেকে ৬০ লক্ষ নাম বাদ যাওয়া এবং এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নালিশ জানাতে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়লেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও ফিরহাদ হাকিম। তৃণমূলের অভিযোগ, নিরপেক্ষ থাকার বদলে কমিশন এখন বিজেপির শিখিয়ে দেওয়া পথেই হাঁটছে।
বৈঠকের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ভোটার তালিকার অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

অভিযোগ, তাঁর কথার মাঝেই ক্ষিপ্ত হয়ে চিৎকার করে ওঠেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তিনি পালটা প্রশ্ন করেন, কেন তৃণমূল সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে? চন্দ্রিমা জানান, একজন মহিলা হওয়া সত্ত্বেও কমিশনার তাঁকে অত্যন্ত রুক্ষ স্বরে “Don’t shout” (চিৎকার করবেন না) বলে ধমক দেন। চন্দ্রিমা বলেন, “কীভাবে একজন মহিলার সঙ্গে এভাবে কথা বলতে পারেন উনি? সুপ্রিম কোর্টে গেছি বেশ করেছি। আমার রাজ্যের মানুষের অধিকার রক্ষা করার জন্যই গিয়েছি।” তাঁর প্রশ্ন, বিষয়টি যদি সুপ্রিম কোর্টেই থাকে, তবে তাঁদের আলোচনার জন্য ডাকা হল কেন?

কমিশনের পলিসি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফিরহাদ হাকিম সরাসরি অভিযোগ করেন, বিজেপি বাংলায় বিদেশি অনুপ্রবেশকারীর যে ‘পারসেপশন’ বা ধারণা তৈরি করতে চেয়েছে, কমিশন সেই ফাঁদেই পা দিয়েছে। তাঁর সাফ কথা, “বিজেপি একটা ধারণা তৈরি d zeswযে বাংলায় বিদেশি রয়েছে। কিন্তু আপনাদের দু’মাসের এসআইআর প্রসেসে তা প্রমাণিত হয়নি।”

ফিরহাদের দাবি, সাধারণ মানুষের মনে এখন ভয় ঢুকে গিয়েছে যে তাঁরা ভারতীয় হওয়া সত্ত্বেও তালিকা থেকে নাম কাটা যাবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কমিশন যদি এই কাজ করে, তবে তারা অসংবিধানিক কাজ করছে।”
তৃণমূলের প্রতিনিধিদের মূল অভিযোগ ছিল তিনটি
তথ্যগত অসঙ্গতির দোহাই দিয়ে কেন ৬০ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হল?
‘ফর্ম ৭’ নিয়ে যে বিশাল গরমিলের অভিযোগ উঠছে, তার উত্তর কে দেবে?

কমিশনের এই ‘অসহযোগিতা’ ও কমিশনারের মেজাজ নিয়ে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের অন্দরে শোরগোল পড়ে গিয়েছেwsw। চন্দ্রিমা-ফিরহাদদের দাবি, বৈধ ভোটারদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার এই চক্রান্ত তাঁরা সফল হতে দেবেন না।

কমিশন কেন একটি নিরপেক্ষ সংস্থার মতো আচরণ করছে না?



