


গত ২১ এবং ২২ ফেব্রুয়ারি বারাসাত স্টেডিয়াম তথা বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত হলো বারাসতের সাংসদ ডক্টর কাকুলি ঘোষ দস্তিদার- এর উদ্যোগে এবং বারাসাত পৌরসভা ও ক্লাব সমন্বয় কমিটির ব্যবস্থাপনায় এমপি কাপ ২০২৬।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে বারাসাত স্টেডিয়ামটি বিগত দিনে সিন্থেটিক টার্ফ এর ছিল। বারাসাতের বিধায়ক চিরঞ্জিৎ তথা দীপক চক্রবর্তী’র উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্রীড়া বিভাগের অর্থানুকুল্য এ বিগত দু’বছর আগে থেকে শুরু হয় সিন্থেটিক টার্ফ সরিয়ে গ্রাস টার্ফ এর কাজ। বেশ কিছুদিন আগে এই কাজ সম্পন্ন হয়। কথা ছিল কোন বড় ক্লাবের ম্যাচ দিয়ে বা আই এস এল এর খেলার মাধ্যমে এই মাঠের খেলার উদ্বোধন করা হবে। কিন্তু বিষয়টি আর বাস্তবায়িত হয়নি। সেই অসাধারণ প্রাকৃতিক ঘাসের মাঠে প্রথম এই এমপি কাপের খেলা অনুষ্ঠিত হলো।

বারাসাত সংসদ এলাকার আটটি টিম নিয়ে দুদিন ধরে এই টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হয়। একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের স্মরণীয় দিনে এই খেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বারাসাত পৌরসভার কাউন্সিলরগণ, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা অশোকনগর এর বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী মহাশয় এবং এলাকার প্রাক্তন ও বর্তমান খেলার জগতের সমস্ত মানুষ। রাজ্য সংগীতের মধ্য দিয়ে এই খেলার সূচনা হয়।

প্রথম দিন অর্থাৎ একুশে ফেব্রুয়ারি চারটি কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যায়ের খেলা হয়। প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালটি হয় মনোরঞ্জন স্মৃতিসংঘ ও বারাসাত তরুণ সংঘের মধ্যে। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক এই খেলায় প্রথমার্ধে কোন গোল হয়নি। দ্বিতীয় আর্ধে মনোরঞ্জন সংঘের ১৪ নম্বর জার্সিধারী সংমা দলের জয়ের একমাত্র গোলটি করেন এবং তিনি এই খেলার সেরা খেলোয়াড় বিবেচিত হন।
খেলার অন্তিম লগ্নে মনোরঞ্জন স্মৃতি সংঘের ২ নম্বর জার্সিধারী নব সাহা এই খেলায় দ্বিতীয়বার হলুদ কার্ড দেখার ফলে লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে যান। দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে বারাসত অ্যাসোসিয়েশন ডবলু এস এস কাজীপাড়া কে ৫-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করেন।

তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনাল টিও হৃদয়পুরের উদয়ন সমিতি বারাসত ইউনাইটেড ফুটবল ক্লাবকে সহজেই ২-০ গোলে হারিয়ে দেয়। চতুর্থ কোয়ার্টার ফাইনালে ই আই জি বাইটস এফসি, অশোকনগর ২-১ গোলে হৃদয়পুরের ফ্রেন্ড সার্কেল এর কাছে পরাজিত হয়।
দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ২২ ফেব্রুয়ারি প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় মনোরঞ্জন স্মৃতি সংঘ বনাম বারাসাত অ্যাসোসিয়েশন। এই খেলায় বারাসত অ্যাসোসিয়েশন ২-০ গোলে জয়লাভ করে ফাইনাল খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে হৃদয়পুরের উদয়ন সমিতি ও হৃদয়পুরেরই ফ্রেন্ড সার্কেল মুখোমুখি হয়। নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে খেলাটি অমেলাংসিত থাকে এবং নিয়ম অনুযায়ী টাই ভাঙা পদ্ধতির মাধ্যমে উদয়ন সমিতি জয়লাভ করে ফাইনালে পৌঁছে যায়।

ফলে ফাইনাল খেলাটি অনুষ্ঠিত হয় বারাসত অ্যাসোসিয়েশন বনাম উদয়ন সমিতি হৃদয়পুর। তুমুল প্রতিদ্বন্দিতার মাধ্যমে খেলাটি গোলশূন্য অবস্থায় অম্লাংসিতভাবে শেষ হয়। এরপর টাই ব্রেকার এ হৃদয়পুরের উদয়ন সমিতি ৫-৪ গোলে জিতে শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা অর্জন করে।

প্রধান অতিথি হিসেবে ভারতের প্রাক্তন ফুটবলার তথা সংসদ প্রসূন ব্যানার্জির উপস্থিতি এই প্রতিযোগিতাকে গৌরবান্বিত করে। বিজয়ী ও বিজিত দলকে সুদৃশ্য ট্রফি ও আর্থিক পুরস্কারে পুরস্কৃত করা হয়। খেলাধুলার উন্নয়ন এর জন্য সংসদের এই উদ্যোগকে বারাসত সংসদীয় এলাকার সমস্ত মানুষ সাধুবাদ জানায়।



