বাংলাদেশে পালাবদল। তারেক রহমানের সরকার তৈরি হতেই এবার ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কও বদলাতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারত সরকার বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে। ফের চালু হতে চলেছে বাংলাদেশে ভিসা কার্যক্রম। সূত্রের খবর, ফের ভ্রমণ ভিসা সহ অন্যান্য ভিসা পরিষেবা শুরু হতে চলেছে।


তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে বিএনপি সরকার গঠিত হতেই বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল ভারত সরকার। নির্বাচনে জয়ের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারেকের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। এবার দুই দেশের সম্পর্ক শোধরাতে আরও বড় এক পদক্ষেপ। চালু হচ্ছে ভিসা পরিষেবা।

সুসম্পর্ক ফিরিয়ে আনাই এখন মূল লক্ষ্য। তাই ভিসা চালু করার সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়েছে বিদেশ মন্ত্রকও, কূটনৈতিক মহল সূত্রে এমনই খবর। সিলেটে ভারতের কনস্যুলার কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস জানিয়েছেন,
“সম্পূর্ণভাবে সব ধরনের ভিসা পরিষেবা চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে ।

বিডি নিউজ সূত্রে খবর মিলেছে মেডিক্যাল ও ডাবল-এন্ট্রি ভিসা এখন দেওয়া হচ্ছে। ভ্রমণ ভিসাসহ অন্যান্য বিভাগও দ্রুত চালু করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিদেশমন্ত্রক সূত্রে খবর, বর্তমানে বাংলাদেশিদের এখন মেডিক্যাল ও ডাবল-এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হচ্ছে।
এবার ধীরে ধীরে ভ্রমণ ভিসা সহ অন্যান্য শ্রেণির ভিসা পুনরায় চালুর প্রস্তুতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ অবস্থিত ভারতের হাইকমিশনগুলিতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মুখে পড়তে শুরু করেছিল ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকেই। ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর থেকে ধাপে ধাপে বাংলাদেশে ভিসা পরিষেবা স্থগিত শুরু করে। প্রথমেই ঢাকার ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার বন্ধ করা হয়। তবে ভিসা স্থগিতের প্রথম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল ২০২৪ সালের ৮ অগস্ট। জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্যে এবং শেখ হাসিনার ভারত চলে আসার তিন দিন পর।
বাংলাদেশের অস্থিরতার কথা উল্লেখ করেই বাংলাদেশজুড়ে সব আইভিএসি কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয় গত বছরের শেষভাগে। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, অস্থির পরিস্থিতির আগে দৈনিক প্রায় ৮,০০০ ভিসা দেওয়া হত, যা ওই সময়ে নেমে দাঁড়ায় প্রায় ১,৫০০-তে। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের ছাত্রনেতা ওসমান হাদির মৃত্যুতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ফের একবার উত্তপ্ত হয় বাংলাদেশ। নিশানা করা হয় ভারতীয় দূতাবাসগুলিকে।

পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকলে বিদেশ মন্ত্রকের নির্দেশে একে একে ভারতের ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়। গত ১৭ নভেম্বর ঢাকা আইভিএসি বন্ধ হয়, ২২ নভেম্বরের মধ্যে চট্টগ্রাম খুলনা ও রাজশাহী কেন্দ্রও বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাল্টা ইউনূসের প্রশাসনও নয়া দিল্লি, কলকাতা, আগরতলাসহ বিভিন্ন কনস্যুলার মিশনে ভিসা পরিষেবা স্থগিত করে।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলে সম্পর্ক পুনর্গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশই এখন পারস্পরিক স্বার্থে স্থিতিশীল ও ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী। ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক গভীরভাবে সংযুক্ত।

তবে এবার দুই দেশের সম্পর্ক শোধরাতে আরও বড় এক পদক্ষেপ। চালু হচ্ছে ভিসা পরিষেবা।



