Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

Vande Mataram:দাঁড়িয়ে গাইতে হবে ‘বন্দে মাতরম’, জাতীয় গান নিয়ে কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকা

deshersamay

Share article:
হীয়া রায় , দেশের সময়

জাতীয় গান  বা ‘বন্দে মাতরম’-এর জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। বুধবার সকালে প্রকাশিত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যখনই জাতীয় গান -এর অফিশিয়াল সংস্করণ গাওয়া বা বাজানো হবে, তখন উপস্থিত সবাইকে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতে হবে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, জাতীয় সঙ্গীত  ও জাতীয় গান একসঙ্গে গাওয়া হলে আগে গাওয়া হবে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’। তার পরে গাওয়া হবে ‘জন গণ মন’।

‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে নতুন নির্দেশিকা  জারি করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। যে নির্দেশ জাতীয় রাজনীতিতে ফের নয়া বিতর্কের মুখ খুলে দিতে পারে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠান ও দেশের সব স্কুলে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ পরিবেশনের ঠিক পরেই ‘বন্দে মাতরম’ বাজাতে হবে। সেই সময় উপস্থিত সকলকে উঠে দাঁড়িয়ে এই গানের প্রতি সম্মান জানানো বাধ্যতামূলক।

নয়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে আয়োজিত সব অনুষ্ঠানে—রাষ্ট্রপতির আগমন ও প্রস্থানের সময়ে—‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশিত হবে। পাশাপাশি পদ্ম পুরস্কারের মতো অসামরিক তথা নাগরিক সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানেও এই গান বাজানো হবে। তবে সিনেমা হলে ‘বন্দে মাতরম’ বাজানো বাধ্যতামূলক নয়।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হল, এবার ‘বন্দে মাতরম’-এর সব ছ’টি স্তবকই পরিবেশন করা হবে।

মন্ত্রকের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, জাতীয় গান গাওয়া হলে অফিশিয়াল সংস্করণ অনুযায়ী গণসঙ্গীতের মাধ্যমে পরিবেশন করতে হবে। যাতে সবাই একসঙ্গে অংশ নিতে পারেন। স্কুলগুলির প্রতিও বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষকে তাদের কর্মসূচিতে জাতীয় গান এবং জাতীয় সঙ্গীত জনপ্রিয় করার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মানবোধ গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। নাগরিকদের মধ্যে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা এবং জাতীয় প্রতীকের প্রতি সম্মান আরও বৃদ্ধি করতেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।

উল্লেখযোগ্য ভাবে, ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস আমলে গানটির চারটি স্তবক বাদ দেওয়া হয়েছিল। নতুন নির্দেশিকায় সেই চারটি স্তবকও পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। কারণ গত বছরই এই ইস্যুতে শাসক দল বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে তীব্র বাগযুদ্ধ হয়েছিল।

সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অভিযোগ করেছিলেন, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু নাকি মুসলিমদের খুশি করতে ওই চার স্তবক বাদ দিতে বলেছিলেন।  এবং এ ব্যাপারে তিনি নাকি পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মহম্মদ আলি জিন্নার পথ অনুসরণ করেছিলেন। মোদীর এ কথায় তীব্র আপত্তি জানিয়ে কংগ্রেস বলেছিল, এ হল মিথ্যা অপপ্রচার।

ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি তীব্র করতে মোদী সরকার ও বিজেপি এ সব রটাচ্ছে। দেশের প্রতি ভালবাসার তুলনায় সংকীর্ণঁ রাজনীতিটাই এখানে বড় হয়ে উঠেছে।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, বন্দে মাতরম নিয়ে পুরনো যে বিতর্ক ছিল, নতুন নির্দেশিকা তাকে খুঁচিয়ে তুলল।

‘বন্দে মাতরম’-এর মর্যাদা, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং রাজনৈতিক ব্যাখ্যা—সব মিলিয়ে জাতীয় স্তরে নতুন করে বিতর্ক দলা পাকাতে পারে। তাতে রাজনীতির রুটি সেঁকার চেষ্টাও হয়তো চলবে সমান্তরালে।

Advertisement
Tags: News

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন