ছাব্বিশের ভোটের আগে জোরদার ‘ভাতা রাজনীতি’।শিকেয় অর্থতন্ত্র, ভাতাই ভবিষ্যৎ; দেশজুড়ে একই ট্রেন্ড ।
বৃহস্পতিবার বাজেট অন অ্যাকাউন্টে যুবসাথী প্রকল্পের ঘোষণা করে সেই চেনা পথেই হেঁটেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার । ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি মাধ্যমিক পাশ বেকারদের মাসে ১৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে চলতি বছরের ১৫ অগস্ট থেকে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতোই এই প্রকল্পও ভোটের আগে জনমন জয়ের হাতিয়ার বলেই দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তবে ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই যে প্রশ্নটি সামনে এসে পড়েছে, তা আরও গভীর, রাজ্যে আদৌ কে বেকার, সেই তথ্য সরকারের কাছে আছে তো?
এক সময় এই প্রশ্নের উত্তর মিলত এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে। বাম জমানায় অষ্টম শ্রেণি পাশ করা ১৮ থেকে ৪৫ বছরের শিক্ষিত বেকারদের নাম নথিভুক্ত থাকত সেখানে। জেলায় জেলায় অফিস ছিল, তালিকা ছিল, পরিসংখ্যান ছিল। সরকার চাইলে জানত, কতজন কাজহীন। পালাবদলের পরে সেই এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ কার্যত উঠে যায়। বদলে আসে অনলাইন এমপ্লয়মেন্ট ব্যাঙ্ক—একটি পোর্টাল, যেখানে নাম নথিভুক্ত করতে হয় নিজ উদ্যোগে। অফিস নেই, মাঠস্তরের যাচাই নেই। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এই ডিজিটাল তালিকাই কি রাজ্যের বেকারত্ব চিহ্নিত করার একমাত্র ভিত্তি?
যুবসাথী ঘোষণার পর থেকেই ওই পোর্টালে সার্চ বেড়েছে ঠিকই। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনলাইন নথিভুক্তি আর বাস্তব বেকারত্ব এক জিনিস নয়। কে সত্যিই কাজহীন, কে অস্থায়ী কাজে যুক্ত, কে আয় করছে অথচ নথিতে ‘বেকার’—এই বিভাজন করার কোনও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাই আর নেই। সেই ফাঁক দিয়েই কি ভাতা রাজনীতির রাস্তা প্রশস্ত হচ্ছে?
তৃণমূল অবশ্য সে অভিযোগ মানতে নারাজ। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের বক্তব্য, প্রকল্পের বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ পেলেই সব স্পষ্ট হবে। বিরোধীদের ‘ভাঁওতা’ কটাক্ষ উড়িয়ে দিয়ে তিনি মনে করান, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকেও একসময় ভিক্ষা বলা হয়েছিল, অথচ আজ বিরোধীরাও সেই প্রকল্প নকল করছে। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা ঘোষণা করেন, তা বাস্তবায়নের দায়ও নেন।
কিন্তু বাম শিবির প্রশ্ন তুলছে অন্য জায়গায়। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর মতে, কর্মসংস্থান নয়, ভোটই এই প্রকল্পের লক্ষ্য। তিনি মনে করান, ২০১৩ সালে রাজ্যের যুবশ্রী প্রকল্পেও একই রকম ভাতার কথা সরকার ঘোষণা করেছিল. তবে এই প্রকল্পে আদৌ কেউ সুবিধা পেয়েছেন কিনা তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বলতে পারবেন! তাঁর অভিযোগ, এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ তুলে দিয়ে অনলাইন ব্যবস্থায় যাওয়ার মূল উদ্দেশ্যই রাজ্যের প্রকৃত বেকারত্ব আড়াল করা। ফলে সরকার নিজের সুবিধেমতো সংখ্যাই সামনে আনতে পারে।
বিজেপির বক্তব্যেও একই সুর, যদিও ভাষা আরও তীক্ষ্ণ। যুবসাথীকে যুবশ্রীর নতুন মোড়ক বলে আখ্যা দিয়ে বিজেপির অন্যতম মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারের অভিযোগ, চাকরি চুরি থেকে উন্নয়নের অর্থ চুরি-এই সরকারের আমলে চুরির তালিকা দীর্ঘ। তাই উন্নয়নের প্রশ্ন এড়িয়ে ভাতা দিয়ে যুব সমাজকে ‘অক্ষম’ করে তোলা হচ্ছে। কাজের সুযোগই আসল, ভাতা নয়, এই যুক্তিতেই তারা ভোটের ময়দানে নামতে চলেছে বলেও জানান তিনি।
সব মিলিয়ে যুবসাথী প্রকল্প রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এনে দিয়েছে এক পুরনো অথচ অনুত্তরিত প্রশ্ন—বাংলায় আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা আছে, কিন্তু বেকারত্ব চিহ্নিত করার সেই পুরনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো কোথায়? সেই উত্তর না মিললে ভাতা ঘোষণার ঝলকানি কতটা বাস্তব, আর কতটা ভোটের আলো, তা নিয়ে সংশয় থাকছেই।
ভোটার হলেন লক্ষ্মী। তাই ভোটারের ঘরের ভাণ্ডার ভরে রাখলেই মুঠোয় আসবে ভোট। তাতে সরকারের আর্থিক
যেন না যায়। আর সেকারণেই ভারতের রাজনীতিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকল্পের পর দেশের একের পর এক রাজ্যে শুরু হয়েছে মহিলাদের সরাসরি নগদ ভাতা দেওয়ার হিড়িক।
বিহারে বিধানসভা ভোটের মুখে বিজেপি নেতৃত্বাধীন নীতীশ কুমার সরকার মহিলা স্বরোজগারের উদ্দেশ্যে সরাসরি অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা দেন। যাকে চ্যালেঞ্জ করে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে আর্জি দাখিল করেছেন জনসুরজ পার্টির নেতা প্রশান্ত কিশোর।
শুধু এই কয়েকটিই নয়, মহারাষ্ট্রে লাডলি বহেনা , ওড়িশায় সুভদ্রা যোজনা , দিল্লিতে মহিলা সমৃদ্ধি, সর্বত্রই ভোটের আগে মহিলাদের হাতে টাকা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
মমতা এবার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে টাকা বাড়িয়ে দেড় হাজার করে দেবেন বলেছেন। অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছেন, ক্ষমতায় এলে বিজেপি সরকার দেবে ৩ হাজার টাকা করে। এই ভাবে চড়চড় করে বাড়ছে খয়রাতির রাজনীতির প্রতিযোগিতা। আর চাপ বাড়ছে সরকারি কোষাগারের উপর। বর্ধিত অর্থের জন্য রাজ্য বাজেটে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মোট বরাদ্দ আরও ১৫ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ থেকেই এই বরাদ্দ কার্যকর হবে।
খয়রাতির রাজনীতির রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস:
খয়রাতি বলতে সাধারণত এমন সরকারি সুবিধা বা প্রতিশ্রুতিকে বোঝানো হয়, যা স্বল্পমেয়াদি , জনপ্রিয়তামুখী এবং যার পিছনে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক বা উন্নয়নমূলক দৃষ্টিভঙ্গি থাকে না। এগুলি মূলত ভোটারদের তাৎক্ষণিক ‘প্রলুব্ধ’ করার উদ্দেশ্যে ঘোষণা করা হয়।
খয়রাতি বা ভাতা প্রদান ও প্রকৃত কল্যাণমূলক প্রকল্প-এর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। কল্যাণমূলক প্রকল্প সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি -এর সঙ্গে যুক্ত। যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা ইত্যাদি ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। অন্যদিকে, ভাতা হল সাধারণত এমন সুবিধা, যা উৎপাদনশীলতা বাড়ায় না, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে না এবং ভবিষ্যতে আর্থিক চাপ বাড়াতে পারে।
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়াএই ধরনের ঘোষণাকে সংজ্ঞায়িত করেছে:
“A public welfare measure that is provided free of charge”— অর্থাৎ এমন জনকল্যাণমূলক সুবিধা যা বিনামূল্যে দেওয়া হয়। তবে RBI একই সঙ্গে খয়রাতি ও দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণমূলক প্রকল্পের মধ্যে পার্থক্য টেনেছে। RBI-র মতে, সব বিনামূল্যের সুবিধাই প্রকৃত কল্যাণমূলক প্রকল্প নয়। ভারতের নির্বাচন কমিশন এখনও সরকারি অর্থ বিলিবণ্টনের কোনও আইনি ও নির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেয়নি। ফলে রাজনৈতিক ঘোষণাগুলির উপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণের অভাব থেকেই যাচ্ছে।
তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কে কামরাজ প্রথম অবৈতনিক শিক্ষা ও স্কুলে বিনামূল্যে মিড-ডে মিল চালু করেন (1954-1963)। উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার প্রসার ও শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা। ডিএমকের (DMK) প্রতিষ্ঠাতা সি এন আন্নাদুরাই নির্বাচনী প্রচারে (1967) ১ টাকায় ৪.৫ কেজি চাল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এটি ছিল রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে খয়রাতির বড় ব্যবহার। ২০০৬ সালে ডিএমকে সরকার রাজ্যের ভোটে ভোটারদের রঙিন টিভি দেওয়ার ঘোষণা করেছিল। এখান থেকেই ভোটব্যাঙ্ক কেনার রাজনীতি নতুন মাত্রা পায়।
এরপর থেকে শুরু হয় রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা। এক দল খয়রাতির সুবিধা দিলে, অন্য দল তার চেয়েও বেশি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। গ্যাসের চুল্লি, নগদ টাকা, জমি, স্মার্টফোন, সাইকেল, মাতৃত্ব ভাতা— এই সবই ধীরে ধীরে নির্বাচনী অস্ত্র হয়ে ওঠে। এই প্রতিযোগিতামূলক খয়রাতির সংস্কৃতিকে অনেক অর্থনীতিবিদ “Race to the bottom” বলেছেন, যেখানে ভোট জেতার লড়াইয়ে রাজ্যের আর্থিক স্থিতি সবচেয়ে বড় ঝুঁকির মুখে পড়ে। এবার প্রশ্ন উঠছে, এই ধারাই কি ধীরে ধীরে বেকার ভাতার দিকে এগোচ্ছে?
রাজ্যে রাজ্যে কি ভাতা-র রাজনীতি দেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির মুখে ফেলছে?
পশ্চিমবঙ্গে লক্ষ্ণীর ভাণ্ডারের আওতায় গ্রামীণ মহিলারা মাসে ১,০০০ টাকা এবং শহরের মহিলারা ১,৫০০ টাকা পাচ্ছেন। আগামী নির্বাচনের মুখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, এই ভাতা আরও বাড়ানো হবে। অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি ৩,০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভাতার রাজনীতিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।
মহারাষ্ট্রে একনাথ শিন্ডে সরকারের লাডলি বহেনা প্রকল্পে মহিলাদের মাসে ১,৫০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। ওড়িশায় নবীন পট্টনায়েক সরকারের সুভদ্রা যোজনায় একইভাবে নগদ সহায়তা পৌঁছচ্ছে লক্ষ লক্ষ পরিবারে। দিল্লিতে অরবিন্দ কেজরিওয়াল মহিলা সমৃদ্ধি প্রকল্পে মহিলাদের জন্য বিশেষ ভাতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই ধারাবাহিক নগদ বণ্টন কি সত্যিই দারিদ্র্য দূরীকরণ, না কি ভোট কেনার কৌশল ? এই বছর কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সমীক্ষা (Economic Survey 2025-26) স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছে এই ভাতা সংস্কৃতি নিয়ে। সমীক্ষার মতে, অতিরিক্ত খয়রাতি প্রকল্প রাজ্যের আর্থিক শৃঙ্খলা ভেঙে দিতে পারে। উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ না বাড়িয়ে শুধু ভাতা দিলে কর্মসংস্থান হবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যগুলির ঋণের বোঝা বাড়বে।
সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে, সরাসরি নগদ সহায়তা স্বল্পমেয়াদে জনপ্রিয় হলেও, এতে মানুষ কাজের বদলে ভাতার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে। ফলে শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।অর্থনীতিবিদদের একাংশ বলছেন, সামাজিক সুরক্ষা জরুরি হলেও তা যদি দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত না হয়, তবে এই ভাতা প্রকল্প ভবিষ্যতে আর্থিক ফাঁদ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সম্প্রতি ভারতের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, রাষ্ট্র যখন জনকল্যাণ বা সমাজগত উন্নয়ন-ভিত্তিক ব্যয়ে অর্থ বরাদ্দ করে, সেটা বৈধ। কিন্তু, নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে ভোটমুখী খয়রাতিতে অযৌক্তিকভাবে সরকারি তহবিল ব্যবহার করা হলে তা অর্থনৈতিক ও সংবিধানগত দিক থেকে একটি গুরুতর বিষয় বিবেচনা করা হবে এবং সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিচারপতিরা বলেন, শুধুমাত্র ভোটের জন্য ভাতা বা সহায়তা দিতে গিয়ে কি ভবিষ্যতে রাজ্যের অর্থনীতি বা বাজেট দুর্বল হচ্ছে, তা বিচার করা গুরুত্বপূর্ণ।
আদালতে এক জনস্বার্থ মামলায় দাবি করা হয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের সময় বিভিন্ন ভাতা ও উপহার ঘোষণা করে জনগণের ভোট আদায় করছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বে বেঞ্চ বলেছে, খয়রাতি বা ভাতা এবং প্রকৃত জনকল্যাণ প্রকল্পের মধ্যে যুক্তিসঙ্গত পার্থক্য থাকা উচিত। আদালত স্মরণ করিয়েছে যে সঠিকভাবে জনকল্যাণ-ভিত্তিক ব্যয় যেমন শিক্ষা , স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ইত্যাদিতে বিনিয়োগ নাগরিকদের ক্ষমতায়ন করে। তেমনই শুধুমাত্র নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে নগদ বা বিনামূল্যে বণ্টন যদি তহবিলের উপর দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলে, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিচারপতিরা উল্লেখ করেছেন যে, রাষ্ট্রের সংবিধানভিত্তিক কর্তব্য হল জনকল্যাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা। কিন্তু একই সঙ্গে তহবিল ব্যবহারের দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা আর্থিক ভারসাম্য রক্ষায় জরুরি। আদালত এই বিষয়ে একটি বিশেষ বেঞ্চ বা বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের কথাও ভাবছে, যাতে সুস্পষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করা যায়। যেখানে কখন, কোন ব্যয় “জনকল্যাণ বিনিয়োগ” এবং কখন “খয়রাতি বা ভাতা” হিসেবে গণ্য হবে।
প্রচলিত রাজনৈতিক খরচ যেমন ইলেকট্রনিক ডিভাইস বিতরণ, নগদ ভাতা বা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কি সত্যিই দীর্ঘমেয়াদে জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হচ্ছে, নাকি তা সংশ্লিষ্ট দলের ভোটব্যাঙ্ক বাড়াচ্ছে, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার চেষ্টা এই সিদ্ধান্তে ফুটে উঠেছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার যে রাজনৈতিকভাবে সফল, তা নিয়ে বিতর্ক নেই। কিন্তু সেই মডেল যদি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, তবে কি ভারত ধীরে ধীরে ‘কল্যাণকর রাষ্ট্র’ থেকে ‘ভাতা নির্ভর রাষ্ট্রে’ পরিণত হবে? এই প্রশ্নই এখন রাজনীতির কেন্দ্রে।



