Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

আমেরিকার সঙ্গে ভারতের ‘মেগা বাণিজ্য ডিল’,‘মহিলা, যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান’,দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নিয়ে কী বার্তা মোদীর?

deshersamay

Share article:

ভারত এবং আমেরিকার অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো চূড়ান্ত হয়েছে। বিরোধীরা এই চুক্তি নিয়ে বিঁধেছেন কেন্দ্রীয় সরকারকে। সেই সময়ে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে।

আগামী পাঁচ বছরে আমেরিকা থেকে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কেনার পরিকল্পনা ঘোষণা করল ভারত। এনার্জি প্রোডাক্ট থেকে শুরু করে বিমান ও তার যন্ত্রাংশ, মূল্যবান ধাতু, উচ্চপ্রযুক্তি সামগ্রী এবং কোকিং কয়লা—বিস্তৃত এই কেনাকাটার তালিকা দুই দেশের সদ্য ঘোষিত যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে । কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভারত–আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশই বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর পরিকাঠামোর জন্য প্রয়োজনীয় গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট  এবং অন্যান্য উন্নত প্রযুক্তি পণ্যের বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ানো হবে। শুধু কেনাবেচা নয়, যৌথ প্রযুক্তি গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে।

‘অন্তর্বর্তী’ বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো নিয়ে শনিবার সকালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল একটি বিবৃতি দিয়ে এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেন। সেই পোস্ট রি-টুইট করে নরেন্দ্র মোদী লেখেন, ‘ভারত এবং আমেরিকার জন্য অত্যন্ত ভালো খবর। দুই দেশ অন্তর্বর্তিকালীন বাণিজ্য চুক্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট অবস্থানে আসতে পেরেছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতি ব্যক্তিগত অঙ্গীকারের জন্য আমি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানাই।’ এই চুক্তি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ পদক্ষেপকে আরও শক্ত করবে। দেশের কৃষক, উদ্যোগপতি, MSME, মৎস্যজীবী এবং আরও অনেকের জন্য সুযোগ তৈরি করবে। মহিলা এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করবে এই ডিল, দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

যদিও আমেরিকার ট্যারিফ নীতির পরে ফের একবার ট্রাম্প প্রশাসনের উপরে ভরসা করা নিয়ে কেন্দ্র সরকারকে তোপ দেগেছেন বিরোধীরা। ‘চাপের মুখে’ এই চুক্তি করছেন প্রধানমন্ত্রী, দাবি করা হয়েছে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল অবশ্য দাবি করেছেন, এই চুক্তি ভারতের জন্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ৩০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজার খুলে দেবে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে তাঁর সংযোজন, চুক্তিটিতে ভারত দুগ্ধ ও কৃষিক্ষেত্রে কোনও আপস করেনি। এই দু’টি ক্ষেত্র সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে।

অন্যদিকে ,জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকেও এই চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে দিল্লি। মার্কিন এলএনজি, অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য শক্তি পণ্য আমদানির মাধ্যমে ভারতের জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য আসবে। পাশাপাশি, বিমান ও বিমানযন্ত্রাংশ কেনার ফলে অসামরিক উড়ান শিল্পে আধুনিকীকরণ ত্বরান্বিত হবে বলে আশা।

ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও বড় বার্তা দিয়েছে এই সমঝোতা। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ডিজিটাল বাণিজ্যে বৈষম্যমূলক বা অতিরিক্ত বোঝা চাপানো নিয়ম এবং অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা দূর করতে একসঙ্গে কাজ করবে ভারত ও আমেরিকা। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির অঙ্গ হিসেবে শক্তিশালী, উচ্চাভিলাষী ও পারস্পরিক লাভজনক ডিজিটাল বাণিজ্য নীতির জন্য একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা শুধু বাণিজ্য ঘাটতি কমানো নয়, বরং প্রযুক্তি, জ্বালানি ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যেও এই ঘোষণাকে ভারত–আমেরিকা সম্পর্কের ‘নতুন অধ্যায়’ বলেই দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

Advertisement
Tags: News

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন