Poetryযশোর রোডের দুপাশে আমি তোমাদেরই মা ,সেই শিরীষ গাছ— আমাকে বাঁচাও : বনগাঁর মেয়ের লেখা কবিতা শুনুন

0
55
কলমে- মিলি দাস

কবিতাটি শুনুন ~

আমি তোমাদের সেই শিরীষ গাছ
আমার ইতিহাসের ইতিকথা এক প্রাচীন সাক্ষী—
আমার গায়ে কেউ সময় তারিখ লেখেনি,
কিন্তু প্রতিটি ক্ষত স্বমহিমায় জানে দীর্ঘ পথ ধরে বয়ে চলা ইতিহাস।

ভেবেছো আমি নীরব,
তোমাদের করাতের আঘাতে আমার রক্ত ঝরে না?
শোনো—
আমার শেকড়ে রক্ত নয়,
তোমাদেরই ভবিষ্যৎ বয়ে যায়।
তোমরা ভাবছো
আমাকে কেটে ফেলে
রাস্তা হবে পরিষ্কার ?
শহরে ঢুকবে আলো?
কিন্তু শোনো,
আমার শেকড়ে বাঁধা আছে মাটি,
আমার ছায়ায় বেঁচে আছে মানুষ,
আমার শিরায় বয়ে যায় পৃথিবীর শ্বাস, দুপুরের রোদে যারা মাথা লুকোয় আমার ছায়ায়
যাদের বুক ভেঙে আছড়ে পড়ত বন্ধ নিঃশ্বাস—
আমিই ছিলাম তাদের নিঃশব্দ আশ্রয়।

আমার পাতায় লুকিয়ে আছে তোমার প্রাণ,
আমার প্রতিটি ডালে ঝুলে থাকত
শেষ ভরসার স্বপ্ন।
আমি পড়িনি কোনো ধর্মগ্রন্থ,
তবু মানবতার পাঠ আমি প্রতিদিন পড়িয়েছি।

আজ তোমরা করাত ধরেছো?
সুপরিকল্পিতভাবে আইনের মারপ্যাঁচে শিকড় উপড়ে ফেলতে চাইছো?
তোমাদের ছায়ার মৃত্যু বৈধ করে তুলছো?
আমার কাণ্ড কাঁপছে ভয়ে!
তোমরা কি জানো না
মাকে কাটলে শহর বাঁচে না?

আমার ভীষন যন্ত্রনা
ভাবছি তোমাদের কথা
এই পৃথিবীর কথা
মানুষের ভবিষ্যতের কথা
তোমরা কি জানো না—
আমার সঙ্গে কেটে ফেলছো
আগামীর ছায়া,
আগামীর শ্বাস।
শুনতে পারছো ছায়াদের আর্তনাদ?

কাল যখন রোদ হবে তপ্ত আগুন,
উষ্ণ আকাশ নামবে বুকের ভেতর,
বিশুদ্ধ জল শুকিয়ে যাবে স্মৃতির পাতায়, ছায়াদের হবে মৃত্যু,
শহর জুড়ে ধুলো উড়বে,বিষাক্ত দূষণ বাড়বে,
তখন তোমরাই মানব সৃষ্ট সংকটের মুখে পড়বে।
তোমরা কি ভুলে যাচ্ছ বিপর্যয়ের ইতিহাস?

তোমরা কি জানো?
আমি ঝড় থামাই
আমি মাটি আঁকড়ে ধরি,
আমি থাকলে শহর একটু মানুষ হতে পারে।
শুনতে পারছো শেকড়ের কান্না?
চিনতে পারছো কি আমাকে?
আমি তোমাদেরই সেই চেনা শিরীষ গাছ, যার ছায়ায় দাঁড়িয়ে তোমরা একদিন নিজেদের মানুষ মনে করেছিলে।

নীরব প্রাণকে কেটে ফেলা সহজ বলে তোমরা আমাকেই বেছে নিয়েছো?
তোমরা কি জানো
করাতের আঘাতে আমাকে কেটে তোমরা পাবে কেবল
কংক্রিটের দীর্ঘশ্বাস?
যন্ত্রের নিষ্ঠুর নীরবতা?

আমি কি শহরের শত্রু যাকে উপড়ে ফেললেই মানুষ হবে সভ্য?
শোনো —
আগামীতে
সূর্য নামবে তোমাদের ঘরে,
জল হবে সোনা,
হাওয়া হবে ধারালো।
ছায়াশূন্য হবে দীর্ঘ শীতল পথ
সেদিন বুঝবে—
তোমরা কোন উন্নয়নের পথে চলেছ?
আইন কি কান পেতে কান্না শোনে না?
আইনের পাতায় কি লেখা নেই আগামীর শ্বাসের অধিকার?

শোনো,
আমি সেই বৃষ্টি দাতা শিরীষ গাছ
আমি অভিশাপ দিই না।
আমার শরীর বেয়ে নেমে আসে স্নিগ্ধ জল, আমার ডালে পাখিরা বাঁধে ঘর,
তাদের কি তোমরা উচ্ছেদের নোটিশ পাঠিয়েছো ?
এই শহরে আর তোমাদের জায়গা নেই!

এ কোনো উন্নয়ন নয়—
এ হল আত্মহত্যা।
সবুজ খুন করে
কেউ সভ্য হয় না।
তোমরা কি বুঝতে পারছ না….. মাটি কাঁদলে তোমরা কীভাবে বাঁচবে?
এখনো সময় আছে
করাত থামাও কান্নার আর্তনাদ শোনো
তোমরাই একদিন নিজেদের শিকড় খুঁজে পাবে না
এখনো সময় আছে
বাঁচাও তোমাদের ভবিষ্যত।

প্রকৃতি নাকি আধুনিকীকরণ
কি চাও তোমরা?
আমি তোমাদেরই মা
আমাকে বাঁচাও
আমি কাঁদছি ,
আমাকে বাঁচাও
আমি কাঁদছি ,
আমাকে বাঁচাও
আমি বাঁচতে চাই
আমি বাঁচতে চাই
আমি বাঁচতে চাই,
আমাকে বাঁচাও তোমরা।

#কলমে – মিলি দাস
#কন্ঠে – নিবেদিতা নাগ তহবিলদার

                   # আবহে – শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়

#মডেল ~ অর্পিতা বনিক
#ছবি তুলেছেন – পার্থ সারথি নন্দী
#নিবেদনে -©®দেশের সময়
Previous articleSIRশুনানিতে শশী পাঁজাকে তলব, ডাক পেলেন দেবাংশুও
Next articleProsenjit Chatterjee: বাংলার অভিনেতার মুকুটে সেরা পালক!  পদ্মশ্রী সম্মান পেলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here