Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

নজমুল ইস্যুতে নজিরবিহীন সঙ্কটে বাংলাদেশ ক্রিকেট , প্লেয়ারদের জেদের কাছে নতিস্বীকার BCB-র

deshersamay

Share article:
সুব্রত বক্সী , দেশের সময়

২০২৬ সালের ICC টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে ভারতের সঙ্গে চলতি বিরোধ এ বার ঘরোয়া ক্রিকেটেও প্রভাব ফেলেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (BCB) ফিনান্স কমিটির চেয়ারম্যান এম নাজ়মুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যে খেলোয়াড়রা এতটাই ক্ষুব্ধ হন যে তাঁরা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (BPL) সহ সব ধরনের ক্রিকেট বয়কটের হুমকি দেন। এরই জেরে বৃহস্পতিবারের BPL ম্যাচে খেলোয়াড়রা মাঠে নামেননি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় BCB শেষ পর্যন্ত বড় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে ফের অচলাবস্থা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড -এর ডিরেক্টর এম নজমুল ইসলাম -এর মন্তব্য ঘিরে তীব্র সংঘাতে মুখোমুখি বোর্ড ও ক্রিকেটাররা। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, নজমুল ইসলাম পদ না ছাড়লে সব ধরনের প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সকলে। ইতিমধ্যেই নজমুলকে শো-কজ নোটিস পাঠিয়েছে বোর্ড।

এই টানাপড়েনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে মাঠে। বৃহস্পতিবার মীরপুরে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ -এর ম্যাচ ছিল। সেখানে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। নোয়াখালি এক্সপ্রেস বনাম চট্টগ্রাম রয়্যালস ম্যাচে টসই হল না সময়মতো। ক্রিকেটারদের নেতৃত্বে চলা প্রতিবাদের অংশ হিসেবে দুই দলই দেরিতে মাঠে পৌঁছয়। রেফারি শিপার আহমেদ  এক ভারতের এক বেসরকারি সংবাদসংস্থাকে জানান, নির্ধারিত সময় দুপুর ১২টা (ভারতীয় সময়) পেরিয়ে গেলেও দুই অধিনায়ক মাঠে না আসায় তিনি মাঝমাঠে একাই দাঁড়িয়ে ছিলেন।

এই ঘটনার আগে একই দিনে ঢাকা ক্রিকেট লিগের  একাধিক ম্যাচ বাতিল হয়ে যায়। কারণ, বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের  হুঁশিয়ারি-দাবি মানা না হলে দেশজুড়ে ঘরোয়া ক্রিকেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। সংগঠনের সভাপতি তথা বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি সিলেট স্ট্যালিয়ন্সের  অধিনায়ক মহম্মদ মিঠুন  স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন- নজমুল ইসলামের পদত্যাগ ছাড়া কোনও আপস নয়।

বোর্ডের তরফে অবশ্য দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে বিসিবি (BCB) জানায়, বোর্ডের এক সদস্যের ‘আপত্তিকর মন্তব্যে’ তারা দুঃখিত এবং বিষয়টি নিয়ে শৃঙ্খলামূলক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, নজমুল ইসলামকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এই বিতর্কের সূত্রপাত নজমুল ইসলামের একাধিক মন্তব্য থেকে। বাংলাদেশের ভারত সফর বাতিল হলে ক্রিকেটারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি দাবি করেন, ক্রিকেটাররা নাকি বোর্ডের সমর্থনের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেননি। পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়, যখন প্রাক্তন অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ করেন নজমুল। তামিম সংযমের ডাক দিয়েছিলেন, তার পরই এই মন্তব্য আসে, যা সিডব্লিউএবি  ‘চরম নিন্দনীয়’ বলে ঘোষণা করে।

পুরো বিতর্কের পটভূমিতে রয়েছে আন্তর্জাতিক চাপও। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে আগামী মাসের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ -এর জন্য ভারত সফরে যেতে চায় না বাংলাদেশ। এই সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল -এর সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে আইসিসি এখনও পর্যন্ত ভারতের বদলে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরানোর বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ দেখায়নি।

এরই মধ্যে আরও ধাক্কা, বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে  ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ থেকে সরিয়ে দিয়েছে বিসিসিআই (BCCI)। বোর্ডের তরফে কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, চারপাশে চলা ‘বিভিন্ন পরিস্থিতির’ কথা। তাতে উদ্বেগ বেড়েছে সিনিয়র ক্রিকেটারদের মধ্যে।

সব মিলিয়ে বিসিবির সংবিধানই এখন বড় বাধা। বোর্ড সূত্রের দাবি, কোনও ডিরেক্টরকে জোর করে সরানো প্রায় অসম্ভব-স্বেচ্ছায় ইস্তফা না দিলে আইনি জটিলতা তৈরি হবে। এই ‘সংবিধানিক জট’ কাটানো না গেলে দ্রুত সমাধান মিলবে না বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের। আর সিডব্লিউএবি পরিষ্কার—নজমুল ইসলামের সম্পূর্ণ পদত্যাগ ছাড়া সমঝোতার প্রশ্নই নেই।

Advertisement
Tags: News

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন