

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা না হলেও বাংলায় রাজনীতির পারদ চড়ছে। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে কমিশনের পাশাপাশি বিজেপিকে নিশানা করছে তৃণমূল। রাজ্যের শাসকদলের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষ যে হয়রানির শিকার হচ্ছেন, ব্যালট বক্সে তাঁর জবাব দেবেন ভোটাররা। অন্যদিকে, বিজেপির দাবি, রোহিঙ্গা, অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ দিতেই এসআইআর প্রক্রিয়া হচ্ছে। তাই ভয় পাচ্ছে তৃণমূল। রাজনৈতিক এই চাপানউতোরের মধ্যে বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

সূত্রের খবর, জানুয়ারির মধ্যেই রাজ্যে জোড়া কর্মসূচি করতে পারেন তিনি । উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে পৃথক দু’টি জনসভা করার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই সেই সফর ঘিরে বিজেপির অন্দরে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

চলতি বছরেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। ফলে বছরের শুরু থেকেই রাজ্যের রাজনীতিতে বাড়ছে উত্তাপ। একদিকে রাজ্যজুড়ে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস প্রচারের গতি বাড়িয়েছে, অন্যদিকে পিছিয়ে নেই বিজেপিও। দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বকে সামনে এনে প্রচারের ঝাঁঝ বাড়াতে চাইছে গেরুয়া শিবির। সেই কৌশলেরই অঙ্গ হিসেবে জানুয়ারিতে ফের বাংলায় পা রাখতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।

দলীয় সূত্রের দাবি, আগামী ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে সভা করতে পারেন মোদী। ১৭ জানুয়ারি মালদহে এবং ১৮ জানুয়ারি দক্ষিণবঙ্গের হাওড়ায় জনসভা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এই সফরসূচি নিয়ে এখনও পর্যন্ত দলের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।

এর আগে গত ২০ ডিসেম্বর কৃষ্ণনগরের তাহেরপুরে প্রধানমন্ত্রীর সভা করার কথা ছিল। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে সেখানে তাঁর হেলিকপ্টার নামতে পারেনি। ফলে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ভাষণ দিতে হয় তাঁকে। সে দিনই সুযোগ পেলে সরাসরি তাহেরপুরে গিয়ে মানুষের সঙ্গে দেখা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মোদী। সেই কারণে মালদহ ও হাওড়ার পাশাপাশি কৃষ্ণনগরেও প্রধানমন্ত্রীর সভা হতে পারে কি না, তা নিয়েও জল্পনা চলছে রাজনৈতিক মহলে।

এদিকে, নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠে নেমে পড়েছে শাসক শিবিরও। রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তৃণমূলের ‘আবার জিতবে বাংলা’ কর্মসূচি। গোটা মাস ধরে জেলায় জেলায় জনসংযোগে ব্যস্ত দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে সভার মাধ্যমে জেলা সফর শুরু করছেন তিনি।

অন্যদিকে, শুক্রবার মালদহের চাঁচলে সভা করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি, অমিত শাহের বার্তার পর শুক্রবার সল্টলেকের বিজেপি দফতরে দলের কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সব মিলিয়ে, বছরের শুরুতেই বাংলার রাজনীতিতে নির্বাচনী লড়াইয়ের আবহ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।



