বিশ্ব রাজনীতিতে যখন যুদ্ধ আর পরমাণু উত্তেজনার আবহ তীব্র, তখন আবারও শিরোনামে উঠে এল এক মারাত্মক অস্ত্র—বাঙ্কার বাস্টার বোমা। সম্প্রতি ইরানের ফোর্দো পারমাণবিক কেন্দ্রে মার্কিন হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে এই বোমা। যা আসলে হল ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর, যাকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নন-নিউক্লিয়ার বোমা বলা হয়।
কী এই বাঙ্কার বাস্টার বোমা ?
‘বাঙ্কার বাস্টার’ বলতে বোঝানো হয় এমন একটি বিশেষ ধরনের বোমাকে, যা ভূগর্ভস্থ বা অত্যন্ত সুরক্ষিত ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় এবং মাটি বা কংক্রিটের বহু স্তর ভেদ করে ভিতরে ঢুকে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। সাধারণ বোমা যেখানে ভূপৃষ্ঠে বিস্ফোরণ ঘটায়, সেখানে বাঙ্কার বাস্টার ভিতরে প্রবেশ করে শত্রুর গোপন ঘাঁটি ধ্বংস করে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের MOP: ‘সবচেয়ে বিধ্বংসী’
যুক্তরাষ্ট্রের GBU-57 MOP হল এই ধরনের বোমার অন্যতম উদাহরণ। এর ওজন: প্রায় ৩০,০০০ পাউন্ড। মূল বিস্ফোরকের ওজন প্রায় ৫,৩০০ পাউন্ড। ২০০ ফুট পর্যন্ত কংক্রিট ভেদ করে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। কেবল B-2 স্টেলথ বোমারু বিমান এই বিশাল বোমা বহন করতে সক্ষম। শনিবার ইরানের ফোর্দো ও ইসফাহান সহ তিনটি ঘাঁটিতে হামলায় এগুলো ব্যবহার করা হয়েছে। ছ’টি বাঙ্কার বাস্টার বোমা ফেলা হয়েছে ইরানের ফোর্দো হাঁটিতে। এছাড়াও, টমাহক মিসাইল দিয়ে হামলা হয়েছে ইসফাহান ও নাতাঞ্জে।
কার কার আছে রয়েছে বাঙ্কার বাস্টার বা এই মারাত্মক অস্ত্র?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছেই সবচেয়ে শক্তিশালী এই ধরনের বোমা রয়েছে। রাশিয়াও KAB-1500L-Pr নামে এ ধরনের বোমা তৈরি করেছে। তবে সে সবের ক্ষমতা কিছুটা কম। চিনের এই গোত্রের বোমাও মার্কিন বোমার সমতুল নয়। ইসরায়েল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে GBU-28 নামে বোমা কিনেছে। তবে সেগুলি ঝারি গভীর বাঙ্কারে আঘাত হানতে সক্ষম।
ভারতের কী অবস্থা?
ভারতের কাছে MOP-এর মতো আল্ট্রা বাঙ্কার বাস্টার নেই। তবে ডিআরডিও (DRDO) স্মার্ট বোমা এবং ‘স’ (SAAW) তৈরি করেছে, যা নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারে, তবে শক্তিশালী বাঙ্কার ভাঙতে সক্ষম নয়। ভবিষ্যতে সুখোই (Su-30MKI) বা রাফালে (Rafale) ব্যবহারের উপযোগী ভারী বোমা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমান বিশ্বে বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি এবং পরমাণু গবেষণাগার ভূগর্ভস্থ বা পাহাড়ের নিচে নির্মিত। সাধারণ বোমা বা মিসাইল সেগুলিকে ধ্বংস করতে পারে না। এই কারণেই বাঙ্কার বাস্টার অস্ত্রগুলো হয়ে উঠেছে আধুনিক যুদ্ধের অদৃশ্য নায়ক।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কেবল আকাশ দখল করলেই হয় না, শত্রুর গোপন বাঙ্কার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও প্রয়োজন। বাঙ্কার বাস্টার বোমা সেই প্রযুক্তিরই প্রতীক। এই অস্ত্রে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র। ভারতও যে ভবিষ্যতে এই দিকটিকে গুরুত্ব দেবে, তা নিশ্চিত। যুদ্ধ হোক না হোক—প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি যেন সবসময় সম্পূর্ণ থাকে, সেটাই বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ।



