Cluster Bomb: সংঘর্ষে এই প্রথম ব্যবহার হলো ক্লাস্টার বোমা , এই বোমা কতটা ভয়ঙ্কর জানেন?কোন পথে ইরান- ইজ়রায়েল সংঘাত?
deshersamay
ইরান-ইজরায়েলের সংঘাত বেড়েই চলেছে দিনে দিনে। প্রতিদিনই ইরান ও ইজরায়েল একে অপরের উপরে মিসাইল দিয়ে হামলা চালাচ্ছে। দেখা মিলছে অত্যাধুনিক সব মিসাইলের, যা এতদিন আস্তিনে লুকিয়ে রাখা ছিল। বৃহস্পতিবার ইজরায়েলের উপরে এমন এক মিসাইল দিয়ে হামলা চালিয়েছে ইরান, যা দেখে গোটা বিশ্ব ভীত। শোনা যাচ্ছে, ক্লাস্টার বোমা ছুড়েছে ইরান।
সংঘর্ষ বিরতির কোনও লক্ষণই নেই। উল্টে বেড়েই চলেছে মিসাইল হামলা। ইরান-ইজ়রায়েল সংঘর্ষের অষ্টম দিনে ক্ষেপণাস্ত্রে ক্লাস্টার বোমা ভরে ইজ়রায়েলে নিক্ষেপ করেছে ইরান। চলতি সংঘাতে প্রথম এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করল তেহরান।
অন্যদিকে, বৃহস্পিতবার ইজ়রায়েলের হাসপাতালে হামলা চালানোর জন্য ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। দুই দেশের সংঘর্ষে শুরু থেকেই নাক গলিয়েছে আমেরিকা। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ইরানে হামলা করা হবে কি না সেই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
এই মিসাইল কতটা ভয়ঙ্কর জানেন?
ইজ়রায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ক্লাস্টার মিসাইলের ওয়ারহেডটি প্রায় ৪ মাইল (৭ কিমি) উচ্চতায় বিভক্ত হয়ে মধ্য ইজ়রায়েলের প্রায় ৫ মাইল (৮ কিমি) ব্যাসার্ধে প্রায় ২০টি জায়গায় ক্ষতি করেছে। ক্লাস্টার বোমা মিসাইলের ক্ষতিকারক দিক হলো, এর ছোট মিউনিশনগুলি নির্দিষ্ট জায়গায় পড়ে প্রথমে না ফাটলেও বেশ কিছুটা সময়ের পরেও ফেটে জায়গাটি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
ইজরাায়েলের ডিফেন্স ফোর্সও স্বীকার করে নিয়েছে যে ইরান থেকে ছোড়া অন্তত একটি ক্লাস্টার বোমার অংশ পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ ইরান এই অত্যাধুনিক মিসাইল ছুড়েছে ইজরায়েলে ধ্বংসলীলা চালাতে। এই মিসাইল বিপুল প্রাণহানি করতে সক্ষম। কীভাবে তৈরি হয়, কী কাজ, জানুন-
ক্লাস্টার বম্ব-
ক্লাস্টার বম্ব হল এক ধরনের অস্ত্র যা একবার বিস্ফোরণের বদলে টুকরো টুকরো হয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছোট ছোট বোমার মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটায়।
মাঝ আকাশে এই মিসাইল বা বম্ব ফুলের পাপড়ির মতো খুলে যায় এবং টার্গেট এলাকায় পরপর, একাধিক বিস্ফোরণ ঘটায়।
মধ্য ইজরায়েল লক্ষ্য করে ইরান যে ক্লাস্টার বোমা ছুড়েছে, তা ভূপৃষ্ঠ থেকে ৭ কিলোমিটার উচ্চতায় ডিটোনেট হয়। ৮ কিলোমিটার সীমানা জুড়ে এই বোমা বিস্ফোরণ হয়। মাটিতে আছড়ে পড়তেই বিস্ফোরণ হয়।
কেন এক বিতর্ক?
এই বোমার ক্ষেত্রে সবথেকে ভয়ের বিষয় হল, একসঙ্গে একাধিক বোমা ছররার মতো ছড়িয়ে পড়ে। মাটিতে পড়ার পর কিছু বোমায় বিস্ফোরণ হয়, কিছু বোমা ফাটে না। তবে এগুলি অ্যাকটিভ বা সক্রিয়ই থেকে যায়। সাধারণ মানুষ যদি ভুলবশত এর সামনে চলে যান বা স্পর্শ করেন, তবে বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয়ে যেতে পারেন। ভিড় বা ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই বোমা আছড়ে পড়লে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তবে ইজরায়েলে কত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা প্রাণহানি হয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি।
এই ধরনের বোমা নিষিদ্ধ। ২০০৮ সালের কনভেনশন অন ক্লাস্টার মুনিশন, আন্তর্জাতিক চুক্তির অধীনে এই বোমা নিষিদ্ধ করা হয়। ১১১টি দেশ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। তবে ইরান, ইজরায়েল,রাশিয়া ও আমেরিকার মতো দেশ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। ইউক্রেনও অভিযোগ করেছিল, রাশিয়া এই বোমা দিয়ে আক্রমণ করেছিল।
অন্যদিকে, ইরানের রাজধানী তেহরানে মুহুর্মুহু হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েল। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সরঞ্জাম তৈরির কারখানা, ইরানের পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে বৃহস্পতিবার রাতভর হামলা চালানো হয়েছে।
President Trump will decide on whether the US will get involved in the Israel-Iran air war within two weeks, White House said https://t.co/76F14sLto3 pic.twitter.com/U6bFEXEtnD
— Reuters (@Reuters) June 19, 2025
ইজ়রায়েল এয়ার ফোর্সের ৬০টি ফাইটার জেট ইরানের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এর মধ্যে ইরানের Organization of Defensive Innovation and Research-এর উপর জোরালো আঘাত করা হয়েছে বলে খবর।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবেন এই সংঘর্ষে ইজ়রায়েলকে সমর্থনের ব্যাপারে। ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে বেশ কয়েকবার ফোনে কথাও বলেন জানা গিয়েছে।
আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ফক্সের খবর অনুযায়ী, পাঁচটি বোয়িং ৭৪৭ বিমান চিন থেকে উড়ে কাজ়াকিস্তানের দিকে যায়। সেখান থেকে দোকগিন দিকে ব্যাঙ্ক নিয়ে উজ়বেকিস্তান এবং তুর্কমেনিস্তান পৌঁছয়। উড়ানগুলির অভিমুখ ইরানের দিকেই ছিল। যদিও এর পর থেকে বিমানগুলির লোকেশন ট্র্যাক করা যায়নি। তা হলে কি এই সংঘর্ষে ইরানকে যুদ্ধ বিমান দিয়ে সাহায্য করছে বেজিং? ইরানের পাশে রয়েছে চিন? শুরু হয়েছে জল্পনা।
