Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

Mamata Banerjee মুর্শিদাবাদের দাঙ্গা পরিকল্পিত , শাহকে সামলাতে মোদীকে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

deshersamay

Share article:
হীয়া রায় দেশের সময়

নেতাজি ইন্ডোরে ইমামদের সভা থেকে স্পষ্ট বার্তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মুর্শিদাবাদে দাঙ্গা পরিস্থিতির জন্য সরাসরি বিজেপি তথা কেন্দ্রের সরকারকে দায়ী করলেন মুখ্যমন্ত্রী । তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, মুর্শিদাবাদে সম্প্রতি যে ধর্মীয় অসন্তোষ ও অশান্তির ঘটনা ঘটেছে তা পরিকল্পিত ঘটনা। ‘প্ল্যান করে’ এই অশান্তি পাকানো হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে লোক ঢুকতে দিয়েছে বিএসএফ। বাইরে থেকে লোক এনেছে বিজেপি। তারাই অশান্তির আগুন জ্বেলেছে। 

বিজেপিকে আক্রমণ করে এদিন মমতা বলেন, ‘আপনাদের প্ল্যান কী? বাইরে থেকে লোক নিয়ে এসে অশান্তি করা? বলছে, এটাতে বাংলাদেশের হাত আছে। যদি তাই হয়, তা হলে সীমান্ত বিএসএফ সামলায়, রাজ্য নয়। আপনারা কেন ঢুকতে দিলেন? আমাকে বলতে হচ্ছে এটা পূর্ব পরিকল্পিত অশান্তি।’ পরে যদিও বিএসএফ-এর বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ তুলে তদন্তের নির্দেশও দিয়েছেন মমতা।

পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের অশান্তির ঘটনায় নিহত তিন জনের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাঁদের বাড়ি ভেঙে গিয়েছে, তাঁদের বাংলার বাড়ি প্রকল্প ঘর নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি।

পাশাপাশি, সংশোধিত ওয়াকফ আইন নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের আর্জি জানান তিনি। প্রয়োজনে রাস্তায় না করে বদ্ধ জায়গায় প্রতিবাদ কর্মসূচি করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ইমাম-মোয়াজ্জেমদের মমতা জানান, প্রয়োজন দিল্লিতে গিয়ে প্রতিবাদ করা হোক। এর পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে সময় তাঁদের কাছেও নিজেদের বার্তা তুলে ধরা যেতে পারে।

বুধবার নেতাজি ইনডোরে ইমাম-মোয়াজ্জেম-বুদ্ধিজীবিদের সভায় আমন্ত্রিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যেখানে গণ্ডগোল ঘটেছে তা মুর্শিদাবাদ লোকসভার মধ্যে পড়ে না। মালদহ লোকসভার মধ্যে পড়ে। ওখানে কংগ্রেস জিতেছে। ভোটের সময়ে জিতবে আর গন্ডগোল লাগলে সামলাতে পারবে না, এতো আশা করা যায় না।

সরাসরি বিজেপি ও কেন্দ্রের সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনি বাংলাদেশের পরিস্থিতি জানেন না। আপনাদের প্ল্যানিংটা কী? আপনি ইউনুসের সঙ্গে গোপন বৈঠক করুন। তাতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে লোক ঢুকবে কেন?” মমতার কথায়, “সীমান্ত দেখে বিএসএফ। রাজ্য সরকারের কাছে সীমান্ত সামলানোর অধিকার নেই। কে ঢুকছে কে বেরোচ্ছে রাজ্য সরকার জানতে পারে না”। 

মমতা বলেন, ‘আগামী এক বছর ধৈর্য ধরতে হবে। এর পর অনেক পরিবর্তন হবে দিল্লিতে। আবার নতুন সরকার হবে। যে দিন বিজেপি ক্ষমতা থেকে চলে যাবে, যে আইন জনবিরোধী করেছে, সেই আইন বদলাতে হবে। যদি সঙ্কট হয়, আপনাদের অপেক্ষা করতে হবে।’

কী ভাবে মুর্শিদাবাদে অশান্তি ছড়ানো হলো, সে সম্পর্কে বড় দাবি করেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিজেপি কেন বাইরের লোক এনে এখানে গন্ডগোল পাকাবে? কেন এজেন্সির মাধ্যমে অশান্তি লাগাবে? আমি জেনেছি, বাচ্চা ছেলেদের হাতে পাঁচ ছ’হাজার টাকা দিয়ে ইট ছোড়াচ্ছে।’ সীমান্ত দিয়ে লোক ঢোকানো নিয়ে কাঠগড়ায় তোলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনি বাংলার ধর্মীয় মেরুকরণ ঘটাতে চান, হিন্দু মুসলমানের মধ্যে ভাগাভাগি করতে চান। আপনার জুমলা সরকার খালি বলে আমরা শুধু হিন্দুদের জন্য। এই কারণেই দেশে অশান্তি। এভাবে চললে তো দেশটা ভাগ হয়ে যাবে। জোড়ার চেষ্টা করুন। ভাঙবেন না”।

এদিন ইমাম মোয়াজ্জেমদের সভায় সংখ্যালঘুদের একাংশের উদ্দেশেও কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ওয়াকফ আইন তো রাজ্যের সরকার সংশোধন করেনি। দিল্লি করেছে। আমরা তো প্রতিবাদ করেছি। সবচেয়ে বেশি প্রতিবাদ করেছি। সুপ্রিম কোর্টে মামলাও করেছি। আপনাদের এত তাড়া কীসের। ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ডিনার কি একসঙ্গে করা যায়! 
তাঁর কথায়, “আপনারা দিল্লিতে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রীবর সঙ্গে দেখা করুন। তৃণমূলের সাংসদরাও আপনাদের সঙ্গে যাবেন”।

তবে মুখ্যমন্ত্রীর এদিন মূল নিশানা ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,

“স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক কালীদাসের মতো হয়ে গেছে। যে ডালে বসে আছে, সেই ডাল কাটছে। আপনার এত তাড়া কীসের!” অমিত শাহকে আরও কটাক্ষ করে মমতা বলেন, “ আপনি তো প্রাইম মিনিস্টার কখনও হবে না। মোদী জি চলে গেলে কী হবে? আপনাকে তো হামাগুড়ি দিতে হবে। মোদীজিকে বলব ওনাকে একটু কন্ট্রোল করতে। সমস্ত এজেন্সিকে দিয়ে দিয়েছেন ওনার হাতে। মুর্শিদাবাদে যা ঘটেছে তা পুরোটাই পরিকল্পিত”।

Advertisement
Tags: featuredNews

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন