Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

Leadership Institute ভবিষ্যতের নেতা গড়বে স্কুল! নরেন্দ্র মোদীর নিজস্ব পরিকল্পনার এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সমর্থন শিল্পপতিদের

deshersamay

Share article:
হীয়া রায় , দেশের সময়

বড় বাজেটের নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বা  ‘স্কুল অব আলটিমেট লিডারশিপ’  প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে গুজরাতে। রাজনীতি, সমাজনীতি ও জননীতি নিয়ে ভবিষ্যৎ নেতাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে সেখানে। এটিই বেসরকারি ভাবে পরিচালিত দেশের প্রথম নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠান হতে চলেছে। জানা গেছে, এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিজস্ব পরিকল্পনার ফসল।

এই প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন ভারতের প্রাক্তন অর্থসচিব হসমুখ আধিয়া। Former finance secretary Hashmukh Adhia has been appointed the chairman of the executive committee of School of Ultimate Leadership (SOUL).

তিনি বর্তমানে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেলের প্রধান উপদেষ্টা। আগামীকাল, শুক্রবার, নয়াদিল্লিতে SOUL নেতৃত্ব সম্মেলন-এর উদ্বোধন পর্বে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিষ্ঠানের ঘোষণা করবেন। ২০২৭ সালের মার্চ থেকে প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করবে বলে জানা গেছে।

বিশিষ্ট শিল্পপতিদের সমর্থন
SOUL-এর মূল সমর্থকদে মধ্যে রয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ছয় শিল্পপতি।
সুধীর মেহতা
– চেয়ারম্যান এমেরিটাস, টরেন্ট গ্রুপ
দীপক পারেখ
– প্রাক্তন চেয়ারম্যান, এইচডিএফসি
দিলীপ সাংভি
– ম্যানেজিং ডিরেক্টর, সান ফার্মাসিউটিক্যালস
পঙ্কজ প্যাটেল
– চেয়ারম্যান, জায়ডাস লাইফ সায়েন্সেস
সজ্জন জিন্দাল
– চেয়ারম্যান, জেএসডব্লিউ গ্রুপ
উদয় কোটাক
– নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, কোটাক মহিন্দ্রা ব্যাংক
প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণভাবে বেসরকারি অনুদান, ট্রাস্ট ও কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (CSR) ফান্ডিং-এর মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এখনও পর্যন্ত টরেন্ট পাওয়ার, ডিএসপি ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজার, এইচডিএফসি ব্যাংক, জেএসডব্লিউ ফাউন্ডেশন, কেএফ ট্রাস্ট, সান ফার্মা এবং জায়ডাস লাইফসায়েন্সেস প্রতিষ্ঠানটিতে টাকা বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

মোদীর ‘নেতৃত্ব গঠনের’ উদ্যোগ
২০২৪ সালের স্বাধীনতা দিবসের ভাষণেই মোদী ভারতের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এক লাখ নতুন মুখ আনার কথা ঘোষণা করেছিলেন। তিনি বিশেষ করে উল্লেখ করেছিলেন, যাঁদের পারিবারিক রাজনৈতিক ইতিহাস নেই, তাঁদের দেশের রাজনীতিতে আসা দরকার। তিনি বলেছিলেন, বংশপরম্পরার রাজনীতি ও জাতপাতের প্রভাব কমিয়ে মেধা ও নিষ্ঠার ভিত্তিতে নতুন নেতা তৈরি করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

তবে তারও চার বছর আগে, ২০২০ সালে SOUL-এর পরিকল্পনা গৃহীত হয়। গুজরাত গিফ্ট (GIFT) সিটি রোডে বায়োটেকনোলজি ইউনিভার্সিটির কাছে ২২ একর জমির উপর এর ক্যাম্পাস তৈরি হবে। এর জন্য ১৫০ কোটি টাকার বাজেট ধরা হয়েছে। কোনও সরকারি সংস্থা বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নয়, স্বাধীনভাবে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতৃত্বকে প্রশিক্ষণ দেবে এই সংস্থা। এর ফলে যোগ্যতা ও জনসেবার মানসিকতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা নেতৃত্বে উঠে আসবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রথমদিকে, কম সময়ের জন্য ওয়ার্কশপ ও সেমিনার পরিচালনা করবে প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তী সময়ে এটি ৯ থেকে ১২ মাস মেয়াদি বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্সও চালু করবে।SOUL-এর ওয়েবসাইট অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীদের জন্য একটি ‘টোকেন ফি’ রাখা হবে, তবে বেশিরভাগ খরচই অনুদান ও স্পনসরশিপের মাধ্যমে বহন করা হবে। সরকারি কর্মকর্তা ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে।


ক্যাম্পাসের উদ্বোধন ও কার্যাবলি
এবছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল SOUL-এর ক্যাম্পাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। ২০২৭ সালে মূল কোর্স চালু হলেও ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি একাধিক কর্মশালা ও সেমিনার আয়োজন করেছে। যেমন, আইআইএম আমদাবাদে একটি ‘চিন্তন শিবির’ পরিচালিত হয়েছে, যেখানে গুজরাত মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের আমলাদের কৌশলগত পরিকল্পনা ও নেতৃত্বের দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এছাড়াও গত বছরে শিক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে যৌথভাবে দু’দিনের নীতি নির্ধারণ কর্মশালাও আয়োজিত হয়েছিল, যেখানে স্কুল শিক্ষার উন্নয়ন, নেতৃত্ব বিকাশ ও নীতি বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

এর পরে আগামীকাল, শুক্রবার, নয়াদিল্লিতে আয়োজিত SOUL নেতৃত্ব সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদীআনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন করবেন।

এই দু’দিনের শীর্ষ সম্মেলনে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

সম্মেলনে রাজনীতি, ক্রীড়া, শিল্প, গণমাধ্যম, আধ্যাত্মিক জগত, জননীতি, ব্যবসা ও সামাজিক ক্ষেত্রে খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বরা তাদের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা শেয়ার করবেন, যাতে নতুন প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হতে পারে। এইদিনের বিশিষ্ট বক্তাদের মধ্যে রয়েছেন, কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব, ভারতের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, ভারতের প্রাক্তন রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস প্রমুখ।

Advertisement
Tags: featuredNews

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন