Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

RG Kar Doctor Death আরজিকরে ধুন্ধুমার,পুলিশ-আন্দোলনকারীদের মধ্যে তুমুল ধস্তাধস্তি

deshersamay

Share article:
সত্যিজিৎ সাউ , দেশের সময়

কলকাতা:ছাত্র বিক্ষোভে উত্তাল আরজি কর হাসপাতালচত্বর। অভিযোগ, শনিবার পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ান চিকিৎসকদের একাংশ ও পড়ুয়ারা। পুলিশ কেন প্রথমে আত্মহত্যার তত্ত্ব তুলল, সেই প্রশ্নকে সামনে রেখে এদিন পথে নামেন পড়ুয়ারা। একইসঙ্গে আরও একাধিক অভিযোগ। কিন্তু শনিবার দুপুরের পর নতুন মোড় নেয় ঘটনা। আরজি করের মেইন গেটে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। মূল গেট আটকে দেওয়া হয়। অভিযোগ ওঠে, অন্যান্য মেডিক্যাল কলেজের নাম করে কেউ ঢুকছে। তাদের সঙ্গে বহিরাগতরা ঢুকছে। যারা এই প্রতিবাদকে অন্য অভিমুখ দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনজনকে আটক করে পুলিশ। ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্ত তিনি নিজে রয়েছেন। বারবার বলতে থাকেন বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলবেন। কিন্তু পরিস্থিতি কোনওভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। যশোর রোড অবরুদ্ধ হয়ে যায়। পরে আসেন যুগ্ম কমিশনার রূপেশ কুমারও।

পোস্ট গ্র্য়াজুয়েট ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল হল আরজিকর। শনিবার দুপুরে কলকাতার অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়ারা আরজিকরের ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের প্রতিবাদ জানাতে গিয়েছিলেন। জানা গেছে শনিবার সকাল থেকেই হাসপাতাল চত্বরে ধর্নায় বসা আরজিকর মেডিক্যাল কলেজের পড়ুয়ারা তাঁদের রাজনৈতিক দলের ব্যানার নামিয়ে তবেই যোগ দিতে বলেন।

এই নিয়েই বাঁধে বচসা। তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় আরজিকর হাসপাতাল চত্বরে। পুলিশ ব্যারিকেড করে বাইরে থেকে আসা ছাত্রদের মেডিক্যাল কলেজের বাইরে বার করে দেওয়ার চেষ্টা করে। এই নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বচসা শুরু হয়। ধুন্ধুমার বাঁধে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে।

সকাল থেকেই হাসপাতাল চত্বরে মোতায়েন ছিল পুলিশ। পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে ওঠায় ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও ব়্যাফ। একদিকে দু-দল ছাত্র, অন্যদিকে পুলিশ। রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। পুলিশ ঘটনাস্থলে থেকে বেশ কয়েকজন পড়ুয়াকে আটক করে নিয়ে যায়। বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের অভিযোগ, পুলিশ বেপরোয়াভাবে মারধর করেছে তাঁদের। চুলের মুঠি ধরে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ছাত্রীদের।

পুলিশের বিরুদ্ধে নির্বিচারে মারধরের অভিযোগ তুলে আরজি কর হাসপাতালের সামনের রাস্তা অবরোধ করে ছাত্ররা।  বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ঘটনাস্থলে যান। কলেজের ভিতর ডাক্তারি ছাত্রীকে খুনের ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। পরে আরজিকর হাসপাতাল থেকে শ্যামবাজার মোড় পর্যন্ত মিছিল করে বাম ছাত্র ও যুবরা।

আরজিকরের বর্তমান পড়ুয়ারা কোনওভাবেই বহিরাগতের প্রবেশ ক্যাম্পাসে চান না। অথচ এখানে এসএফআই, ডিএফআইয়ের মিছিল যেমন আসে, বাইরের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের পড়ুয়ারা ভিতরে ঢুকতে চান। অভিযোগ, এদিন তাঁরা ভিতরে ঢুকতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়।
পুলিশ কার্যত নাজেহাল হয় এই পরিস্থিতি সামাল দিতে। বাইরে থেকে আসা প্রতিবাদীদের বক্তব্য, ক্যাম্পাসটা কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।
যে ক্যাম্পাসে একজন ডাক্তার রেপ হয়ে খুন হয়ে যায়, সেখানে প্রতিবাদ করতে এলে বহিরাগত বলা হয়।

অভিযোগ, শ’য়ে শ’য়ে আন্দোলনকারী। স্বচ্ছ তদন্তের দাবি ওঠে। আরেক আন্দোলনকারী বলেন, “জাস্টিস চাইছে যারা তাদের আটকাচ্ছে। বলছে আমরা এখানে ঝামেলা করব।” এই ভিড়ে রয়েছে বহু অভিভাবকও। এরকমই একজন বলেন, “জীবনের অনেক কিছু ত্যাগ করে এখানে ডাক্তারি পড়তে আসে। সেখানে এই ঘটনা।” তবে আরজিকরের পড়ুয়ারা বারবার বলছেন, রাজনীতির রং যেন এই প্রতিবাদে না লাগে।

রেসিডেন্ট ডক্টর্স অ্যাসোসিয়েশনের বা আরডিএ-এর এক সদস্য বলেন, “আমরা আরজিকর পিজিটিদের পক্ষ থেকে জানাচ্ছি সমস্ত রেডিডেন্টকে, যাদের সঙ্গে যতটুকু খারাপ ব্যবহার হয়েছে, আমি ক্ষমাপ্রার্থী।
আমাদের আন্দোলন আমাদের সবার। আমরা লিখিত বিবৃতি দেব। জিবি মিটিংয়ে পাশ করিয়ে বিবৃতি দেব।”

একদিকে যখন রণক্ষেত্র আরজি-কর হাসপাতাল চত্বর, পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের চলছে মারপিট, ধস্তাধস্তি। সেই চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার মধ্যেই আরজি কর হাসপাতালে পৌঁছলেন সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। সিপিএম নেতা বলেন, “কেন চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ করে মেয়েদের জন্য মেডিক্যাল কলেজে রেস্টরুম থাকবে না? সব জায়গায় থাকে। কেন বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ঢুকতে পারবে না? কেন জুনিয়র ডাক্তাররা ঢুকতে পারবে না? তারা এলেই গন্ডগোল করা হবে? প্রিন্সিপাল নিজে অপরাধী। তাঁকে সরাতে হবে। স্বাস্থ্য দফতর আজ ইলিশ উৎসব করছে? আমায় আসতে হল কেন? যখন ছাত্ররা বিক্ষোভ করছে তখন পুলিশ উল্টে তাদের ধরছে। ওই মেয়েটা আমার মেয়েটা আমার হতে পারত, আপনার হতে পারত। একসময় কলকাতাকে বলতাম সিটি অফ জয়, এখন বলব সিটি অফ ভয়।”

প্রসঙ্গত অভিযুক্তের ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালতে। ২৩ তারিখ অবধি হেফাজতে থাকছেন ওই ব্যক্তি।

Advertisement
Tags: featured

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন