Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

Draupadi Murmu:
নেতাজি ইন্ডোরে মুখ্যমন্ত্রীর নাচে মুগ্ধ রাষ্ট্রপতি, দ্রৌপদীর হাতে দুর্গামূর্তি তুলে দিলেন মমতা

deshersamay

Share article:

দেশের সময়, কলকাতা:  দু’দিনের সফরে বাংলায় এসেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। মঙ্গলবারও তাঁর একাধিক কর্মসূচি রয়েছে। বিশ্বভারতীর সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে রাষ্ট্রপতিকে সংবর্ধনা জানানো হয়। তাঁকে সংবর্ধিত করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসও।

এদিন রাষ্ট্রপতির নাগরিক সংবর্ধনা মঞ্চে অন্য মুডে দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৷ ইন্দ্রনীল সেন, রূপঙ্কর, লোপামুদ্রা মিত্ররা যখন আনন্দলোকে – মঙ্গলালোকে গাইলেন তখন দেখা গেল ধামসা বাজাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর আবার আদিবাসী নৃত্যেও পা মেলালেন মমতা। যা দেখে আপ্লুত রাষ্ট্রপতিও।

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে ‘গোল্ডেন লেডি’ বলে অভিবাদন জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শুরুতেই মমতাকে রাষ্ট্রপতির ভূয়সী প্রশংসা করতে শোনা যায়৷

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘রাষ্ট্রপতি একজন গোল্ডেন লেডি। প্রণাম জানাই আপনাকে। ম্যাডাম আপনাকে ধন্যবাদ এই সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। আমরা সব পলিটিক্যাল পার্টিকে, সব সম্প্রদায়কে আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’’

বাংলার ঐতিহ্যকে মনে করিয়ে দিয়ে মমতা এদিন বলেন, ‘‘আমরা এখানে সবাই সবাইকে ভালবাসি। আমাদের এখানে সবাই মানুষ। আমি স্যালুট করি আমাদের দেশের সেনাবাহিনীকে, পুলিশকে। আমরা অনেক উন্নতি করেছি। এখন বাংলাদেশ দল পাঠাচ্ছে। বাংলা কন্যাশ্রী সন্মান পেয়েছে। কেন্দ্র থেকে আমরা পুরস্কার পেয়েছি।’’ তার পরেই রাষ্ট্রপতিকে মমতার অনুরোধ, ‘‘আপনি সংবিধানকে রক্ষা করতে পারেন। আমি অনুরোধ করব আপনাকে, দয়া করে দেশকে বাঁচান। সংবিধান কে বাঁচান।’’

মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, বললেন, ধন্যবাদ অনেক ছোট শব্দ..

‘‘সবাইকে সমান ভাবা, সবাইকে সম্মান দেওয়া, সবাইকে আপন করার গুণ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি আজ অভিভূত।’’ বললেন রাষ্ট্রপতি।

‘‘আমি আজ ভীষণ খুশি। মুখ্যমন্ত্রী যখন আদিবাসী শিল্পীদের সঙ্গে নিজেই বাদ্যযন্ত্র বাজালেন, নাচলেন তালে তালে, আমার ভীষণ ভাল লাগল। এটা সবাইকে সমান ভাববার একটি চিহ্ন। সবাইকে সম্মান দেওয়া। সবাইকে সমান ভাবে কাছে টেনে নেওয়া, সব সংস্কৃতিকে সম্মান দেওয়া এটা বড় কলা। এটা মুখ্যমন্ত্রীর আছে। এ জন্য তাঁকে ধন্যবাদ।’’

তিনি আরও বলেন,‘‘বাংলা ভাষা আমার খুব মিষ্টি লাগে। যখন এই ভাষা শুনি মনে হয় গ্রামের আশেপাশেই আছি। এমনই এই ভাষার সুবাস।’’ বললেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। নাম নিলেন সত্যজিৎ রায়, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের। বলেন, ‘‘আত্মসম্মান তথা আত্মগৌরবের জন্য বাংলার পরিচয় রয়েছে। কেবল ১৮ বছর বয়সে ভারতমাতার জন্য ফাঁসিতে চড়েছেন ক্ষুদিরাম বসু। ‘‘এক বার বিদায় দে মা, ঘুরে আসি’’…গানটি এখনও বাংলার সব কচিকাচারা গায়।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বাংলা ভাষা আমার ভীষণ মিষ্টি লাগে। সুইট ল্যাঙ্গুয়েজ। এই ভাষা যখনই আমার কানে আসে আমার মনে হয়, নিজের গ্রাম-জেলার আশেপাশেই আছি। এমনই এই ভাষার সৌন্দর্য, এমনই এর সুবাস।’’ 

নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ছবিগুলিতুলেছেন ধ্রুব হালদার ৷

এদিনের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস৷ তিনি বলেন, ‘‘বাংলা আমার দ্বিতীয় ঘর। বাংলা আমার স্বপ্নের জায়গা। আমার স্বপ্নের জায়গায় আমাকে পাঠিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।’’

অনেকের মতে, এই অনুষ্ঠানে মমতা যে ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন তার অন্য একটি বার্তাও থাকতে পারে। তা হল, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এনডিএ তথা বিজেপির প্রার্থী ছিলেন দ্রৌপদী। গেরুয়া শিবির ওড়িশার এই আদিবাসী মহিলার নাম ঘোষণার আগেই বিরোধীদের তরফে তৃণমূল নেতা যশবন্ত সিনহাকে প্রার্থী করা হয়েছিল।

সেই সময়ে বিজেপি বলেছিল, তৃণমূল তথা বিরোধীরা আদিবাসী মহিলাকে রাইসিনা পাহাড়ে দেখতে চায় না। অনগ্রসর শ্রেণির প্রতি ছুৎমার্গ থেকেই দ্রৌপদীর বিরুদ্ধে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। বিজেপি নাম ঘোষণার পর অবশ্য মমতা বলেছিলেন, আগে নাম জানালে লড়াইয়ের জায়গায় না গিয়ে কথা বলেই সবটা করা যেত। কিন্তু সেই সময়ে আর যশবন্ত সিনহাকে পিছিয়ে নিয়ে আসার বিষয় ছিল না।

পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, মমতা আদিবাসী রাষ্ট্রপতির সামনে নেচে বাজিয়ে শুধু দেখালেন না। হয়তো বিজেপিকেও বার্তা দিতে চাইলেন, আদিবাসীদের প্রতি তাঁর দরদ, সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা চিরকালীন।

জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে ছবিটি তুলেছেন দেবাশিস রায়৷

এদিন নেতাজি ইন্ডোরে পৌঁছবার পূর্বে জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি ও নেতাজি ভবন ঘুরেছেন রাষ্ট্রপতি৷ এদিন ভিজিটরস বুকে রাষ্ট্রপতি লিখেছেন, “আমি এখানে এসে খুব খুশি হয়েছি। এই জায়গা আমায় মুগ্ধ করেছে।” কিছুটা সেই সুর মনে করিয়ে দিয়েই মমতা বলেন, ‘‘ বাংলা স্বাধীনতার পূর্বে দেশের রাজধানী ছিল৷ বাংলা মনীষীদের ঘর৷’’

Advertisement
Tags: featured

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন