দিঘার রথযাত্রায় এবার জগন্নাথের মাথায় পুরীর ‘রাজমুকুট’, রথে থাকছে স্টিয়ারিং-ব্রেক ,রথের রশি টানবেন সকলেই
deshersamay


রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। এবার দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে রথযাত্রায়ও সেই পরিবর্তনের ‘ছোঁয়া’ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে ২০২৫ সালে অক্ষয় তৃতীয় দিন উদ্বোধন হয়েছিল দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের। গত বছর সোনার ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করে রথের রশ্মিতে টান দিয়েছিলেন মমতা।

রাজ্যে পালাবদলের পর ওড়িশা সরকারের সঙ্গে নবান্নের হৃদ্যতা বেড়েছে। তাই এবার দিঘার রথে থাকছে পুরীর ছোঁয়া। রাজবেশে সাজবেন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা। পুরী থেকে আনা বিশেষ রাজমুকুট পরে তাঁরা রথে চড়বেন।

১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার মহাসমারোহে এই রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে এবার দ্বিতীয় বর্ষের রথ উৎসব। এই উৎসবকে আনন্দমুখর করতে রাজ্য সরকার ৫ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছে। প্রশাসনের তরফে জোরকদমে প্রস্তুতি চলছে। রাস্তা সংস্কার ও আলোকসজ্জার কাজ শেষ পর্যায়ে। ইতিমধ্যে রথের মহড়াও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এবার রথ উৎসবের সূচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বাবা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিশির অধিকারী। এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন আরও অনেক বিশিষ্টজন। স্নানযাত্রার পর বিগ্রহরা এখন নিভৃতবাসে রয়েছেন।

বুধবার বিকেলে দিঘা মন্দিরে গিয়ে দেখা গেল, পুরোদমে সাজছে তিনটি রথ। চলছে রশি লাগানোর কাজও। রথযাত্রার দিন সকাল থেকে শুরু হবে বিশেষ পুজো। সকাল সাড়ে ১০টায় পাহান্ডি বিজয় উৎসবের মাধ্যমে জগন্নাথ বলরাম ও সুভদ্রাকে তিনটি রথে নিয়ে আসা হবে। জগন্নাথকে পরানো হবে পুরী থেকে আনা বিশেষ মুকুট। দুপুর ১টা থেকে আড়াইটে পর্যন্ত রথে অধিষ্ঠিত তিন জনকেই পুজোর পরে নিবেদন করা হবে ভোগ। বিকেল সাড়ে ৩টেয় শুরু হবে রথযাত্রা। রাধারমণ বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে রথযাত্রাকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
মন্দিরের প্রধান পুরোহিত তথা দিঘা জগন্নাথ মন্দির ট্রাস্টির সদস্য রাধারমণ দাস জানান, বিগ্রহদের জন্য পুরী থেকে রাজমুকুট আনা হচ্ছে, বিশেষ পোশাক তৈরি হচ্ছে। রাজবেশে সাজিয়ে ‘পাহাণ্ডি বিজয়’ শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাঁদের রথে তোলা হবে। ওড়িশার বাইরে দিঘার সৈকতেই এবার মিলবে পুরীর রাজকীয় আমেজ।

এছাড়া দিঘার রথে এবার লেগেছে নতুন চাকাও। সঙ্গে রথকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য থাকছে স্টিয়ারিং এবং ব্রেক। দিঘা জগন্নাথ মন্দির ট্রাস্টির সদস্য রাধারমণ দাস বলেন, “পুরীতে মন্দির থেকে সোজা রাস্তায় রথ যায়। আমাদের এখানে রথ কিছুটা যাওয়ার পর ডানদিকে ঘুরে যায়। আবার ডানদিকে ঘুরে।
গতবার রথের চাকা নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। সেজন্য এবার চারটি নতুন চাকা লাগানো হয়েছে। আর তা নিয়ন্ত্রণের জন্য থাকছে স্টিয়ারিং ও ব্রেক।”
রথে রং করার কাজ শেষ হয়েছে। রথযাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে রাধারমণ দাস বলেন, “রথযাত্রার প্রস্তুতি শেষের পথে। আমরা রাজ্য সরকারের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা অনুদান পেয়েছি। এর জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমরা মনে করছি, লক্ষ লক্ষ মানুষ আসবেন। রথযাত্রার আয়োজন খুব ভালো করতে সবরকম প্রস্তুতি নিচ্ছি। রথযাত্রার দিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সূচনা করবেন শিশির অধিকারী। বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে তিনটেয় রথযাত্রা শুরু হবে।” রথযাত্রা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত ৯-১০ লক্ষ মানুষ দিঘা জগন্নাথ মন্দিরে আসবেন বলে তাঁর আশা।

