২৫০ কোটির দুর্নীতির অভিযোগ! ফের এফআইআর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে
deshersamay


মামলা আর নোটিসের ভারে জর্জরিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । কখনও বাড়ির স সামনে হাজির হচ্ছে ইডি, কখনও সিআইডি, আবার কখনও তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করছে পুলিশ।

তাঁর বিরুদ্ধে আবারও এফআইআর দায়ের হল। সূত্রের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ২৫০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই এফআইআর দায়ের।
বিধানসভার সই-জাল কাণ্ড থেকে শুরু করে উস্কানিমূলক মন্তব্য, দুর্নীতির অভিযোগ – ইতিমধ্যেই সিআইডি (CID) ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর জোড়া তলবের মুখে পড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

এরই মধ্যে তাঁর অস্বস্তি আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়ে এবার এক বিশাল অঙ্কের আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠল তাঁর বিরুদ্ধে। ২০২০ সালের আমফান ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী ত্রাণ বণ্টনে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার মারাত্মক দুর্নীতির অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একটি নতুন এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে।

২০২০ সালে রাজ্যে ঘটে যাওয়া আমফান ঘূর্ণিঝড়ের পর ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের পুনর্বাসনের জন্য রাজ্য সরকারের তরফে ‘ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ বা ডিবিটি (DBT)-র মাধ্যমে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আর্থিক সাহায্য পাঠানো হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, সম্পূর্ণ ভেঙে যাওয়া বাড়ি নতুন করে তৈরির জন্য ২০ হাজার টাকা এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামতের জন্য ৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সরকারি পোর্টালে কারচুপি করে বহু অক্ষত পাকা বাড়িকে ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ হিসেবে দেখিয়ে বেআইনিভাবে সরকারি টাকা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।

আর্থিক জালিয়াতির প্রমাণ হিসেবে অভিযোগপত্রে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য ও নথি পেশ করা হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, ডিজিটাল কারচুপি করে সরকারি পোর্টালে একটি মাত্র মোবাইল নম্বরের সঙ্গে ১৩ জন ব্যক্তির নাম এবং অন্য একটি ফোন নম্বরের সঙ্গে ৮ জন ব্যক্তির নাম সংযুক্ত করা হয়েছে। এরপর সংযুক্ত নথিতে থাকা বিভিন্ন ব্যাঙ্কের ব্রাঞ্চের তালিকা ব্যবহার করে ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে ২০ হাজার টাকা করে সরকারি অর্থ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই বিপুল জালিয়াতির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT) গঠনের দাবি জানিয়েছেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস।

আমফান দুর্নীতির এই নতুন ধাক্কার পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ঝুলছে আরও একটি পুরনো মামলার খাঁড়া। বিজেপি নেতার অভিযোগ, প্রায় সাড়ে সাত বছর আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি নির্দেশে তাঁর ওপর অত্যন্ত নৃশংস ও প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছিল। একদিকে কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও সিআইডি-র তলব, আর অন্যদিকে একের পর এক জামিন অযোগ্য ধারায় এফআইআর – সব মিলিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে চরম আইনি বেড়াজালে আটকে পড়েছেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা।
