Desher Samay
প্রচ্ছদদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News
যশোর রোডে বিপজ্জনক মরা ডাল কাটার কাজ শুরু হতে চলেছে জানালেন খাদ্যমন্ত্রী, খুশি বনগাঁর বাসিন্দারা : দেখুন ভিডিও World Cup 2026: নকআউটে নেদারল্যান্ডস, গ্রুপে তৃতীয় হয়েও আগামীতে উঠতে পারে কোন কোন টিম? বনগাঁ পুরসভার নাকের ডগায় বাটামোড়ে ভাগাড়ের মাংস ও বিশেষ গুঁড়ো মশলা মেশানো শাহী বিরিয়ানি বিক্রির অভিযোগ পেতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ, চক্ষু চড়কগাছ স্থানীয় বাসিন্দাদের: দেখুন ভিডিও জোড়া ভূমিকম্পের পরেও ২০ বার কেঁপেছে ভেনেজ়ুয়েলা, তছনছ রাজধানীর একাংশ, বহু মৃত্যুর আশঙ্কা ভূমিকম্পের মতো ঝাঁকুনি, বিস্ফোরণের মতো শব্দ!’  প্রত্যক্ষদর্শীদের ভয়াল বর্ণনা,  প্ল্যানেই গলদ ছিল’, তারাতলা কাণ্ডে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী!

লকডাউনে লুঠ করেছে তৃণমূল, দিদি আপনার দলের দুর্নীতি দেখুন’, ‘দিদি আপনি কী করলেন… মহা পাপ’, মমতাকে আক্রমণ স্মৃতির

deshersamay

Share article:

দেশের সময় ওয়েবডেস্কঃ ডুমুরজলার মঞ্চ থেকে নাম করে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে তীব্র আক্রমণ করেন কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি।

রবিবাসরীয় দুপুরে ডুমুরজলার মাঠ থেকে তৃণমূল কংগ্রেস আর দিদির বিরুদ্ধে যে আক্রমণ শানালেন, তার অধিকাংশটাই বাংলায়। সোজা বাংলায় ভিড়ে ঠাসা মাঠে স্মৃতির হুঙ্কার, “যেখানে দুর্নীতি সেখানে টিএমসি। চাল চুরিতে টিএমসি, ডাল চুরিতে টিএমসি, ত্রিপল চুরিতে টিএমসি। তাই দিদি আপনি জেনে রেখে দিন, এবার টিএমসি যাচ্ছে, আর বিজেপি আসছে।”

একেবারে জীবন বিজ্ঞান খাতায় নেফ্রন আর নিউরোনের পার্থক্য লেখার মতো করে মাঝে দাগ কেটে এক দিকে নরেন্দ্র মোদী সরকার আর অন্য দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের কাজকে রেখে তফাত বোঝাতে চাইলেন অভিনেত্রী থেকে নেত্রী হওয়া স্মৃতি।

স্পষ্ট বাংলা উচ্চারণে বললেন, “কোভিডের সময় নরেন্দ্র মোদীর সরকার দেশের মানুষকে পাঁচ কিলো করে চাল আর এক কিলো করে ডাল দিয়েছিল। আর দিদি আপনি কী করলেন? আপনি এখানে লকডাউনে লুঠ করেছিলেন। গোটা দেশে রেশন কার্ডের মাধ্যমে মানুষ চাল, ডাল নিয়েছেন, আর দিদি আপনি এখানে কুপন দিয়েছিলেন। কাকে দিয়েছিলেন? যে তৃণমূল করে তাকে দিয়েছিলেন। ক্ষুধার্ত, গরিব মানুষ যখন বিক্ষোভ দেখাল তখন আপনি পুলিশ পাঠিয়ে তাঁদের উপর লাঠি চার্জ করালেন। কেন দিদি কেন?” এরপর আরও ঝাঁঝালো ভঙ্গিতে স্মৃতি বলেন, “সবাই যখন বলছে চাল চুরি হচ্ছে, ডাল চুরি হচ্ছে তখন আপনি অফিসারদের বদলি করেছেন। কিন্তু দলের নেতাদের শাস্তি দেননি!”


চার লাইন বাংলা তো দু’লাইন হিন্দি। অদ্ভুত মিশেল। ডুমুরজলার গোটা মাঠ তখন উদ্বেল। আর সেই সমাবেশে নিজের বক্তৃতার গোটাটাতেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি নিয়ে সরব থাকলেন কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী।

অনেকের মতে, স্মৃতির বক্তৃতা শুনেই বোঝা যাচ্ছিল, কাল থেকে যখনই জেনেছেন তাঁকে বাংলায় আসতে হবে তখন থেকেই হয়তো হোমওয়ার্ক করতে বসে পড়েছিলেন। এমনিতে সর্বভারতীয় রাজনীতিকরা রাজ্য রাজনীতির খুঁটিনাটি নিয়ে খুব একটা কথা বলেন না। স্মৃতি যেন নিজেকে সবার থেকে আলাদা করে তুললেন। বোঝাতে চাইলেন, বাংলার খবর তিনি রাখেন। জানেন কীহয়েছে, কী হচ্ছে।

ব্যালেন্সশিটে ফেলে বোঝালেন দুই সরকারের পার্থক্য। তাঁর কথায়, “দেশের সরকার যখন পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরানোর জন্য বন্দোবস্ত করল তখন দিদি বললেন, না না না না, এটা করোনা এক্সপ্রেস। দিদি আপনার লজ্জা লাগল না রাজ্যের গরিব শ্রমিক, মজুরদের ভাইরাস বলতে?”

এখানেই থামেননি স্মৃতি ইরানি। আমফান নিয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নিশানা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমি তো অবাক হয়ে গেছি, আমফানের সময় কলকাতায় সাতদিন দশদিন কারেন্ট ছিল না, জল ছিল না। গ্রামীণ এলাকা দু’সপ্তাহ বিদ্যুৎহীন হয়ে ছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মানুষের সাহায্যের জন্য বিপর্যয় মোকাবিলায় টাকা পাঠালেন আর দিদি আপনার নেতারা পঞ্চায়েতে সেই টাকা লুঠ করল। যে মহা পাপ আপনি করেছেন তার জবাব দিতে হবে!”

রবিবাসরীয় সভা থেকে কোনও রাখঢাক ছাড়াই চাঁচাছোলা ভাষায় স্মৃতি দোষারোপ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বিস্ফোরক অভিযোগ স্মৃতির। আমফানের সময় বিপর্যয়ের পূর্বাভাস আগেই রাজ্যকে জানিয়েছিল কেন্দ্র কিন্তু সেই খবরকে পাত্তা দেননি বাংলার তৃণমূল সরকার। বিজেপি মন্ত্রীর অভিযোগ, ‘১১ দিন আগেই আমফানের পূর্বাভাস দিয়েছিল কেন্দ্র, কিন্তু দিদি আপনি শোনেননি। কেউ ভাবেনি গ্রামীণ অঞ্চলে তো দূর কলকাতাও সাতদিন পর্যন্ত জলবিদ্যুৎহীন থাকবে। এর জন্য দায়ী আপনি দিদি।’

কাটমানি নিয়েও তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান স্মৃতি। তিনি বলেন, “দিদি কী বলেছিলেন? এই কাটমানি ফেরত দাও। মানে মেনে নিয়েছিলেন তাঁর নেতার কাটমানি নিয়েছে। আর বাংলায় পিএম কিষান চালু করতে দেননি। কারণ সেখানে তো কাটমানি নেই। এখন সবাই জেনে গেছে, বাংলায় কাটমানি ছাড়া কাজ হয় না।”

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ নয়ছয় করার কথা তুলে বিরোধীদের অভিযোগ আরও একবার কেন্দ্রীয়মন্ত্রীর মুখে।

Advertisement

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Search Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.