Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

মোদী তো আমার ছেলের মতো!’ বললেন শাহিনবাগের দাদি

deshersamay

Share article:

দেশের সময় ওয়েবডেস্কঃ “মোদী-অমিত শাহ, আপনারা দেশের শাসক। সব ক্ষমতা আপনাদের হাতে। ভয় দেখিয়ে সবাইকে থামিয়ে দিতে চান আপনারা। কিন্তু আমায় পারবেন না। যতদিন প্রাণ আছে, আমি বলে যাব। একা লড়ে যাব।”—এই কথাগুলো গত শীতে রাজধানী দিল্লির বুকে চলা এক ঐতিহাসিক আন্দোলনের মঞ্চ থেকে যিনি বলেছিলেন, তাঁর নাম বিলকিস। ‘শাহিনবাগের দাদি’ নামেই পরিচিত তিনি।

রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাঁর দৃঢ় ও অনমনীয় অবস্থান, মুখের রেখায় গভীর প্রত্যয়, শাসকদের চোখে চোখ রেখে প্রতিবাদের স্পর্ধা তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বের দরবারে। টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ২০২০ সালের সেরা ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় রয়েছেন তিনি।

কিন্তু ১০১ দিন ধরে নাগরিকত্ব বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে এমন সম্মান পাওয়ার ঠিক পরে তিনি মন্তব্য করলেন, “নরেন্দ্র মোদী আমার ছেলের মতো। আমি ওঁর দীর্ঘ জীবন ও খুশির জন্য প্রার্থনা করি”

বিলকিসের এ মন্তব্যে যেন খানিক ছন্দপতন ঘটেছে আন্দোলনের সুরে।  প্রসঙ্গত, টাইম ম্যাগজিনের ওই তালিকায় স্বয়ং নরেন্দ্র মোদীর নামও রয়েছে প্রভাবশালী হিসেবে। সে কারণেই বিলকিস অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীকে। তিনি বলেছেন, “এই সম্মান পেয়ে আমি অত্যন্ত খুশি। আমি কোরান পড়েছি, স্কুলে যাইনি। আমি কখনও আশা করিনি এসব।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমার অভিনন্দন জানাই এই তালিকায় স্থান পাওয়ার জন্য। উনিও আমার এক ছেলে। আমি ওঁর জন্ম না দিলেও আমারই কোনও বোন জন্ম দিয়েছে ওঁর।’’

বিলকিসের স্বামী মারা গিয়েছেন বছর ১৫ আগে। দুই সন্তানের কাছেই থাকেন তিনি। কিন্তু গোটা শাহিনবাগ এখন তাঁকে দাদি নামেই ডাকে। শুধু তাই নয়, তাঁর নেতৃত্বেই আরও অসংখ্য দাদির সমাগম ঘটেছিল শাহিনবাগে। মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছিল বিলকিসের কথা। তারপর অসংখ্য বৃদ্ধা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে আন্দোলনে যোগ দেন।

বিশেষ বিশেষ দিনে তাঁর বক্তৃতা ঝড় তুলে দিত শাহিনবাগের ওই চত্বরে। ২৬ জানুয়ারি সকালে রোহিত ভেমুলার মাকে নিয়ে ওই মঞ্চে দাঁড়িয়েই জাতীয় পতাকা উড়িয়েছিলেন দাদি। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর সাক্ষাৎকার।

যেদিন ধর্নামঞ্চের ২০০ মিটার দূরে গুলি চলেছিল শাহিনবাগে, সেই মুহূর্তে মঞ্চেই বসেছিলেন দাদি। তারপর বলেছিলেন, আসলে মানুষের আন্দোলনের চাপে ওরা ভয় পেয়েছে। তাই এই ভাবে দূর.থেকে গুলি ছুড়ে ভয় দেখাতে চাইছে। লকডাউনের জন্য যেদিন ধর্নাস্থল ছেড়ে বাড়ি ফিরছেন বিলকিস সেদিনও বলে গিয়েছিলেন, “আবার আসব। অনেক বড় লড়াই পড়ে রয়েছে।” সেই শাহিনবাগের দাদিই এখন আন্তর্জাতিক ‘মুখ’।

কিন্তু সেই মুখেই হঠাৎ করে নরেন্দ্র মোদীর প্রতি এই পুত্রস্নেহসুলভ কথা শুনে বিস্মিত হয়েছেন অনেকেই।

Advertisement

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন