Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

মেসিকে নিজের ১০ নম্বর জার্সি উপহার তেন্ডুলকরের, বদলে লিও সচিনকে কী দিলেন জানেন?

deshersamay

Share article:

একদিন আগেও কলকাতার যুবভারতীতে ক্ষোভের বারুদ। ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান, মিসম্যানেজমেন্টের অভিযোগ, অস্বস্তির আবহ। ঠিক ২৪ ঘণ্টা পর সেই ছবিটা উল্টে দিল মুম্বই। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে  রবিবার সন্ধ্যায় যা দেখা গেল, তা শুধুই ফুটবল-উৎসব নয়—ভারতীয় ক্রীড়াস্মৃতির এক বিরল অধ্যায়।

সচিন তেন্ডুলকর আর লিওনেল মেসি— নিজেদের খেলার জগতের দুই মহাতারকা অবশেষে মুখোমুখি হলেন। আর্জেন্তাইন সুপারস্টার রবিবার মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে পৌঁছলে দেখা হয় সচিনের সঙ্গে। মেসি মাঠে আসার প্রায় আধঘণ্টা পর ‘মাস্টার ব্লাস্টার’ সচিনও হাজির হন এবং মেসি, লুইস সুয়ারেজ় ও রদ্রিগো দে পলের সঙ্গে কথা বলেন। ২০২২ সালের বিশ্বকাপজয়ী মেসি রবিবার সকালে মুম্বইয়ে পৌঁছন। আর সন্ধ্যায় ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আসেন।

এদিনের সন্ধ্যার কেন্দ্রবিন্দু শুধু লিওনেল মেসি  নন। মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আর এক ‘গোট’—সচিন তেন্ডুলকর । ফুটবল আর ক্রিকেটের দুই যুগপুরুষ, দুই ভিন্ন মেরুর আইকন—একই ফ্রেমে। আর সেই মুহূর্তটাই ওয়াংখেড়েকে আলাদা করে দিল।

ইভেন্টের শুরুতে অল স্টার্স বনাম মিত্র স্টার্সের ম্যাচে সুনীল ছেত্রী হেডে গোল করে উত্তেজনা বাড়ালেন। মেসি পেনাল্টি নিলেন। ‘ভিসকা বার্সা’ তর্জনের মধ্যে বল জালে। এরপর জাগলিং করে গ্যালারির দিকে শট—দ্বিতীয় তলার দর্শকদের জন্য উপহার। প্রতিটি মুহূর্তে মেসি যেন সচেতনভাবে দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ রাখছিলেন। সময় নিচ্ছিলেন। হাত নাড়ছিলেন। হাসছিলেন। আর ঠিক তখনই মাঠে এলেন সচিন।

ওয়াংখেড়েতে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় এক অনন্য মুহূর্তের হাত ধরে। মেসি নিজের হাতে বল ছুড়ে দেন দর্শকদের দিকে, আর সেই উচ্ছ্বাসের আবহে শুরু হয় তাঁর সঙ্গে ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক সুনীল ছেত্রীর আলাপচারিতা। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাত করেন।

এরপরওয়াংখেড়ে নতুন করে ফেটে পড়ল। ক্রিকেটের ঈশ্বরের প্রবেশ—তাও ফুটবলের বরপুত্রের সামনে দাঁড়ানো! সচিন মেসির হাতে তুলে দিলেন নিজের টিম ইন্ডিয়ার জার্সি। আর্জেন্তিনীয় তারকার উপহার বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনার স্মারক বল। প্রতীকী লেনদেন। কিন্তু অর্থ অনেক গভীর। সম্মান, স্বীকৃতি আর দুই খেলাধুলোর মধ্যেকার এক অনুচ্চারিত সেতু।

সচিন পরে মেসিকে নিয়ে বলতে গিয়ে তুলে ধরলেন তাঁর নিষ্ঠা, অর্জন আর তরুণদের অনুপ্রাণিত করার ভূমিকার কথা। মেসিও মন দিয়ে শুনলেন। ছবি তুললেন। পাশে সুয়ারেজ, দি পল। মুহূর্তে তৈরি হল এক ‘ইনস্ট্যান্ট ক্লাসিক’।

এই দৃশ্যটাই ওয়াংখেড়ের সন্ধ্যাকে কলকাতার ঘটনার থেকে আলাদা করে দিল। কোনও তাড়া নেই। অস্থিরতা নেই। পরিকল্পিত আয়োজন, নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনা, আর সর্বোপরি—সরাসরি মানবিক সংযোগ। মেসি আর সচিনের সেই কয়েক মিনিটের বিনিময় যেন পুরো সফরের সুর বদলে দিল।

কলকাতার পরে প্রশ্ন উঠেছিল—ভারতে কি মেসি-ম্যানিয়া সামলানো যায়? ওয়াংখেড়ে তার জবাব দিল, উপরন্তু কিছু যোগও করল। দেখাল, সঠিক পরিকল্পনা থাকলে শুধু উন্মাদনা নয়—স্মরণীয় মুহূর্তও তৈরি করা সম্ভব। আর সেই মুহূর্তের কেন্দ্রে যদি থাকেন সচিন তেন্ডুলকর আর লিওনেল মেসি, তাহলে তা নিছক ইভেন্ট নয়—গড়ে ওঠে ইতিহাস।

‘GOAT India Tour’-এর অংশ হিসেবে মেসি ইতিমধ্যেই কলকাতা, হায়দরাবাদ ও মুম্বই সফর করেছেন। এই সফর শেষ হবে সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, দিল্লিতে।

Advertisement
Tags: News

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন