Desher Samay
প্রচ্ছদকলকাতাজেলাপশ্চিমবঙ্গউত্তরবঙ্গদেশবাংলাদেশআন্তর্জাতিকই-পেপারফটো গ্যালারিসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউব

ভোটের আগে দু’বাংলার নাগরিক সেতু বন্ধনে মাতৃভাষা দিবস নিয়ে বার্তা বাংলাদেশ‌ দূতাবাসের

deshersamay

Share article:

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোট গ্রহণ করার কথা। নির্ধারিত সূচি মেনে ভোট এবং মন্ত্রিসভা গঠন হলে এবার ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে‌ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হবে নতুন সরকারের ব্যবস্থাপনায়।‌ তবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও‌ সমাজ জীবনে দিনটির গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে ভারতে বাংলাদেশের দূতাবাস তথা দিল্লির হাই কমিশন‌ এবং কলকাতা সহ এ দেশের বিভিন্ন শহরে অবস্থিত সে‌ দেশের উপ ও‌ সহকারী‌ হাইকমিশনার অফিস এখন‌ থেকেই দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরা শুরু করেছে।

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে দিনটি এখন ইউনেসকো স্বীকৃত‌ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হওয়ায় বাংলাদেশ‌ দূতাবাসের বার্তায়‌ বহুভাষী ভারতের ভাষাগুলির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়েছে। দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ দুই দেশের ভাষা, খাবার, পোশাক, শিল্প সংস্কৃতির অভিন্ন‌ দিকগুলি উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন। মনে করা হচ্ছে তারই‌ ধারাবাহিকতায় এবার ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকেও নাগরিক সেতু বন্ধনে বিশেষ মাত্রা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। ঘটনাচক্রে মাস কয়েক পর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট। ওই নির্বাচনের মুখে বাংলার শাসক দলের অন্যতম এজেন্ডা বাংলা ও‌ বাঙালি। দুই দিল্লির শাসকদের হাতে‌ বিপন্ন বলে অভিযোগ তৃণমূলের।‌

বুধবার বাংলাদেশের কলকাতার উপদূতাবাস এক্স হ্যান্ডেলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস নিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, প্রতি বছর ফেব্রুয়ারিতে, বাংলাদেশ বাংলা ভাষার শহিদদের স্মরণ করে এবং বিশ্বজুড়ে অসংখ্য ‘ভাষা-রক্ষক’-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানায়। তাতে ভারতের সব ভাষার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।

২০০০ সালে বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন একটি সমসাময়িক বৈশ্বিক তাৎপর্য লাভ করে, যখন রাষ্ট্রসংঘের অঙ্গ সংগঠন ইউনেসকো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।’

https://x.com/i/status/2018954264098275329

প্রসঙ্গত, ১৯৯৯-এর নভেম্বরে ইউনেসকো ২১ ফেব্রুয়ারিকে‌ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এর‌ মাস দুয়েকের মাথায় ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি গোটা বিশ্বে প্রথমবারের জন্য আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।

সাবেক পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালিদের উপর উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে গর্জে উঠেছিল সেখানকার মানুষ। পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকদের বিরুদ্ধে পথে নামে বাংলাভাষী মানুষ। প্রতিরোধের‌ মুখে পিছু হটে সরকার। প্রস্ফুটিত হয় ভাষা আন্দোলন। বস্তুত বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই জন্ম নেয় পাকিস্তানের কবল মুক্ত হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা। অপারে বাঙালির অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে থাকা এই দুই মুক্তি সংগ্রামের বিরোধিতা করার অভিযোগ রয়েছে আজকের বাংলাদেশের অন্যতম দল জামায়াতে‌ ইসলামীর। ঘটনাচক্রে আওয়ামী লিগ ভোটের ময়দানে না থাকায় আসন্ন‌ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত‌ এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অন্যতম দল বিএনপি’র প্রধান প্রতিপক্ষ।

বাংলাদেশের কলকাতার উপ দূতাবাসের পোস্টে আরও বলা হয়েছে, বহুসাংস্কৃতিক সমাজে মানুষের মাতৃভাষাই তার পরিচয় বহন করে, তার সংস্কৃতি ও মর্যাদা সমুন্নত রাখে। মাতৃভাষা স্মৃতি, অনুভূতি ও ইতিহাস বহন করে। মৌখিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে। কল্পনাকে উসকে দেয়।
তাই আসুন, আমাদের ভাষা ও সব ধরনের প্রকাশ—কবিতা, শিল্প, সঙ্গীত কিংবা নৃত্য—এর মাধ্যমে সম্প্রদায়, শহর ও গ্রামজুড়ে পারস্পরিক বোঝাপড়া গড়ে তুলি।
চলুন উদ্‌যাপন করি…
আমাদের ভাষাগত বৈচিত্র্য,
আমাদের কল্পনা ও প্রকাশকে—যা সীমারেখা মুছে দেওয়া এক যৌথ সম্পদ।

Tags: News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Home Search Gallery
Menu
© 2026 Desher Samay.