

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে অন্যতম হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুর। এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে রবিবার সন্ধ্যায় এই কেন্দ্রের কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সভায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সূত্রে খবর, কলকাতার আসনগুলির মধ্যে থেকে এই আসন থেকেই সবথেকে বেশি মার্জিনে জয়ের টার্গেট দেওয়া হয়েছে কর্মীদের।

রাজনীতিতে অনেক সমীকরণ বদলায়, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কাছে ভবানীপুর আর তাঁর পুরনো ভিটে আজও অবিচ্ছেদ্য। রবিবার সন্ধ্যায় চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে দাঁড়িয়ে সেই আবেগের কথাই শোনালেন তৃণমূল নেত্রী । রাজনৈতিক টানাপড়েন আর ভোটের কৌশলের মাঝে এদিন তাঁর গলায় উঠে এল ঘর ছাড়তে না চাওয়ার এক পারিবারিক কাহিনি। মমতা বলেন, “ভবানীপুরের সবাই আমাকে চেনেন। বাড়ি বদলের বিষয়ে কথা হলেও আমি ভবানীপুর ছাড়িনি। আসলে আমার মা আমাকে এই বাড়ি ছাড়তে দেননি।”

ভোটের আবহে নিজের খাসতালুকের মানুষের সঙ্গে মমতার এই আত্মিক টান দিয়েই কর্মীদের কাছে টানল তৃণমূল। তবে শুধু আবেগ নয়, রবিবাসরীয় এই সভা থেকে কড়া রাজনৈতিক বার্তাও দিয়েছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন, ঘরের মাঠে কোনওভাবেই ‘আত্মতুষ্টির’ জায়গা নেই। গতবারের চেয়েও বেশি ব্যবধানে জিতে রেকর্ড গড়তে হবে এবার।

মমতা এদিন তাঁর ভাষণে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, মানুষের রান্নার গ্যাস দেওয়ার ক্ষমতা নেই, অথচ ভোটের সময় টাকা বিলি করে ভোট কিনতে চাইছে বিরোধীরা। বাইরে থেকে লোক এনে এলাকায় অশান্তি পাকানোর চেষ্টা হচ্ছে বলেও তিনি সতর্ক করেন। এমনকি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার জন্য গ্রেফতার হওয়া কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি জানান, দল সবরকম আইনি সাহায্য দেবে।
নির্বাচন কমিশনকেও রেয়াত করেননি মুখ্যমন্ত্রী। গত তিন দিনে রাজ্যের ৫০ জন অফিসারকে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “কোনও অঘটন ঘটলে তার দায় কে নেবে? শেষ পর্যন্ত মোদী সরকারকেই এর জবাব দিতে হবে।” ভোটের দিন কর্মীদের স্ট্রং রুমের ওপর কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিয়ে তিনি জানান, লোডশেডিং করে কারচুপির ভয় থাকতে পারে।

সবশেষে তাঁর লক্ষ্য যে এবার সুদূর দিল্লি, সেই বার্তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন মমতা। তাঁর কথায়, “বাংলায় জয়ের পরই আমাদের পরবর্তী গন্তব্য হবে দিল্লির পথ। ভোট শেষ মানেই বাড়ি চলে গেলাম, সেটা করবেন না।” ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শুভেন্দু অধিকারীকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। এদিনের বৈঠকে মমতা অবশ্য বিজেপি নেতার নাম মুখে আনেননি। শুধু ভিটের টান মনে করিয়ে দিয়ে কাছে টেনে নিয়েছেন দলের সমর্থকদের।

এ দিন চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে বিধানসভার সমস্ত কাউন্সিলার এবং বুথকর্মীকে নিয়ে বৈঠক হয়। সূত্রের খবর, অভিষেক এ দিন মিটিংয়ে বলেন, ‘কলকাতার মধ্যে ফার্স্ট হতে হবে ভবানীপুরকে। ৬০ হাজারের বেশি ভোটে জিততে হবে।’ বিপক্ষে যেই লড়ুক না কেন, কর্মীরা যেন অন্যান্য বছরের ন্যায় সমান আবেগ ও শক্তি কাজে লাগিয়ে লড়াই করেন, সেই বার্তা দেওয়া হয় এ দিনের বৈঠক থেকে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে প্রথমে নন্দীগ্রাম আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের ফলাফল ঘোষণার দিন কিছু সংবাদমাধ্যমে দেখানো হয়, মমতা জয়ী হয়েছেন। তৃণমূলের অভিযোগ, এর কিছুক্ষণ পরে গণনাকেন্দ্রে লোডশেডিং হয়ে যায়। এর পরে ফল বদলে যায়। শেষমেশ এই আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এই কেন্দ্রের ভোট ও গণনা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল। এ দিনের মিটিংয়ে ফের লোডশেডিং-এর আশঙ্কার কথা জানান মমতা। স্ট্রং রুমে বিশেষ ভাবে নজরে রাখার জন্য কর্মীদের নির্দেশ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।



