Desher Samay
প্রচ্ছদকলকাতাজেলাপশ্চিমবঙ্গউত্তরবঙ্গদেশবাংলাদেশআন্তর্জাতিকই-পেপারফটো গ্যালারিসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউব

ভারত-বিরোধী গর্জন, হিন্দু নিধনে নীরব , বিদায়ী ভাষণে বিতর্ক উসকে গেলেন ইউনূস

deshersamay

Share article:

বড় প্রশ্ন, ইউনুস কী বলেননি। হিন্দু নির্যাতন নিয়ে একটি শব্দও নেই। প্রশাসনিক ব্যর্থতা, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা, ইসলামি মৌলবাদীদের বাড়বাড়ন্ত, কিছুই নেই তাঁর বিদায়ী ভাষণে। বরং বিদায়ী ভাষণে তিনি নিজেকে তুলে ধরলেন “আত্মমর্যাদা পুনরুদ্ধারের নায়ক” হিসেবে, যেন বাংলাদেশের সমস্ত সমস্যার মূল কারণ বিদেশি প্রভাব, দেশের ভেতরের অরাজকতা নয় বাস্তবে ইউনুসের শাসনকাল বাংলাদেশের জন্য এক অন্ধকার অধ্যায়।

গণতন্ত্র ফেরেনি, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি, বরং রাষ্ট্রের ভিতরে মৌলবাদ আরও শক্তিশালী হয়েছে। আর সেই ব্যর্থতা ঢাকতেই শেষ মুহূর্তে ভারতের বিরুদ্ধে কৌশলী আক্রমণ। সাত বোন, চিন, সামরিক শক্তি— সব মিলিয়ে এক সুপরিকল্পিত জাতীয়তাবাদী নাটক।
বিদায়ী ইউনুস আসলে রেখে গেলেন এক বিপজ্জনক উত্তরাধিকার। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ভাঙন ঢাকতে বিদেশি শত্রু তৈরির রাজনীতি। এই রাজনীতি শুধু ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে বিষাক্ত করছে না, একই সঙ্গে বাংলাদেশকেও ঠেলে দিচ্ছে এক গভীর অনিশ্চয়তার দিকে, যেখানে গণতন্ত্রের বদলে টিকে থাকবে উগ্র জাতীয়তাবাদ ও মৌলবাদী শক্তির ছায়া।

ঘরের মাটিতে প্রবল চাপে, প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় এড়িয়ে বিদায়ী ভাষণে ভারত-বিরোধী সুর চড়ালেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস । গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সংখ্যালঘু সুরক্ষা কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মতো মৌলিক ইস্যুতে সম্পূর্ণ ব্যর্থতা ঢাকতেই ইউনুস শেষ ভাষণে আশ্রয় নিলেন আঞ্চলিক রাজনীতি ও পরোক্ষ ভারত-বিরোধী কূটনৈতিক উসকানিতে।

১৮ মাসের শাসনকালে বাংলাদেশে যে গণতান্ত্রিক সুস্থিতিশীলতা ফেরেনি, তা এখন আর গোপন নেই। শেখ হাসিনার পতনের পর যে অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের আস্থা ফেরাবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেই সরকারই বাস্তবে কট্টরপন্থী ইসলামি গোষ্ঠীর হাতে বাংলাদেশকে কার্যত হাতকড়া পরিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর ধারাবাহিক হামলা, মন্দির ভাঙচুর, নির্দিষ্ট নিশানা করে হিংসা ও সামাজিক ভীতির পরিবেশে ইউনুস প্রশাসনের নীরবতা আন্তর্জাতিক স্তরেও প্রশ্ন তুলেছে।

এই পরিস্থিতিতে বিদায়ী ভাষণে আত্মসমালোচনার বদলে ইউনুস বেছে নিলেন পরিচিত কৌশল— ভারতকে ইঙ্গিত করে জাতীয়তাবাদী বাক্যবাণ ছোড়া। তিনি দাবি করলেন, বাংলাদেশ এখন আর কারও নির্দেশে চলে না, তারা নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদা পুনরুদ্ধার করেছে। বাস্তবে এই কথার লক্ষ্য ছিল একটাই— ভারত ।

সবচেয়ে স্পষ্ট উসকানি এল তথাকথিত সাত বোন বা সেভেন সিস্টার্স (Seven Sisters) প্রসঙ্গে। নেপাল ও ভুটানের মতো স্বাধীন দেশের সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলিকে এক সারিতে বসিয়ে ইউনুস যে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক স্বপ্নের কথা বললেন, তা কূটনৈতিক ভাষায় সরাসরি ভারতের অখণ্ডতাকে প্রশ্ন করার শামিল।

ভারতের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলকে আলাদা “আঞ্চলিক ভূখণ্ড” হিসেবে তুলে ধরার এই প্রচেষ্টা নিছক অর্থনীতির কথা নয়, এটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক বার্তা।
আরও বিপজ্জনক ইঙ্গিত এল চিন  প্রসঙ্গে। তিস্তা প্রকল্প, নীলফামারির হাসপাতাল, সব মিলিয়ে ইউনুস স্পষ্ট করলেন যে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কৌশলগত ভারসাম্য ভারতের উদ্বেগকে উপেক্ষা করেই গড়ে উঠবে। বিশেষত তিস্তা নদী ও শিলিগুড়ি করিডরের কাছাকাছি চিনের উপস্থিতি ভারতের নিরাপত্তার দৃষ্টিতে অত্যন্ত স্পর্শকাতর, অথচ ইউনুস সেই বিষয়টিকেই বিদায়ী ভাষণে সাফল্যের গল্প হিসেবে তুলে ধরলেন। এর সঙ্গে যোগ হল সামরিক আধুনিকীকরণের ঘোষণা। “যে কোনও আগ্রাসন মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত”— এই বাক্য ভারত-বাংলাদেশ বাস্তবতায় কোনওভাবেই ছাপোষা মন্তব্য নয়। বাস্তবে বাংলাদেশের একমাত্র সম্ভাব্য “আগ্রাসী” হিসেবে ভারতকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে, যা প্রতিবেশী কূটনীতির ক্ষেত্রে চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ইউনুস কী বলেননি। হিন্দু নির্যাতন নিয়ে একটি শব্দও নেই। প্রশাসনিক ব্যর্থতা, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা, ইসলামি মৌলবাদীদের বাড়বাড়ন্ত, কিছুই নেই তাঁর বিদায়ী ভাষণে। বরং বিদায়ী ভাষণে তিনি নিজেকে তুলে ধরলেন “আত্মমর্যাদা পুনরুদ্ধারের নায়ক” হিসেবে, যেন বাংলাদেশের সমস্ত সমস্যার মূল কারণ বিদেশি প্রভাব, দেশের ভেতরের অরাজকতা নয় বাস্তবে ইউনুসের শাসনকাল বাংলাদেশের জন্য এক অন্ধকার অধ্যায়।

গণতন্ত্র ফেরেনি, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি, বরং রাষ্ট্রের ভিতরে মৌলবাদ আরও শক্তিশালী হয়েছে। আর সেই ব্যর্থতা ঢাকতেই শেষ মুহূর্তে ভারতের বিরুদ্ধে কৌশলী আক্রমণ। সাত বোন, চিন, সামরিক শক্তি— সব মিলিয়ে এক সুপরিকল্পিত জাতীয়তাবাদী নাটক।

বিদায়ী ইউনুস আসলে রেখে গেলেন এক বিপজ্জনক উত্তরাধিকার। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ভাঙন ঢাকতে বিদেশি শত্রু তৈরির রাজনীতি। এই রাজনীতি শুধু ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে বিষাক্ত করছে না, একই সঙ্গে বাংলাদেশকেও ঠেলে দিচ্ছে এক গভীর অনিশ্চয়তার দিকে, যেখানে গণতন্ত্রের বদলে টিকে থাকবে উগ্র জাতীয়তাবাদ ও মৌলবাদী শক্তির ছায়া।

Tags: News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Home Search Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.