Desher Samay
প্রচ্ছদদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

বাংলা নববর্ষ ২০২১: জানুন এর ইতিহাস ও নানা তথ্য

deshersamay

Share article:

দেশের সময়: আজ পয়লা বৈশাখ। নতুন আশার আলো নিয়ে হাজির বাংলা নববর্ষ। পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ-সহ বাঙালি জনজাতি অধ্যুষিত রাজ্য, জেলা বা শহরে এই দিনটি আনন্দ ও উল্লাসের সঙ্গে পালিত হয়।

ইংরেজি ক্যালেন্ডারের ১৪ বা ১৫ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পয়লা বৈশাখ হিসেবে পালিত হয়। ১৪২৭ সনের শেষ দিন চৈত্র সংক্রান্তি, এর পর দিন থেকেই শুরু হবে বাংলা নববর্ষ ১৪২৮। জর্জিয়ান ক্যালেন্ডারের এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময় বাংলা নববর্ষ পালিত হয়। মাস- বৈশাখ ও তারিখ- ১।

কিন্তু কবে থেকে এবং কীভাবে পালিত হতে শুরু করল পয়লা বৈশাখ জানেন কী?

বাংলা সনের প্রবর্তক হিসেবে মোঘল সম্রাট আকবরের নামই বেশি শোনা যায়। তবে অনেকের মতে, বাংলা পঞ্জিকা উদ্ভাবক সপ্তম শতকের রাজা শশাঙ্ক। পরবর্তী কালে সম্রাট আকবর সেটিকে খাজনা ও রাজস্ব আদায়ের উদ্দেশে ব্যবহার করতে শুরু করেন। আকবরের সময় প্রচলিত ক্যালেন্ডারের নাম ছিল তারিখ-এ-এলাহি। ওই ক্যালেন্ডারের মাসগুলি হল, আর্বাদিন, কার্দিন, বিসুয়া, তীর ইত্যাদি। তবে কবে ও কী ভাবে এই নাম পালটে বৈশাখ, জৈষ্ঠ্য, আষাঢ়, শ্রাবণ হল, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। মনে করা হয়, বাংলা বারো মাসের নামকরণ করা হয়েছে বিভিন্ন নক্ষত্র থেকে। যেমন- বিশাখা নক্ষত্র থেকে বৈশাখ, জায়ীস্থা থেকে জৈষ্ঠ্য, শার থেকে আষাঢ়, শ্রাবণী থেকে শ্রাবণ।

ভারতবর্ষে মোঘল শাসনকালে হিজরি পঞ্জিকা প্রচলিত ছিল। এই পঞ্জিকা চাঁদের গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। এর ভিত্তিতেই কৃষি পণ্যের খাজনা আদায় করা হত। কিন্তু হিজরি সন চাঁদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় কৃষি ফলনের সঙ্গে মিলত না। স্বাভাবিক ভাবেই অসময়ে খাজনা দিতে সমস্যায় পড়তেন কৃষকরা।

খাজনা শোধে কৃষকদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সে কারণে  বর্ষ পঞ্জিতে সংস্কার আনেন সম্রাট আকবর। বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফতেহ উল্লাহ সিরাজি সম্রাট আকবরের আদেশে সৌর সন ও হিজরি সন এর ভিত্তিতে বাংলা সন তৈরি করেন। ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দের ১০ মার্চ বা ১১ মার্চ থেকে প্রথম বাংলা সন গণনা করা হয়। তবে আনুষ্ঠানিক ভাবে খাজনা আদায়ে এই গণনা কার্যকর হয়েছিল ১৫৫৬ সালের ৫ নভেম্বর থেকে।

পূর্বে ফসল কাটা ও খাজনা আদায়ের জন্য এই বছরের নাম দেওয়া হয়েছিল ফসলি সন। পরে তা বঙ্গাব্দে পরিণত হয়। তখন চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে খাজনা ও শুল্ক দিতে হতো কৃষকদের। এর পর দিন, পয়লা বৈশাখে জমি মালিকরা নিজের এলাকার অধিবাসীদের মিষ্টি খাইয়ে আপ্যায়ন করতেন। বিভিন্ন উৎসব আয়োজিত হত সেই উপলক্ষে।

তবে হিন্দু সৌর পঞ্জিকা অনুযায়ী বহু শতাব্দী আগে থেকেই প্রচলিত রয়েছে বাংলার ১২ মাস। সৌর বছরের প্রথম দিন আসাম, বাংলা, কেরল, মণিপুর, নেপাল, ওড়িশ্যা, পঞ্জাব, তামিলনাড়ু ও ত্রিপুরার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। আসামে এটি পরিচিত বোহাগ বিহু নামে। পঞ্জাবে পালিত হয় বৈশাখী ও তামিলনাড়ুতে পুঠান্ডু হিসেবে। কেরল ও কর্নাটকে বিশু নামে পালিত হয় নববর্ষ।

Advertisement

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Search Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.