

২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতির অভিযোগে যেতে হয়েছিল জেলে। ১৮ মাস কারাগারে ছিলেন তিনি। দীর্ঘ কাঠখড় পুড়িয়ে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মুক্তি পেয়ে তিনি সপরিবারে সটান চলে গিয়েছিলেন লন্ডনে। এর পরে দীর্ঘ ১৭ বছর ছিলেন দেশছাড়া। বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান ১৭ ফেব্রুয়ারি লিখলেন নতুন অধ্যায়।

এ দিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণ করেন তিনি। তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন।জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই শপথ অনুষ্ঠান হয়। দুই যুগ পরে পদ্মাপারের রাজনীতির রাশ ফের BNP-র হাতে। এই প্রথমবার বাংলাদেশের মন্ত্রিসভার সদস্য হচ্ছেন খালেদার পুত্র।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সরকারে ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। ২০ বছর পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে দলটি। বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় আছেন ৫০ জন। এর মধ্যে ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। টেকনোক্র্যাট তিনজন।
এবারের মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ আছে অনেক, যারা আগে কখনও মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হননি। প্রথমবার নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নেওয়া নেতাও আছেন। মন্ত্রীদের ২৫ জনের মধ্যে ১৭ জনই নতুন মুখ। প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে ২৪ জনই নতুন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এবারই প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য হচ্ছেন।
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রী পরিষদের শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা সহ সারা দেশ বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপির বিভিন্ন শাখা সংগঠনের নেতাকর্মীর সহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ ভিড় জমিয়েছেন।

আজ, মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে দেখা যায় বিএনপির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থান থেকে স্লোগান মুখে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জড়ো হতে। মানিক মিয়া সড়ক থেকে শপথ অনুষ্ঠান দেখার জন্য রাখা হয়েছে বেশ কয়েকটি ডিজিটাল ডিসপ্লে ও সাউন্ড বক্স। অন্যদিকে সকড়ের আরেক প্রান্তে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য সাজানো হয়েছে মঞ্চ।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৫০ জনের মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ২৫ জন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তিন মহিলা। ফারজানা শারমিন পুতুল এবং শামা ওবায়েদকে করা হয়েছে প্রতিমন্ত্রী। আফরোজা খানম রিতা অবশ্য পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, এই মন্ত্রিসভার একমাত্র সংখ্যালঘু মন্ত্রী হলেন নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি মাগুরা-২ আসন থেকে জয়ী হয়েছেন। গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বেয়াই তিনি। ছাত্রজীবন থেকেই সক্রিয় ভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ৭৭-এর এই নেতা। এরশাদের জমানাতে তিনি ছিলেন বাংলাদেশের মন্ত্রী।
২০২৪ সালের অগস্ট মাসে বাংলাদেশে কোটা বিরোধী আন্দোলন মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব আঁচ করতে ব্যর্থ হয় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। ফলস্বরূপ ব্যাপক আন্দোলনে কুর্সি ছাড়তে হয় হাসিনাকে। এর পরে অন্তর্বর্তী সরকার গড়া হয়েছিল, যার মাথায় ছিলেন শান্তিতে নোবেলজয়ী, অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস। গত ১৮ মাস ধরে তিনিই সামলাচ্ছেন পদ্মাপারের শাসনভার। এ বার সাধারণ মানুষের ভোটে জয়ী হয়ে সরকার গড়ছে BNP।

তারেক শপথ নেওয়ার আগেই দাবি করেছিলেন, পিন্ডি বা দিল্লি নয়, তাঁর কাছে প্রাধান্য পাবে বাংলাদেশ। মসনদে বসার পরে তারেকের বিদেশনীতি কী হতে চলেছে? এখন সব নজর সেই দিকেই।



