Desher Samay
প্রচ্ছদকলকাতাজেলাপশ্চিমবঙ্গউত্তরবঙ্গদেশবাংলাদেশআন্তর্জাতিকই-পেপারফটো গ্যালারিসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউব

বনগাঁ উত্তর ও দক্ষিণ দুই কেন্দ্রে তৃণমূলের ভরাডুবির রহস্য কী ? খোঁজ নিল দেশের সময়

deshersamay

Share article:

গেরুয়া ঝড়ে ভেসে গিয়েছে বনগাঁ মহকুমার মতুয়াগড়ের চার বিধানসভা কেন্দ্রই। এলাকায় কান পাতলে উঠে আসছে বেশ কয়েকটি কারণ। তার মধ্যে অন্যতম, নির্বাচনের কয়েক মাস আগে বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যানকে সরিয়ে দেওয়া। আর দ্বিতীয়টি একসময়ে বনগাঁর দাপুটে তৃণমূল নেতার মেয়েকে প্রার্থী করা।

২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের মাস তিনেক আগে আচমকাই বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল শেঠকে সরিয়ে দেয় তৃণমূল।গোপালের বাবা প্রয়াত ভূপেন শেঠের প্রতি বনগাঁর মানুষের আবেগ রয়েছে। নির্বাচনের আগে দু’বার বনগাঁয় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও ভূপেন শেঠের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের স্মৃতিতারণ করেন। কিন্তু ভোটের মুখে পদ থেকে গোপালকে সরিয়ে দেওয়া তাঁর অনুগামী ও তৃণমূলের একটা অংশ ভালোভাবে নেয়নি। পাশাপাশি নতুন চেয়ারম্যানের শপথের দিন দলের কর্মী থেকে কাউন্সিলাররা যে ভাবে প্রকাশ্য রাস্তায় ডিজে বাজিয়ে আবির মেখেছেন, গঙ্গাজল দিয়ে পুরসভা ধুয়েছেন, সেটাও বনগাঁর মানুষ পছন্দ করেনি। এর ফলে দলের একটি অংশ বসে যাওয়ায় তার প্রভাব বনগাঁ উত্তরের ভোটবাক্সে পড়েছে বলে মত তৃণমূলের একাংশের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূলের এক নেতার কথায়, ‘কোনও পুরসভার চেয়ারম্যানই হলেন সংশ্লিষ্ট পুরসভার মুখ। ভোটের মুখে এ ভাবে চেয়ারম্যান বদল করার প্রভাব এসে পড়েছে দলের বিরুদ্ধে।’ তৃণমূলের বনগাঁ জেলার সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘চেয়ারম্যান বদল দলের সিদ্ধান্ত। পরাজয়ের কারণ পর্যালোচনা করা হবে।’

নির্বাচনের আগে সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা ভোটের প্রচার করবেন, এটাই দস্তুর। কিন্তু এর উল্টো ছবি দেখা গিয়েছে বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রে। প্রচারের প্রথম দিকে পুরসভার একাধিক ওয়ার্ডে প্রচারে বেরিয়ে তৃণমূল কর্মী ও মহিলাদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়াকে। শাসক দলের মহিলা ব্রিগেডের কর্মীদের সামনে রেখে লাগাতার তাঁর প্রচারে বাধা দিয়েছেন তৃণমূলের কয়েকজন কাউন্সিলার।

অশোক কীর্তনিয়ার কথায়, ‘প্রচারে যে সব ওয়ার্ডে আমাকে বাধা দেওয়া হয়েছে, সেখান থেকে দলের কর্মীরা অসম সাহসে লড়াই করেছে। আমরা রাজনৈতিক ভাবে প্রত্যাঘাত করেছি। বনগাঁর মানুষ পুরসভার ২২টি ওয়ার্ডেই বিজেপিকে জিতিয়েছেন।’

এ বার বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী করা হয় বনগাঁ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্যের মেয়ে ঋতুপর্ণাকে। শঙ্করের দাপটে এক সময়ে বনগাঁয় বাঘে-গোরুতে একঘাটে জল খেত, কথাটা মানুষের মুখে মুখে ফিরত। চেয়ারম্যান থাকাকালীন শঙ্করের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছিলেন প্রাক্তন চেয়ারম্যান গোপাল শেঠ। সেই শঙ্করের মেয়েকে প্রার্থী করা সাধারণ মানুষ তো বটেই, দলের অনেকেরই ক্ষোভের কারণ হয়েছে। ঋতুপর্ণার অধিকাংশ প্রচারেও হাজির থাকতেন শঙ্কর। গোপালনগরের এক মতুয়া তৃণমূল নেতা বলেন, ‘শঙ্কর আঢ্যর ইমেজ তো ভালো নয়। দল প্রার্থী করেছে তাঁর মেয়েকে। সেখানে আমাদের মতো কর্মীদের কিছু বলার থাকে না। তবে এর প্রভাব পড়েছে ভোটের বাক্সে।’

চাঁদপাড়া এলাকার এক তৃণমূল নেতা জানান, দল প্রার্থী করেছে শঙ্করের মেয়েকে । আমরা তখনই বুঝেছিলাম গো হারা হারব । অর্ধেক মানুষ আতঙ্কেই বিজেপিকে বেছে নিয়েছে এবার । আরও এক কর্মীর কথায় , প্রচারে পরিশ্রম করেছি ,পারিশ্রমিকও পেয়েছি পকেট ভড়ে । তবে দাপুটে নেতার পরিচয়ে মোনোনিত প্রার্থীর প্রতি মানুষের সমর্থন ছিল না বুঝতে অসুবিধা হয়নি । দলের নির্দেশে মুখ বুঝে কাজ করেছি । এই হার প্রত্যাশিত ।

Tags: News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Home Search Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.