

দেশের সময় , বনগাঁ: পারিবারিক অশান্তির জেরে প্রকাশ্য রাস্তায় স্ত্রীকে এলোপাথাড়ি ভাবে কোপানোর অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। দা-এর আঘাতে স্ত্রীর বাঁ হাতের কব্জি, কান কাটা গিয়েছে। মাথা থেকে শরীরের একাধিক অংশ ভয়ঙ্কর ভাবে জখম হয় লতিকা শিকদার নামে ওই মহিলার। বুধবার সকালে হাড়হিম করা ঘটনাটি ঘটেছে গোপালনগর থানার বেলতা ব্রিজে।

পুলিশ গিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই মহিলাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে বনগাঁ হাসপাতালে। পরে তাঁকে রেফার করা হয় কলকাতায়। ঘটনার পরেই চম্পট দিয়েছে স্বামী শুকদেব শিকদার। জখম গৃহবধূর শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতের নাম দুলালি শিকদার। পলাতক অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

বনগাঁর চৈতিপাড়ায় বাড়ি শুকদেবের। পেশায় দিনমজুর শুকদেব কথা বলতে পারে না। প্রায় ১১ বছর আগে লতিকার সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। দম্পতির ১০ বছরের একটি ছেলেও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই দম্পতির মধ্যে পারিবারিক অশান্তি ছিল। এই নিয়ে পাড়ায় সালিশি সভাও হয়েছিল। কিন্তু অশান্তি কমেনি। অশান্তির জেরেই গত কয়েক বছর ধরে ছেলেকে নিয়ে আলাদা থাকতেন লতিকা। দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালান লতিকাও।

এ দিন সকালে রান্না করে লতিকা কাজে বের হয়েছিলেন। বনগাঁ-গোপালনগর রাস্তার উপরে বেলতা ব্রিজের উপর দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। আগে থেকে পরিকল্পনা করে ধারালো দা নিয়ে সাইকেলে চেপে ওই ব্রিজের একদিকে হাজির ছিল শুকদেব। লতিকা আসতেই আচমকাই পিছন থেকে দা নিয়ে স্ত্রীর উপর চড়াও হয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে শুকদেব।

দা-এর আঘাতে লতিকার বাঁ হাতের কব্জি কেটে ছিটকে রাস্তায় পড়ে যায়। ডান হাতের একটা আঙুলও কেটে গিয়েছে। মাথায় আঘাতের ফলে একটা কান কেটে গিয়েছে। শরীরের একাধিক অংশ কেটে রক্তাক্ত অবস্থায় ব্রিজের উপরেই লুটিয়ে পড়েন লতিকা। সেই সময়ে ব্রিজের উপর দিয়ে গাড়ির যাতায়াত থাকলেও পথচলতি মানুষের সংখ্যা কম ছিল। বিষয়টি নজরে আসতেই স্থানীয় কয়েকজন মহিলা বাঁচাতে এগিয়ে আসেন লতিকাকে। অভিযোগ, ধারালো দা নিয়ে তাঁদেরও কোপানোর চেষ্টা করে শুকদেব। চিৎকারে বেলতা গ্রামের বাসিন্দারা জড়ো হওয়ার আগেই সাইকেল নিয়ে চম্পট দেয় শুকদেব।
স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা লতিকাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনও গাড়ির চালক তাতে সাড়া দেননি। এই অমানবিকতায় দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় পড়ে থাকে জখম লতিকা। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে গোপালনগর থানার পুলিশ তাঁকে নিয়ে আসে বনগাঁ হাসপাতালে। কিন্তু অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক হওয়ায় তাঁকে কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে রেফার করা হয়।

এই ঘটনায় লতিকার শাশুড়ি দুলালি শিকদারকে গ্রেপ্তার করেছে গোপালনগর থানার পুলিশ। স্থানিয় বাসিন্দা নারায়ণ বিশ্বাস বলেন, ‘বহুদিন ধরেই পারিবারিক অশান্তি ছিল ওদের। গ্রামে সালিশি সভা করে মিটমাটের চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু লাভ হয়নি।’ প্রত্যক্ষদর্শী কৃষ্ণ রায় বলেন, ‘চিৎকার শুনে এসে দেখি ওই মহিলার বাঁ হাতের কব্জি, কান কেটে রাস্তায় পড়ে রয়েছে। আমরা অনেক চেষ্টা করেছিলাম একটা গাড়ি থামিয়ে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি।’




