Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

পবিত্র রমজান মাসে সম্প্রীতির ছবি ,হিন্দু পড়শির দেহ কাঁধে নিয়ে শ্মশানযাত্রী সংখ্যালঘুরা

deshersamay

Share article:

পবিত্র রমজান মাস এখন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রোজা রাখছেন। তার মধ্যেই হিন্দু প্রতিবেশীর মৃতদেহ  কাঁধে নিয়ে শ্মশানযাত্রী হলেন সংখ্যলঘুরা। হিন্দুদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মৃতদেহ সৎকার করে বাড়ি ফিরলেন তাঁরা। এমনই সম্প্রীতির ছবি ধরা পড়ল উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরের পানশিলা এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দত্তপুকুরের কোটরা পঞ্চায়েতের পানশিলা গ্রামে বাড়ি বাসুদেব নন্দীর। বাড়িতে তাঁর স্ত্রী এবং এক মেয়ে রয়েছে। দু’জনেই মানসিক ভারসাম্যহীন। গত কয়েকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন বাসুদেব। দীর্ঘদিন ধরে হাসপতালে  তাঁর চিকিৎসা চলছিল। সম্প্রতি তিনি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন। শনিবার তাঁর মৃত্যু হয়। কিন্তু তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় বসুদেবের মৃতদেহ কী ভাবে সৎকার হবে, তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। তখনই ত্রাতার ভূমিকায় এগিয়ে আসেন এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষরা। তাঁদের সাহায্য নিয়েই শেষপর্যন্ত বাসুদেবের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দত্তপুকুরের পানশিলা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরেই দুই সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করেন। যে কোনও বিপদে আপদে তাঁরা একে অপরের পাশে এসে দাঁড়ান। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, রমজান মাস শুরু হয়ে যাওয়ায় এখন সংখ্যালঘু পাড়ায় অধিকাংশ মানুষ রোজা রাখছেন। সারাদিন উপবাসের পরে সন্ধ্যায় ইফতার  করেন তাঁরা। কিন্তু বাসুদেবের মৃত্যুর পরে তাঁকে কে বা কারা শ্মশানে নিয়ে যাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। বিষয়টি কানে আসা মাত্রই সাহায্যের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন রবিউল্লাহ সর্দার, মঞ্জুর শেখ, আলাউদ্দিন আলিরা।

গ্রামের হিন্দুদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংখ্যালঘুরাও হিন্দুর মৃতদেহ নিয়ে শ্মশানযাত্রী হন। গ্রামের রাস্তা ধরে হিন্দুরা হারমোনিয়াম, করতাল বাজিয়ে হরিনাম কীর্তন করছেন। তাঁদের পাশে গলায় গামছা জড়িয়ে বাসুদেবের অন্তিম যাত্রায় শামিল হলেন তাঁরা। শেষে বসুদেবের দেহ নিয়ে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ পৌঁছলেন দত্তপুকুরের কালীমন্দির সংলগ্ন শ্মশানে । সেখানেই তাঁকে দাহ করা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যখন সাম্প্রদায়িক হানাহানি ঘটছে, তখন হিন্দু পড়শির বিপদে পাশে দাঁড়িয়ে সম্প্রীতির নজির গড়লেন ওঁরা।

এ প্রসঙ্গে কোটরা পঞ্চায়েতের প্রধান রবিউল্লাহ সর্দার বলেন, ‘বাসুদেব নন্দী এই এলাকার দীর্ঘদিনের বাসিন্দা। উনি অসুস্থ থাকাকালীন গ্রামের মুসলিম ভায়েরা হাসপতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। বাসুদেবের স্ত্রী ও মেয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন। দেহ সৎকারের ব্যাপারে তাঁদের সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন আমাদেরকে। রোজা চললেও মানবিকতার টানে এলাকার হিন্দুদের সঙ্গে আমরাও তাঁর শ্মশানযাত্রায় শামিল হয়েছি। আমরা আমাদের এলাকায় সম্প্রীতি বজায় রাখতে চাই।’

স্থানীয় বাসিন্দার কথায় , ‘গ্রামে ৭৫ শতাংশ মানুষ মুসলিম সম্প্রদায়ের। আমরা দুই সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করি। বাসুদেব এ দিন সকালে মারা গিয়েছেন। ওনার চিকিৎসার ব্যাপারেও খুবই সাহায্য করেছেন এলাকার সংখ্যালঘুরা। ওনার মৃত্যুর পরেও আমরা সকলে মিলে তাঁকে শ্মশানে নিয়ে গিয়ে দাহ করেছি।’

Advertisement
Tags: News

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন