প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News
•চোরবাগানের পর আপাতত বন্ধ হয়ে গেল শহরের একের পর এক বড় পুজোর দরজা ,আহতদের দেখতে হাসপাতালে শাহ •চোরবাগানে বিপর্যয়:পুজো কমিটির সম্পাদক সহ গ্রেফতার ৭! ব্যারিকেড নির্মাণ থেকে VIP পাস বিলিতে গাফিলতির অভিযোগ •সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে ১৯ জনের মৃত্যু!  মৃতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ, হাইকোর্টের বিচারপতির তত্ত্বাবধানে তদন্ত, ঘোষণা শুভেন্দুর •১০০ শতাংশ শুল্ক নিয়ে ভারতকে স্বস্তি দিলেন ট্রাম্প ! নিজের আইন নিজেই তুলে নিয়ে আপাতত পিছু হটলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট •লোকালে ট্রেনে সওয়ার দেবী দুর্গা, টিকিট কেটে শান্তিপুর থেকে বনগাঁয়, আজ দেবীর বোধন, মহাষষ্ঠীতে সপরিবারে উমার পিতৃগৃহে আগমন : দেখুন ভিডিও

ট্রাভেলগ: জলের গভীরে তখন আবারও অন্য মানুষের মুখ ভাসছে – জয়দীপ রায়

deshersamay

Share article:

ঘুম ভাঙতেই দেখি রাস্তার পাশে পদ্মবিল। ফুল ফুটে রয়েছে। পাতা ভেসে রয়েছে। আকাশ গুলে গেছে। জলে। আমি একটু ঝুঁকে, মুখ বাড়িয়ে দেখতে গেলাম। দেখি নিজের মুখ দেখা যাচ্ছে জলে। কিন্তু আস্তে আস্তে সে মুখ জলে গুলে যাচ্ছে। বিসর্জনের পরে যেমন মাটির প্রতিমা গুলে যায়। গলে যায়। আমি ঝট করে নিজের ছায়া সরিয়ে নিলাম।


ঘুম কাটার আগেই এরকম গলে গিয়ে জলে গুলে গিয়ে লাভ নেই। আমি একটু নেমে জলের পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। হাঁটুমুড়ে বসে এক আঁজলা জল নিলাম। পদ্মফোটা জল। ঝাপটা মারলাম মুখে। মুখভর্তি ময়লা ধোয়ার জন্য আঙুল ডলে ডলে ঘসতে লাগলাম। ফেসওয়াশ মাখার মত করে। দেখি প্রচুর রং বেরোচ্ছে মুখ থেকে। আমি আবার আঁজলা ভরে জল নিয়ে ঝপাস্ করে মুখে মারলাম। জোরে। যেন ওটা অন্য কারও মুখ। আবার ঘসতে লাগলাম আঙুল দিয়ে। চেপে চেপে। এবারও প্রচুর রং বের হল। অন্য রং। আগে কখনও দেখিনি এমন রং।


এইভাবে এক একবার এক আঁজলা জলে নিজেকে ধুয়ে ফেলে যখন জলে ডুবে থাকা প্রতিবিম্বের দিকে চাই, দেখি অন্য মুখ। আবার ধুয়ে ফেলি যত্নে মুখমন্ডল। নতুন রং বের হয় মুখ থেকে। জলের গভীরে তখন আবারও অন্য মানুষের মুখ ভাসছে। উপরের জল হাওয়ায় তিরতির করে কাঁপে। আমারও ভিতরটা কেঁপে কেঁপে ওঠে। কত রং মেখেছি আজন্মকাল ধরে! কত পরতের পরে পরত। সবই নতুন নতুন রং। এক একটা করে লেয়ার ধুয়ে ফেলি, এক একটা করে অন্য মানুষ বেরিয়ে আসে। একটাও আমি না। কিন্তু সব মুখই আমার।


এইরকম চলতে চলতে দিন শেষ হয়ে আসে। আলো কমে আসে। কত মানুষ আমার মুখ থেকে নেমে জলে গুলে যায়। কত পুরুষ আমার মুখের আদল নিয়ে পদ্মবনের তলায় সাঁতার কাটে। কত যুবক আমার মধ্যে থেকে বেরিয়ে নীলপদ্ম খুঁজতে লেকে নেমে যায়। এদের কাউকেই আমি চিনতে পারিনা। আমি শুধু অন্ধকারের খোঁজে পাড়ে বসে থাকি। নিকষ অন্ধকারে আমার মুখটা কোনও কোনও দিন হিংস্র হয়ে ওঠে। ক্রুর হয়ে যায়। সেই মুখটাকে ঘাড় থেকে নামানোর জন্য, জলে গুলে দেবার জন্য আমি আলোমুখ করে অন্ধকারের খোঁজ করতে করতে দিন শেষ করে দিই।
সন্ধ্যে হলে একটা গোটা চাঁদ ওঠে আকাশজুড়ে।

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন