প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News
•‘আপনারা বাংলা নিয়েছেন, আমরা দিল্লি নেব’,জ্ঞানেশ-ইস্যুতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি মমতার! বুধে থাকবেন ইন্ডিয়া বৈঠকে •বৃষ্টি কি এ বার পিছু ছাড়বে না?  কী বলছে হাওয়া অফিস? নিম্নচাপ কেটে গেলেও স্বস্তি নেই! ছাতা ছাড়া বেরলেই বিপদ, আজও কলকাতায় ভারী বর্ষণ, জেলায় জেলায় বাড়তি সতর্কতা জারি •ব্যাপক রদবদল, পুরভোটের আগে সংগঠনের খোলনলচে বদলে ফেলল বিজেপি , সরানো হলো শর্বরীকে, বাদ অগ্নিমিত্রা- জগন্নাথ, কে কোন পদে এলেন? •‘একতরফা’ সিদ্ধান্ত বাতিলের আর্জি, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা •‘সরকার সরাসরি ধান কিনবে কৃষকদের থেকে’, চাষিদের পাশে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

জীবন-পথের আশেপাশে

deshersamay

Share article:
মলয় গোস্বামী

মাঝে মাঝে একটা বাঁশি বেজে ওঠে । বাঁশিটা বাইরের , কিন্তু সুরটা যেন ভেতরের । তখন বেরিয়ে পড়তে ইচ্ছে করে । মনে হয় যাই । তবে ফিরে যেতে ইচ্ছে করে পূর্বের দিনগুলোতে । টাইম মেশিনে চেপে ।এখন ঘর থেকে বেরুনো বারন ।

ত্রিকোণ পার্ক- ছবি-পার্থ সারথি নন্দী,

কতদিন যে আমার শহরকে দেখিনি ! কেমন আছে চাকদা রোড ? কেমন আছো তুমি যশোর রোড ? ত্রিকোণ পার্ক ? আমাদের ব্রিজগুলিই বা আছে কেমন !    সন্ধ্যা নেমেছে । ভেতরে বাঁশির সুর বেজে উঠল … চলো যাই চলো যাই । সবাইকেএকবার দেখে আসি । … লুকিয়ে বেরিয়ে পড়লাম । সাইকেল চেপে । মুখে মুখোশ । পকেটে স্যানিটাইজার । এ কী শহর আমার !  প্রায় জনহীন । কিন্তু রাস্তায় আলো । অল্প রাতেই সারসার বন্ধ দোকান পাট । দু একটা মোটরবাইক যাচ্ছে । দুচারজন মানুষ এদিক ওদিক যাচ্ছে । চিনতে পারছিনা । ওদেরও মুখ ঢাকা । মনে হচ্ছে লজ্জায় আমরা মুখ ঢেকেছি ।

বনগাঁ হাইস্কুল মোড়।

শুনশান রাখালদাস সেতুর ওপর উঠতেই একজন মুখঢাকা আমার সমবয়স্ক এগিয়ে এসে বললেন , লজ্জায় মুখ ঢাকতে  হচ্ছে আমাদের । প্রকৃতিকে এত মেরেছি আমরা ! দেখুন , এখন কত পরিষ্কার চারদিক । … বলেই লোকটা যেন উধাও হয়ে গেল ।তাকিয়ে দেখি সত্যিই , যেন ষাটের দশকের রাত্রির বনগাঁ শহর ।

তবে রাস্তায় এত আলো ছিলনা । তা কী হয়েছে ? এখন আলো আছে মানুষ নেই । যারা ক’জন আছি , তারা লজ্জায় মুখ দেখাতে পারছেনা !    ফিরে আসছি । একটা ছোট্ট দোকানের ঝাঁপের ফাঁক দিয়ে মনমরা আলোর রেখা বেরিয়ে একটা গলিতে পড়ছে । রাস্তা দিয়ে একটা পুলিশের গাড়ি চলে গেল । ওই আলোর রেখার ওখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে একজন নারী । হাত নেড়ে আমায় ডাকলো । মুখে মুখোশ । সাইকেল হাঁটিয়ে কাছে গেলাম । চেনা চেনা লাগছে । বুঝতে পারছি না ।  নারীটি তার ডান হাতখানা সামনে বাড়িয়ে দিয়ে বলল , একটু হাত ধরে এগিয়ে দেবেন আমাকে ? গোড়ালিতে খুব লেগেছে ।  ভাবলাম , সাহায্য করব কী? আর ওই হাত ধরা ঠিক হবে!  কিন্তু বাড়ানো হাতটি আমার খুব যেন চেনা । অবশেষে সঙ্কোচেই পকেট থেকে স্যানিটাইজার বের করে, হাতে মেখে নিয়ে হাতটি ধরে , অন্য হাতে সাইকেল নিয়ে এগোতে থাকি । কিন্তু এ হাতের ছোঁয়া এত চেনা লাগছে কেন !     রাস্তা আরো সুনসান । হাঁটতে হাঁটতে নারী কন্ঠটি বলে ওঠে , অলিকে তুমি চিনতে পারলেনা !  মাথা যেন ফেটে গেল আমার । আলোকিত আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি সেখানে তারার বদলে শতসহস্র মুখোশ উঠেছে ।   এ লজ্জা কি আমাদের সবার নয় ।

শুনশান বনগাঁ মতিগঞ্জ-ছবি -পার্থ সারথি নন্দী৷

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন