Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

চিকিৎসার গাফিলতিতে বাদ গেল চোখ!অভিযোগ মেডিক্যাল কলেজের বিরুদ্ধে

deshersamay

Share article:

দেশের সময় ওয়েবডেস্কঃ কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের চক্ষু বিভাগের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠল৷রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অফ অপথালমোলজি-র বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনেছেন বারুইপুরের বাসিন্দা রাজা নস্করের (২৬) পরিবার এবং সহকর্মীদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, চিকিৎসার গাফিলতির জন্যই ডান চোখ হারাতে হয়েছে রাজাকে।

আমহার্ট স্ট্রিটের একটি ছাপাখানায় কাজ করতেন ছাব্বিশের যুবক রাজা। গত ২৫ নভেম্বরে সোমবার তাঁর ডান চোখে আচমকাই একটি পেরেক গেঁথে যায়। তাড়াতাড়ি মেডিক্যাল কলেজে রাজাকে নিয়ে আসেন তাঁর সহকর্মীরা। তাঁরা জানিয়েছেন, সেদিন রাতেই অপারেশন হয় রাজার।

কিন্তু এরপর বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় রাজার ডান চোখে তখনও পেরেক গেঁথে আছে। ইউএসজি-তে সেটা ধরা পড়েছে। চিকিৎসকরা পেরেক বার করে দেন। কিন্তু ততক্ষণে মারাত্মক ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ইনফেকশন। হাসপাতালের তরফে জানানো হয় বাদ দিতে হবে রাজার ডান চোখ। এরপর শুক্রবার বাদ দেওয়া হয় রাজা নস্করের চোখ।

এই ঘটনায় বেজায় ক্ষুব্ধ রাজার পরিবার এবং সহকর্মীরা। এক সহকর্মীর কথায়, “সোমবার বিকেলে সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ওর চোখে পেরেক ঢুকে যায়। আমহার্ট স্ট্রিট থেকে যেটুকু সময় লাগে মেডিক্যাল আসতে ঠিক ততটুকুই দেরি হয়েছিল রাজাকে হাসপাতালে আনতে। কিন্তু কী লাভ হল, সময়ে এসেও সঠিক চিকিৎসা পেল না ছেলেটা।”

তিনি আরও বলেন, “চোখে পেরেক গেঁথে থাকা অবস্থায় ডাক্তাররা প্রথমে সেলাই করে দিল, অপারেশন করে দিল। একবার ভাল করে দেখলও না যে সব ঠিক আছে কিনা। পরে মারাত্মক ইনফেকশন হওয়ায় বলছেন চোখ বাদ দিতে হবে। অথচ সোমবার বা মঙ্গলবার চোখের ইউএসজি হল না। বুধবার সেই পরীক্ষা করে ডাক্তাররা জানতে পারলেন যে চোখে পেরেক গেঁথে আছে। এই পরীক্ষাটা দু’দিন আগে করলে হয়তো ছেলেটার চোখটা বেঁচে যেত।”

এর পাশাপাশি হাসপাতালে সঠিক যন্ত্রপাতি এবং ডাক্তার না থাকার অভিযোগও তুলেছেন রাজার সহকর্মী এবং পরিবারের সদস্যরা। সকলেই বলছেন, “আমরা সাধারণ মানুষ। এতকিছু জটিল ডাক্তারি বুঝি না। ওঁরা না পারলে আগেই বলতে পারতেন। আমরা অন্য কোথাও চেষ্টা করতাম। হয়তো রাজা অন্ধ হয়ে যেত কিন্তু এভাবে চোখটা তো বাদ দিতে হত না। অভাবী ঘরের ছেলে রাজা। পরিবারটার কী হবে ভাবতে ভয় লাগছে।”

মেডিক্যাল কলেজের চক্ষু বিভাগের প্রধান ডক্টর অসীম ঘোষ জানিয়েছেন, সোমবার রাজা নস্কর ভর্তি হওয়ার পর প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। ইনফেকশন যাতে দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য প্রয়োজনীয় ইনজেকশন এবং অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়েছিল। অসীমবাবুর কথায়, “চোখে যে জিনিসটা ঢুকেছিল সেটা কর্নিয়া-সহ চোখের অধিকাংশ সূক্ষ্ম জায়গায় বেশ জোরে আঘাত করে।

আমরা প্রথমে সেইসব জায়গা যতটা সম্ভব সেলাই করে মেরামতের চেষ্টা করি। রোগী সোমবার বিকেলে ভর্তি হওয়ায় সেদিন ইউএসজি করা সম্ভব হয়নি, কারণ তখন আউটডোর বন্ধ থাকে। পরের দিন সকালেই ইউএসজি করে দেখা যায় চোখের আঘাত বেশ মারাত্মক। তখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল ইনফেকশন যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখা।”

ডক্টর ঘোষ আরও বলেন যে, “প্রাথমিক ভাবে যতটা রিপেয়ার করা সম্ভব সেটাই করা হয়েছিল। তবে চোখের ভিতরে ঢুকে যাওয়া জিনিস বের করার জন্য যে ডেফিনিটিভ সার্জারি করতে তার জন্য ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করতেই হত। সেই মতোই মঙ্গলবার ইউএসজি হওয়ার পর সার্জারি হয়। তবে ইনফেকশন রোধ করার সবরকম চেষ্টা করার পরেও সংক্রমণ আটকানো যায়নি।

এটা দুর্ভাগ্যজনক যে আমরা ছেলেটির দৃষ্টি ফিরিয়ে দিতে পারিনি। কিন্তু চোখ বাদ না দিলে এই ইনফেকশন ওর ব্রেনে প্রভাব ফেলতে পারত। যার ফলে হয়তো মৃত্যুও হতে পারত রোগীর। তাই প্রাণ সংশয় এড়াতেই চোখ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।”

Advertisement

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন