Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

গুলিতে জখম এক পুলিশ অফিসার-সহ চারজন,ফের উত্তপ্ত সন্দেশখালি

deshersamay

Share article:

দেশের সময়: ফের শিরোনামে সন্দেশখালি। শুক্রবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ টহলদারি চালানোর সময় দুষ্কৃতীদের হামলার মুখে পড়ে পুলিশ। গুলিতে জখম হয়েছেন এক আধিকারিকসহ চারজন। সন্দেশখালি থানার খুলনা গ্রামে এই ঘটনা ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

গুলিতে জখম সন্দেশখালি থানার সাব ইন্সপেক্টর অরিন্দম হালদারকে খুলনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের মধ্যে দু’জনকে কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বসিরহাটের পুলিশসুপার কঙ্করপ্রসাদ বারুইয়ের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী এলাকায় টহল দিচ্ছে।

পুলিশসূত্রে জানা গেছে, এ দিন রাতে টহলদারিতে বেরিয়ে খুলনা গ্রামের আতাপুর ফেরিঘাটের কাছে বেশ কয়েকজনকে রাস্তার উপর বসে মদ খেতে দেখে পুলিশ। তাদের সেখান থেকে উঠে যেতে বললে শুরু হয় বাদানুবাদ। তারপরেই পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি বোমা ছোড়া শুরু করে দুষ্কৃতীরা। গুলি লাগে সাব ইন্সপেক্টর অরিন্দম হালদার, সিভিক ভলান্টিয়ার বাবুসোনা সিংহ ও ভিলেজ পুলিশ বিশ্বজিৎ মাইতির গায়ে। তাঁদের সঙ্গে থাকা আরও এক গ্রামবাসীও গুলিতে জখম হন। ওই ব্যক্তি সরকারিভাবে না হলেও ভিলেজ পুলিশেরই কাজ করেন বলে জানা গেছে। বোমাও ছোড়ে দুষ্কৃতীরা। গুলি বোমার শব্দ পেয়ে ছুটে আসেন আশেপাশের মানুষ। তাঁরাই আহত পুলিশকর্মীদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দুজনকে পাঠানো হয় কলকাতায়।

খবর পেয়ে সন্দেশখালি, হাড়োয়া, মিনাখাঁ থানা ও বসিরহাট পুলিশ লাইন থেকে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। দুষ্কৃতীদের খোঁজে শুরু হয় তল্লাশি। শনিবার ভোর রাতে ঘটনায় মূল অভিযুক্ত এলাকার দুই কুখ্যাত দুষ্কৃতী কেদার সর্দার ও বিধান সর্দারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই দু’জনের বিরুদ্ধেই খুন-ধর্ষণ-তোলাবাজি ও ডাকাতির একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশের দাবি।

শুক্রবার রাতে কী কারণে পুলিশের উপর হামলা হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা জানান, এই হামলা পূর্ব পরিকল্পিত কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বছর কয়েক ধরে সুন্দরবনের ত্রাস শেখ শাজাহানের কাছের লোক শাসক দলের ঘনিষ্ঠ কেদার সর্দার। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর একদা সিপিএম ঘনিষ্ঠ শেখ শাজাহান তৃণমূলে যোগ দেন। এ বারের লোকসভা ভোটের ফল বেরোনোর পর গত ৮ই জুন বিজয়মিছিলকে ঘিরে সংঘর্ষে সন্দেশখালিতে খুন হন দুই বিজেপি কর্মী প্রদীপ মণ্ডল ও সুকান্ত মণ্ডল। নিখোঁজ হয়ে যান দেবদাস মণ্ডল নামে আরও এক বিজেপি কর্মী। সে ঘটনায় তোলপাড় হয় রাজ্য রাজনীতি। ঘটনায় নাম জড়ায় শেখ শাজাহান ও বাবু মাষ্টারের।

গ্রামের মানুষ জানান, বাম আমলে সুন্দরবনের অলিখিত শাসন ক্ষমতা থাকলেও কোনও পদ পাননি তাঁরা। তৃণমূল কংগ্রেসের ছত্রছায়ায় এসে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচিত হন বাবু মাষ্টার। শেখ শাজাহান তাঁরই সাকরেদ। আর খুলনা অঞ্চল শেখ শাজাহানের হয়ে দেখাশোনা করে কেদার সর্দার ও তার ভাই বিধান সর্দার। বিভিন্ন সমাজবিরোধী কাজকর্মের জন্য এর আগেও বহুবার জেলে গিয়েছে দুই ভাই।

তবে পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় তাঁদের দলের কেউ কোনওভাবে জড়িত নয় বলেই জানিয়ে দিয়েছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব।

Advertisement

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন