Saturday, May 30, 2026 | e-Paper
Desher Samay
HomeARTBANGLADESHBENGALIBUSINESSDISTRICTE PAPEREDITOR'S CHOICEEDITORIALENGLISHENTERTAINMENTFASHION TIMEFeaturedFEATURESHEALTH IS WEALTHINDIAINDIAKOLKATALIVEMAGAZINENEWSOPINIONPHOTO GALLERYPSN Photography CONTESTSPORTSTRAVELOGUEUTTARBANGA উত্তরবঙ্গViral VideoWEST BENGALWORLDYOUTUBE

‘গায়ে ভর্তি ডিম,সোনারপুরে জামা ছিঁড়ল অভিষেকের , চলল ‘চোর’ স্লোগান !দেখুন কী অবস্থা করেছে’

deshersamay

Share article:
হীয়া রায় , দেশের সময়

সোনারপুরে ঢুকতেই তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে বিক্ষোভ। তাঁর উদ্দেশে ‘চোর’ স্লোগান দেওয়া হলো। ছোড়া হলো ডিমও। বাঁচতে মাথায় হেলমেটও পরতে হলো। পরে রাস্তায় তাঁকে মারধরেরও অভিযোগ উঠল। ছিঁড়ে দেওয়া হলো তৃণমূল নেতার জামাও।

শনিবার বিকেলে সোনারপুরে নিহত দলীয় কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে যান অভিষেক। পথে কামালগাছির কাছে তাঁকে কালো পতাকা দেখিয়ে একপ্রস্ত বিক্ষোভ চলে। তা উপেক্ষা করেই অভিষেক গাড়ি করে পৌঁছে যান গন্তব্যের উদ্দেশে। কিন্তু সঞ্জুর বাড়ির এলাকায় প্রবল বিক্ষোভের মুখে তাঁর গাড়ি আটকে যায়। এর পরে গাড়ি থেকে নেমে বাইকে চড়ে দলীয় কর্মীর বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করেন তৃণমূল সাংসদ। সেই সময়ে ভিড়ের মধ্য়ে থেকে তাঁকে মারার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, তাঁর মাথায়-ঘাড়ে-গায়ে চড়-ঘুষি মারা হয়। এই পরিস্থিতিতে অভিষেককে বাঁচাতে তাঁর মাথায় হেলমেট পরিয়ে দেন নিরাপত্তারক্ষীরা। ওই সময়ে অভিষেককে লক্ষ্য করে ডিম, জুতো ও ঢিল ছোড়া হয়। ঝাঁটা দিয়ে মারারও চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ।

জনরোষের জেরে বাইকেও সঞ্জুর বাড়ি যেতে পারেননি অভিষেক। শেষমেশ তিনি হেঁটে যাওয়ারই সিদ্ধান্ত নেন। আর সেই সময়েই রাস্তায় তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। হাতাহাতি, প্রবল ধস্তাধস্তিতে রাস্তায় পড়েও গিয়েছিলেন অভিষেক। তাঁর জামাও ছিঁড়ে গিয়েছে। সেই অবস্থাতেই তিনি উঠে নিহত দলীয় কর্মীর বাড়িতে যান। দেখা করেন তাঁর মা-বাবার সঙ্গে।

পরে সেই বাড়িতে বসেই অভিষেক অভিযোগ করেন, তাঁকে প্রাণে মারার চেষ্টা হচ্ছে। তৃণমূল সাংসদের কথায়, ‘আমাকে খুন করতে চাইছে। করুক না। আমার লাশ বেরোক এখান থেকে। আমি যে ভাবে এলাম, আমি সেই ভাবেই বেরিয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু আমি বেরোব না। কারণ আমি বেরিয়ে গেলে এই পরিবারের লোকগুলোর কী হবে, সেটা ভেবে দেখুন।’

অভিষেকের দাবি, তাঁর কর্মসূচির কথা জেলা পুলিশ-প্রশাসনকে আগেই জানানো হয়েছিল। তার পরেও কোনও নিরাপত্তার আয়োজন করা হয়নি। কার্যত তাঁকে বিক্ষোভের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও নিশানা করেছেন অভিষেক। বলেছেন, ‘যারা তৃণমূলকে চোর বলছে, তারা কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে হাত বার করে ক্যামেরার সামনে টাকা নিতে দেখেছে? দু’কান কাটা, নির্লজ্জের মতো এখনকার মুখ্যমন্ত্রীকে টাকা নিতে দেখা গিয়েছে। ঘুষ নিয়েছিল।’

অভিষেক যখন নিহত দলীয় কর্মীর বাড়িতে, সেই সময়ে বিক্ষোভকারীদের একাংশকে ওই বাড়ির দরজায় ধাক্কা দিতেও দেখা গিয়েছে। সেখানে বিক্ষোভকারীদের মহিলাদের কেউ কেউ বলেন, ‘চোরের বাড়িতে চোর এসেছে! আমরা দিনের পর দিন বাড়ির বাইরে ছিলাম। তখন উনি কোথায় ছিলেন? এখন কেন এসেছেন।’ সেখানে দাঁড়িয়েও অভিষেককে পেটানোর হুঁশিয়ারি দিতে শোনা যায় কিছু বিক্ষোভকারী মহিলাকে।

সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে এক প্রতিবাদী মহিলা সরাসরি দাবি করেন, “নিশ্চয়ই ওই মৃত কর্মীর পরিবারের কাছ থেকে উনি কোনও টাকা পেতেন, আজ সেই বকেয়া টাকা আদায় করতেই এখানে ছুটে এসেছেন! যদি ওঁর মনে সত্যিই এত দয়া থাকত, তবে আরজি করের সেই অসহায় নির্যাতিতার পরিবারের পাশে গিয়ে দাঁড়াতেন!”

শনিবার সকাল থেকেই অবশ্য অভিষেককে ঘিরে টানটান নাটক চলছিল কলকাতায়। বিধানসভার সই কাণ্ডের তদন্তে সকালে তাঁর হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ি ‘শান্তিনিকেতন’-এ যায় সিআইডি। কিন্তু অভিষেক তখন বেলেঘাটায় তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের রামমোহন রায় রোডের বাড়িতে ছিলেন ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত এক কর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে। পরে সেখান থেকে কালীঘাটের বাড়িতে ফিরে সিআইডির নোটিস নিজের হাতে রিসিভ করেন। আর সেই পর্ব মিটিয়েই সোজা রওনা দিয়েছিলেন সোনারপুরের দিকে। কিন্তু সেখানে যে এমন ‘মারমুখী’ অভ্যর্থনা অপেক্ষা করছে, তা ছিল কল্পনাতীত।
এই নজিরবিহীন হামলার পর তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোনারপুরের মাটি থেকেই তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ওরা আমাকে মারতে চেয়েছিল। আমার ওপর শারীরিক আক্রমণ চালানো হয়েছে। আমি এই ঘটনার বিষয়ে সরাসরি হাইকোর্ট এবং রাজ্যপালের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

এই ঘটনা নিয়ে পরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপি যুক্ত নয়। তৃণমূল দক্ষিণ ২৪ পরগনায় গত পাঁচ বছর ধরে যে অত্যাচার করেছে, তাতে বিজেপি চাইলে, এখন তৃণমূলের নেতারা বাড়ি থেকেই বেরোতে পারতেন না। বিজেপি সংযম দেখিয়েছে বলেই তৃণমূলের নেতারা এ ভাবে বেরোতে পারছেন।’

Tags: News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Home Search Gallery
Menu
© 2026 Desher Samay.