Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

করোনা ঢুকে পড়ল দমদম এয়ারপোর্টে, ব্যাংকক ফেরত ২ যাত্রীপজিটিভ,দু’হাজার যাত্রী নিয়ে পাঁচটি দেশ ঘুরল জাহাজ,শেষে ভরসা কম্বোডিয়া, ভারতে আক্রান্ত ৩ জনই জানালেন হর্ষ বর্ধন

deshersamay

Share article:

দেশের সময় ওয়েবডেস্কঃ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সন্দেহে দমদম এয়ারপোর্টে দুই যাত্রীকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। ব্যাংকক থেকে এই দুই যাত্রী দমদম বিমানবন্দরে নামেন। এদের শরীরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গ পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

দুই যাত্রীর মধ্যে একজনকে মঙ্গলবার ও অন্যজনকে বুধবার কোয়ারান্টাইন করা হয়। এদের দু-জনকেই বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এয়ারপোর্টে আসা যাত্রীদের থার্মাল স্ক্রিনিং-এর সময় এদের শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ ধরা পড়ে বলে জানিয়েছেন কলকাতা বিমানবন্দরের অধিকর্তা কৌশিক ভট্টাচার্য্য। ইতোমধ্যেই যে দুটি উড়ানসংস্থার কলকাতা ও চিনের মধ্যে সরাসরি উড়ান রয়েছে, তারা তাদের এই উড়ানগুলি বাতিল করেছে।


এই মাসের ৬ তারিখ থেকেই কলকাতা ও চিনের গুয়াংঝাউ-এর মধ্যে সমস্ত উড়ান বাতিল করেছে ইন্ডিগো। করোনাভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ মেনেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে ইন্ডিগো-র তরফে জানানো হয়েছে। ইন্ডিগোর পরে এই মাসের ১০ তারিখ থেকে কলকাতা ও কুনমিং-এর মধ্যে সমস্ত উড়ান বাতিল করেছে চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্স।

যাত্রা শেষ। তার পরেও দিনের পর দিন সাগরে ভেসে চলেছে জাহাজ। ঘুরে চলেছে এ-বন্দর থেকে সে-বন্দর। তুমুল দুশ্চিন্তায় ও বিরক্তিতে অস্থির হয়ে রয়েছেন দু’হাজারেরও বেশি যাত্রী। কিন্তু তাঁরা বুঝতে পারছিলেন না, দুশ্চিন্তা জাহাজের বাইরে আরও বেশি। কারণ ওই জাহাজের কোনও যাত্রীর থেকেই করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা শোনা গেছিল। তাই পাঁচটি দেশের বন্দর ফিরিয়ে দেয় জাহাজটিকে। শেষমেশ কম্বোডিয়ার একটি বন্দরে নোঙর ফেলতে পেরেছে আমেরিকার জাহাজটি।

‘দ্য ওডিসি অব দ্য এমএস ওয়েস্টারড্যাম’ নামের জাহাজটি গত ১ ফেব্রুয়ারি হংকং থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। ১,৪৫৫ জন যাত্রী এবং ৮০২ জন ক্রু ছিল জাহাজে। কয়েক দিন সাগরে প্রমোদ বিহার করার পরে ফিলিপিন্সে যাত্রা শেষ করার কথা ছিল জাহাজটির। কিন্তু হংকং থেকে আসা জাহাজটিকে তাদের দেশের বন্দরে নোঙর করতে দেয়নি ফিলিপিন্স। জাহাজের যাত্রীরা করোনাভাইরাস বহন করতে পারে বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এর পরে বিশাল সে প্রমোদতরী পৌঁছয় গুয়ামে। সেখানেও একই কথা শুনতে হয়। এর পরে একে একে তাইওয়ান ও তার পরে জাপানের বন্দরে জাহাজ ভেড়ানোর চেষ্টা করা হয়। অনুমতি মেলেনি। শেষমেশ গত বুধবার থাইল্যান্ডের বন্দরে গিয়ে শেষ চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাও সম্ভব হয়নি। এদিকে একের পর এক দিন পেরিয়ে যাওয়ায় জাহাজটির খাবার এবং জ্বালানি শেষ হয়ে আসছিল ক্রমে।

থাইল্যান্ডেরই নৌবাহিনীর একটি জাহাজ ওয়েস্ট্যারড্যাম জাহাজটিকে এসকর্ট করে নিয়ে যায় এবং থাই উপসাগরে দিয়ে আসে। সেখান থেকে দিক বদল করে কাম্বোডিয়ার দিকে চলে যায় জাহাজটি। অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে কম্বোডিয়ার সিহানুকভিল বন্দরে নোঙর করে জাহাজটি।

জাহাজটিকে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য কম্বোডিয়ার প্রশংসা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু।

জাহাজের ক্যাপ্টেন ভিনসেন্ট স্মিথ জানিয়েছেন, জাহাজটিকে সিহানুকভিলের বাইরে নোঙর করা হয়েছে, যাতে কম্বোডিয়া সরকারের তরফে আগে জাহাজটির যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপদে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা সম্ভব হয়। কম্বোডিয়ার মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, তারা জাহাজের যাত্রীদের সাহায্য করতে একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে।


তীরে ভিড়তে পারার পরে জাহাজের এক যাত্রী, আমেরিকার বাসিন্দা অ্যাঞ্জেলা জোনস বলেন, “আমরা কতবার ডাঙার কাছাকাছি পৌঁছে ভেবেছি, এই বুঝি নামতে পারব। বাড়ি যেতে পারব। আর ঠিক তখনই আমাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দিনের পর দিন সময় কাটছিল না জাহাজে। আজ সকালেও যখন ডাঙার দিকে এগোচ্ছিলাম, দম বন্ধ করে অপেক্ষা করছিলাম। ভাবছিলাম, এটা কি সত্যি হবে! শেষমেশ নামতে পারলাম আমরা।”
আমেরিকার সংস্থা ‘হল্যান্ড আমেরিকা লাইন’ পরিচালিত এই জাহাজটি। ওই সংস্থার তরফে জানা গেছে, এখনও পর্যন্ত করোনাভাইরাস সংক্রমণের কোন অস্তিত্ব মেলেনি জাহাজে। পরীক্ষা হয়ে যাওয়ার পরেই রাজধানী নমপেন হয়ে নিজের নিজের দেশে ফিরে যেতে পারবেন যাত্রীরা।

অন্যদিকে, সাংহাই থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে একটি জাহাজ আসছিল কলকাতা বন্দরে। তার নাবিকদের মধ্যে রয়েছেন ১৯ জন চিনা। সেই জাহাজটিকেও কোয়ারান্টাইন করে রাখা হয়েছে সাগর দ্বীপের কাছে। আজ, বৃহস্পতিবার নাবিকদের থার্মাল স্ক্যানিং হওয়ার কথা। তাঁদের কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কিনা জানার পরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জাহাজটি নোঙর করতে দেওয়া নিয়ে।

চিনের হুবেই প্রদেশে লাফিয়ে বাড়ছে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা। ১৩১০ জন ইতিমধ্যেই মারা গেছেন সরকারি ভাবে। আক্রান্ত হয়েছে ৪২ হাজার ২০০-এর বেশি মানুষ। মৃত্যুর সংখ্যায় এটি ইতিমধ্যেই ২০০২-০৩ সালের সার্স মহামারীকে ছাড়িয়ে গেছে।

বর্তমানে সারা বিশ্বের মোট ২৮টি দেশ করোনাভাইরাস বা কনভিড–১৯–এ আক্রান্ত। তবে ভারতের মূল ভূখণ্ডে কেরলের তিন বাসিন্দা ছাড়া আর কারও শরীরে মেলেনি এই ভাইরাস। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে এই ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‌ভারতে কনভিড–১৯–এর সংক্রমণ রুখতে যাবতীয় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্র। যাতে সবাই বুঝতে পারেন, সেজন্য কেন্দ্রের জারি করা বিজ্ঞপ্তি আঞ্চলিক ভাষায় পাঠানো হয়েছে রাজ্যগুলিতে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও করোনাভাইরাস সংক্রান্ত তথ্য প্রচার করছে কেন্দ্র। পুরো পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর।

হর্ষ বর্ধন জানালেন, ‘কেরলের তিন রোগীর অবস্থা এখন স্থিতিশীল। কড়া নজরদারি চলছে সীমান্তগুলি এবং ২১টা বিমানবন্দরের যাত্রীদের উপর। এপর্যন্ত মোট ২৫১৪৪৭ জন যাত্রীর শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে। দেশের ১২টা বড় এবং ৬৫টা ছোট বিমানবন্দরেও চলছে নজরদারি। কারও শরীরে এই ভাইরাস মেলেনি। ইউহান থেকে ফেরত আসা ৬৪৫ জনও সম্পূর্ণ সুস্থ।’

চীনাদের ই–ভিসা আগেই বাতিল করা হয়েছে। চীন থেকে কারও ভারতে আসায় সাময়িক নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে। তাছাড়া থাইল্যান্ড, জাপান,ভিয়েৎনাম, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলি থেকেও কারও ভারতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ভারতীয় জলসীমায় পৃথক করে রাখা জাপানি জাহাজ ডায়মন্ড প্রিন্সেসের নাবিকদের দেহে কনভিড–১৯ মিলেছে। জাহাজের ৩৭১১ জন নাবিকের মধ্যে ১৩২ জন ভারতীয়। তাদের মধ্যে কমপক্ষে হাজার খানেক নাবিক আক্রান্ত। ওই আক্রান্তদের মধ্যে দুজন ভারতীয় নাবিকও আছেন। জাহাজ এবং নাবিকদের উপর কড়া নজর রেখেছে বিদেশ মন্ত্রক, জানালেন তিনি। এদিকে, দ্বিপাক্ষিক সদিচ্ছামূলক পদক্ষেপ হিসেবে কনভিড–১৯ মোকাবিলায় চীনে ওষুধ, পথ্য এবং চিকিৎসার সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে ভারত বলে জানান কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

Advertisement

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন