Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

উত্তরবঙ্গে নাচের তালে পা মেলালেন ,গণবিবাহের আসর জমালেন , বললেন বিজেপি মিথ্যে প্রতিশ্রতি দেয়, কাজ করে না: মুখ্যমন্ত্রী

deshersamay

Share article:

দেশের সময় ওয়েবডেস্কঃ সোমবার উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই সফরের দ্বিতীয় দিনে মুখ্যমন্ত্রীর জনসভায় উঠল চা বাগানের প্রসঙ্গ। বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘‌ভোট এলেই বলে সব চা-বাগান খুলে দেব। আর ভোট মিটলেই পালিয়ে যায়।’‌ এদিন সরকারি অনুষ্ঠানে চা-সুন্দরী প্রকল্পে উত্তরবঙ্গের ১২টি চা বাগানে ৪ হাজার ৬০০ জন শ্রমিকের হাতে বাড়ি বণ্টনের নথি তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘোষণা করেন, ‘‌আগামী দিনেও বিনাপয়সায় সবাই রেশন ও স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সুবিধে পাবেন।’

লোকসভা ভোটে উত্তরবঙ্গে কার্যত ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। ৮টি লোকসভা আসনের মধ্যে একটিতেও দাগ কাটতে পারেনি শাসক শিবির। বিজেপি পেয়েছে ৭টি ও মালদা দক্ষিণে জয়লাভ করেছে কংগ্রেস। আর সেকথা মাথায় রেখে উত্তরবঙ্গ সফরে গণবিবাহের মতো অনুষ্ঠানকেও জনসংযোগের হাতিয়ার করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

হোক না গণবিবাহের অনুষ্ঠান, তিনিও তো বাড়ির মেয়ের মতোই! তাই পায়ে পা মিলিয়ে, হাতে হাত ধরে ফালাকাটায় এক আদিবাসী নাচের আসরে যোগ দিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই ঘটনা যে একেবারে বিরল তা নয়, তবে উত্তরবঙ্গের বুকে এমন ছবি ধরা পড়ল এই প্রথমই।

গতকালই শিলিগুড়িতে বক্তৃতা করার সময়ে উনিশের লোকসভা নির্বাচনে তিনি উত্তরবঙ্গে ‘গো হারা’ হেরেছেন বলে মন্তব্য করেছিলেন। সঙ্গে অবশ্য বলেছিলেন, তবু তাঁর লজ্জা নেই। তিনি চান এবছর উত্তরবঙ্গ তাঁকে পুষিয়ে দিক। এর পরেই আজ, মঙ্গলবার আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটায় আদিবাসীদের এক গণবিবাহের অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তিনি আদিবাসী শিল্পীদের সঙ্গে নাচে-গানে পা মেলান। এই গণবিবাহের অনুষ্ঠানে এদিন ৪৫০ জন যুবক-যুবতীর বিয়ে দেওয়া হয়। নবদম্পতির হাতে এদিন রাজ্য সরকারের তরফে নানা উপহার তুলে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই আদিবাসী দম্পতিদের হাতে শাড়ি, ধুতি-পাঞ্জাবি তুলে দেন।

পাশাপাশি এই গণবিবাহের অনুষ্ঠানেই আবার মুখ্যমন্ত্রী চা-সুন্দরী প্রকল্পের চা-শ্রমিকদেরও আবাসনের ব্যবস্থা করেন। আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলার ১২টি চা বাগানের ৪৬০০ বেশি শ্রমিকের হাতে চা-সুন্দরী প্রকল্পের বাড়ি তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচন এলেই দিল্লি বারবার বলবে, চা বাগান খুলে দেব। কিন্তু, তারপর সব ভুলে যায়। আমরা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিই না। আমরা যা বলি তাই করি। আমাদের সরকার কৃষকের সরকার, খেটে খাওয়া মানুষের সরকার, মা-মাটি-মানুষের সরকার।” এরপরই কেন্দ্রের শাসকদলকে নিশানা করে মমতা বলেন, “উত্তরবঙ্গের এতজন সাংসদ জিতেছেন, কেউ কিছু করেছেন? এতগুলি চা বাগান বন্ধ। কিছু করেছেন? অপপ্রচার ছাড়া কিছু করেছেন? বিজেপি শুধু কুৎসা করে।”

গত লোকসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে গেরুয়া ঝড়ে কুপোকাত হয়েছিল তৃণমূল। এবার তা পুনরুদ্ধারে মরিয়া তারা। সে জন্যই ভোট প্রচারে সেখানে গিয়ে পৌঁছেছেন স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমো। জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গে তিনি প্রতিমাসে একবার করে আসেন প্রাণের টান থেকে। ভোটের আগে এই গণবিবাহের আয়োজন ও চা-শ্রমিকদের বাড়ি দেওয়াও প্রচারেরই অঙ্গ স্পষ্টতই। এখন এটাই দেখার, উত্তর-বাসীর মন জয় তিনি করতে পারলেন কিনা।

এদিন বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি  বলেন, ‘‌আমরা যা বলি, তাই করি। ওরা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়। কুৎসা অপপ্রচার ছাড়া কিছু করেছে?’‌ এরপরই সভায় উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, ‘‌বিজেপি এতগুলি এমপি জিতেছে, কোনও কাজ করেছে? এতগুলি চা বাগান বন্ধ, কিছু করেছে?’‌
সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। যদিও এখনও দিনক্ষণ ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। ক্রমশ বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। আর এই প্রেক্ষাপটে মমতার এহেন আক্রমণকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।  

Advertisement

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন