প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News
কথা রাখলে মুখ্যমন্ত্রী , আগের সরকারের ‘ওয়েটিং লিস্ট’ বাতিল করে ৮২ লক্ষের অ্যাকাউন্টে ১৫০০ টাকা পাঠাল শুভেন্দু সরকার , হিসাব বুঝিয়ে দিলেন মুখ্যসচিব ‘বাংলাদেশি ইলিশ’ বলে ভিন রাজ্যের মাছ বিক্রির অভিযোগ, বনগাঁ বাজারে হানা খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের পাঁচতলা বাড়ি ভেঙে পড়ল দিল্লিতে! ধ্বংসস্তূপ থেকে ভেসে আসছে শুধুই চিৎকার,অনেক ‘পেইং গেস্ট’ পড়ুয়ার আটকে থাকার আশঙ্কা এবার পড়ুয়াদের জন্য ‘এক দেশ, এক পড়ুয়া পরিচয়পত্র’! ১০ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যে শুরু প্রক্রিয়া বকেয়া টাকা ফেরতের দাবিতে   বনগাঁয় তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে টোটো চালকদের হামলা, ভাঙচুর আগুন : দেখুন ভিডিও

অরুণিমা…

deshersamay

Share article:
মলয় গোস্বামী:

জানলার ফাঁসা দিয়ে একফালি ভোরের আলো ঢুকেছে । যেন ওই আলো আমাকে হালকা ভাবে নাড়া দিয়ে বলল, ওঠ । সকাল হয়েছে ।  আমি আড়ামোড়া ছেড়ে বললাম, এত সকালে ডেকে দিলে ? কত রাত করে যে শুয়েছি তা তোমাকে কী বলব !    উঠে পড়লাম । মনে হচ্ছে খুব শান্ত । নানা রকমের পাখির ডাক শুনতে পাচ্ছি । দরজা খুলে দিতেই অবাক হয়ে গেলাম । দেখছি, বারান্দায় কয়েকটি কাশফুল মেঝেতে শুয়ে আছে ! আশ্চর্য! কে রেখে গেল ! আর এখন তো বৈশাখ মাস ! এখন কি কাশফুল ফোটে ? সে তো আশ্বিনে !    চারদিকে তাকিয়ে কাউকেই দেখতে পাচ্ছি না । কিন্তু আমি বেশ বুঝতে পারলাম যে , কেউ রেখেছে অবশ্যই ।     হঠাৎ আমাদের ছায়ামাখা আমগাছ তলায় তাকিয়ে চমকে উঠলাম ! অরুণিমা দাঁড়িয়ে আছে । মুখে মুচকি হাসি । দুটো ভুরু নাচিয়ে বলল, কী ব্যাপার ?     সে তো আমার জিগ্যেস করার কথা । তুমি _এত_ সকালে ! আর ওই কাশফুল তুমিই রেখেছ ওখানে ?     হ্যাঁ তো ।    কেন ?     সে বলব’খন । চোখ মুখে জল দিয়ে , পাঞ্জাবি পায়জামা চাপিয়ে চলো , বের হবো ।    আরে ! পাগল মেয়ে তো তুমি ! আর কাশফুল পেলে কোত্থেকে ? এখন কি কাশফুল ফোটে ?     শোনো , অত কথা বলার সময় নেই । তাড়াতাড়ি করো । হারি আপ । অরুণিমা এরকমই । উঠল বাই তো কটক যাই ।     এতক্ষণ যেন কথা বলছিলাম একটা ঘোরের মধ্যে দিয়ে । কাশফুল… অরুণিমা… ভোর … এই সব যেন এক অন্য পৃথিবীতে নিয়ে ফেলেছিল আমাকে । এবার দেখি আরো বিস্ময় আমাকে চমকে দিল ।   ও কী ! অরুণিমা কী পরেছে ! ছোটবেলার মতন গাউন ফ্রক , চুলে দু’বিনুনি । হেসেই চলেছে । ওর হাতেও দেখি কয়েকটি কাশফুল ।     এ কী অরুণিমা ! তুমি এমন ড্রেসে ! চুল বেঁধেছ ওইভাবে !  আর কাশফুল পেলে কোত্থেকে ?     অত কথা বলার সময় নেই । খুঁজতে জানলে সবকিছু পাওয়া যায় । এখন এরকম সাজতে মন হয়েছে । চলো আজ বিশেষ দিন আমাদের ।       তার মানে ?        চলো তো । এরপর ও রেগে যাবেই । ওকে আমি হাড়ে হাড়ে চিনি ।অতএব তৈরি হয়ে ,. কাশফুল ঘরে খাটের ওপর রেখে . মাকে বলে অরুনিমাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম ।      কোথায় যাব আমরা ?     যাব কাশফুলের দেশে ।     সে কি এখন আছে ?      সবই আছে । আমরাই তো ধ্বংস করে দিচ্ছি । চলো অনেক দূরে কোথাও ।     আমি যেন আমার অরুণিমাকে আজ চিনতে পারছিনা । ও গেয়ে উঠল —- দূরে কোথায় দূরে দূরে … আমার মন বেড়ায় ঘুরে ঘুরে ….      গানের মধ্যে ডুবে গিয়েছিলাম আমি । বুঝতেই পারিনি কোথায় , কতদূর চলে এলাম ।      দেখি —- বিশাল একটা মাঠ …. ধানক্ষেত … দূরে নিজে নিজে জন্মনেওয়া পুকুর , বেশ কিছু কাশফুল তাদের শাদা মাথা নাড়াচ্ছে । যেন ওরা আমাদের অভিবাদন জানিয়ে বলছে , এসেছ ? খুউব ভালো হয়েছে , এসো এসো ।      পেছন ফিরে তাকাতে দেখি অরুণিমা হাততালি দিতে দিতে দৌড়ে আসছে আমার কাছে । ওর ফ্রক দুলছে । দুলছে বেণী ।     এসে আমার একটা হাত ধরে বলল , দৌড়াও দৌড়াও … উইই দ্যাখো রেল লাইন । আমাকে ট্রেন দ্যাখাও ।   আমি কেমন হয়ে পড়লাম ! অরুণিমা কি অন্য কোথাও চলে গিয়েছে ? ও কি একটা উপন্যাসের চরিত্র হয়ে যাচ্ছে !     আমি ওকে কাছে টেনে নিয়ে বললাম , শোনো শোনো , কী দেখতে চাও তুমি ?    ও বলল , আমি রেলগাড়ি দেখতে চাই । আমি সবুজ চাই । আমি চাই সরল পৃথিবী । সেখানে তুমি আমাকে নিয়ে যাবে মলয় ?     আমি একটা হাত ধরে নিয়ে চুপ করে ওকে দেখতে থাকি ।   হঠাৎ ট্রেনের হুইসেল … । ও হাততালি দিয়ে উঠলো ।     শোনো শোনো রেলগাড়ি আসছে । চলো । দৌড়ে চলো ।  সে সময় আমাদের অনেক দূরে রেখে ইলেকট্রিক ট্রেন ভীমবেগে চলে গেল চারদিক কাঁপিয়ে ।    কাশফুল মাথা নাড়ালো ।    ফ্রকপরা অরুণিমা আমার হাত ধরে ট্রেনলাইনের ওইপারের ঘন গাছপালার ওপরের আকাশের দিকে আঙুল দেখিয়ে বলল, ওখানে কী দেখতে পাচ্ছ ?     কেন ? নানা রকম মেঘ !,      মেঘের মধ্যে কাউকে দেখতে পাচ্ছ ?        হ্যাঁ পাচ্ছি , অনেক বড় একজন মানুষের ছবি ।         ঠিক বলেছ । উনি সত্যজিৎ রায় । নমস্কার করো ।আমরা দুজনেই মেঘের দিকে তাকিয়ে হাতজোড় করে প্রণাম করলাম । #########    এই ওঠ্ ওঠ্ … আর কত ঘুমিয়ে থাকবি ? বেলা অনেক হয়ে গেছে ।     মা আমাকে ধাক্কা দিয়ে তুলে দিল, ওই দ্যাখ অরুণিমা এসেছে । কতক্ষণ হয়ে গেল !       আমি তখন একভাবে মা-র মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম ।

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন