অনুপ্রবেশ রুখতে ও নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে পেট্রাপোল সীমান্তের গ্রাম পরিদর্শনে জেলাশাসক – পুলিশ সুপার : দেখুন ভিডিও

0
3

দেশের সময়, বনগাঁ : পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ ভোটারদের মনে আত্মবিশ্বাস জোগাতে এবং সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ অভিযানে নামল উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন।

শুক্রবার দুপুরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের জয়ন্তীপুর ও পেট্রাপোল সংলগ্ন গ্রামগুলোতে সরজমিনে পরিদর্শন করলেন জেলাশাসক  এবং বনগাঁর পুলিশ সুপার। তাঁদের উপস্থিতিতেই সীমান্তে রুট মার্চ করল রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,শুক্রবার দুপুর নাগাদ প্রশাসনিক আধিকারিকদের এই বিশেষ দলটি প্রথমে পৌঁছায় পেট্রাপোল থানার অন্তর্গত পেট্রাপোল স্থল বন্দরে। সেখানে বন্দরের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার পর তাঁরা সোজা চলে যান কাঁটাতার ঘেঁষা প্রত্যন্ত গ্রাম জয়ন্তীপুরে।

কেবলমাত্র গাড়িতে চড়ে এলাকা পরিদর্শন নয়, জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার খোদ পায়ে হেঁটে বেশ কয়েক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেন। তাঁদের সঙ্গে ছিল রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশাল কনভয়। বাহিনীর এই ‘রুট মার্চ’ একদিকে যেমন দুষ্কৃতীদের কাছে কড়া বার্তা পৌঁছে দিল, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তার বোধ তৈরি করল বলে দাবি প্রশাসনের।

পথ চলতে চলতেই জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার কথা বলেন স্থানীয় গ্রামবাসীদের সাথে। ভোটদান নিয়ে তাঁদের মনে কোনো ভয় বা সংশয় আছে কিনা, অথবা এলাকায় কোনো অশুভ শক্তির প্রভাব রয়েছে কিনা, তা সরাসরি জানতে চান আধিকারিকরা।  দেখুন ভিডিও

নির্বাচনের আগে সীমান্তে অনুপ্রবেশ বা কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা রুখতে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে। জয়ন্তীপুরের মতো স্পর্শকাতর গ্রামগুলোতে নিয়মিত টহলদারির পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারিও। জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের এই সরাসরি উপস্থিতি সীমান্তবাসীর মধ্যে আশার আলো জাগিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

অনেক সময়েই অভিযোগ ওঠে যে, ভোটের সময় সীমান্তের ওপার থেকে দুষ্কৃতীরা ভারতে ঢুকে পড়ে ভোটের সময় অশান্তির পরিবেশ তৈরি করে। এই প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার জানান, এই ধরনের কোনও ঘটনা যাতে না ঘটে, তারজন্য সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর পাশাপাশি রাজ্য পুলিশ বিশেষ নজরদারি জারি রেখেছে। 

জেলাশাসক জানান, পেট্রাপোল সীমান্ত এলাকা থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগ জমা পড়ে নি। তবে যেহেতু এই এলাকাটি বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এবং এখানকার বেশ কিছু ভোটার আছেন, যারা কাঁটাতারের ওপারে থাকেন, তাঁরা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, তারজন্য যথাযথ ব্যবস্থা থাকছে।  

উল্লেখ্য, এই এলাকাটি ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে অত্যন্ত সংবেদনশীল। সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা এবং ভোটারদের ভয়মুক্ত পরিবেশ উপহার দেওয়াই ছিল এই পরিদর্শনের মূল লক্ষ্য।

Previous articleপ্রবল দুর্যোগে প্রায় দেড় ঘণ্টা আকাশে চক্কর কাটছিল মমতার বিমান, অবশেষে নিরাপদে নামলেন কলকাতায়!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here