

বড়সড় দুর্ভোগের মুখে পড়তে চলেছেন যাত্রীরা। বিঘ্ন ঘটতে চলেছে বিমান পরিষেবায়। A-320 সিরিজের বিমানের ফ্লাইট কন্ট্রোল সিস্টেমে বড়সড় ত্রুটি ধরা পড়েছে। ফলে এক সঙ্গে বাতিল হতে পারে এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের ২০০ থেকে ২৫০ উড়ান। কিছু বিমান দেরিতে ছাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। নেপথ্যে সোলার রেডিয়েশন বা সৌর বিকিরণ।

অভূতপূর্ব সতর্কতা জারি করল এয়ারবাস । আর তার পরেই বিশ্বজুড়ে তৈরি হল এক বিমান-বিপর্যয়। কারণ, ইউরোপীয় বিমান সংস্থার হিসেব বলছে—বর্তমানে আকাশে উড়ছে এমন প্রায় ৬ হাজার A320 বিমানেই থাকতে পারে সফটওয়্যারজনিত ত্রুটি! যে ত্রুটির উৎস নাকি সূর্যের অস্বাভাবিক তীব্র বিকিরণ!
সংবাদ সংস্থা সূত্রের খবর, যার জেরে এয়ার ফ্রান্স বাতিল করল অন্তত ৩৫টি ফ্লাইট। দক্ষিণ আমেরিকার এভিয়ানকা জানাল, তাদের বহরের ৭০ শতাংশ বিমানেই একই সমস্যা ধরা পড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভিড়, লম্বা লাইন, বিভ্রান্তি—সব মিলিয়ে চরম বিপাকে সাধারণ যাত্রীরা।

ইতিমধ্যেই সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যার মেরামতির কাজ শুরু করে দিয়েছে এয়ারলাইন্স সংস্থাগুলো। এয়ারবাসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সব আপডেট করা হচ্ছে জানিয়ে শনিবার ইন্ডিগো বলেছে, ‘নিরাপত্তাই সবার আগে। যাত্রীদের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
দেশের কোনও কোনও রাজ্যে বিমান বাতিল হতে পারে আগাম সতর্ক করে দিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস। এয়ারলাইন্স সংস্থায় বহরে ৩১টি A-320 সিরিজের বিমান রয়েছে। কিছু উড়ানের দেরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৩০ অক্টোবর, যখন কানকুন থেকে নিউয়ার্কগামী জেটব্লুর একটি A320 মাঝ-আকাশে আচমকা নাক ডুবিয়ে নামে। ফ্লাইট কন্ট্রোলে হঠাৎ বিঘ্ন ঘটে, বাধ্য হয়ে জরুরি অবতরণ করতে হয় টাম্পায়। কয়েক জন যাত্রী আহতও হন। তদন্তে উঠে আসে ভয়ঙ্কর তথ্য—অস্বাভাবিক সৌর বিকিরণ নাকি বিমানটির ফ্লাইট কন্ট্রোলের গুরুত্বপূর্ণ ডেটা ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ করেছে।
এর পরই এয়ারবাস জরুরি নির্দেশ দেয়—“অবিলম্বে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিন। সফটওয়্যার আপডেট করুন।”
এয়ারবাস জানায়, বেশিরভাগ বিমানে সফটওয়্যার আপডেট করতে কয়েক ঘণ্টাই যথেষ্ট। কিন্তু প্রায় ১ হাজার বিমান রয়েছে, যেগুলিতে কাজের সময় লাগবে কয়েক সপ্তাহ। স্বাভাবিকভাবেই, এই বিলম্বে আরও বাড়বে শিডিউল জট।

ইউরোপীয় উড্ডয়ন নিরাপত্তা সংস্থা EASA জানিয়েছে, তারা বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সংস্থার স্পষ্ট বার্তা—“স্বল্পমেয়াদি হলেও বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটবে। কিন্তু নিরাপত্তাই সর্বাগ্রে।”
ফ্লাইট কন্ট্রোল কম্পিউটার তৈরি করে ফরাসি প্রতিরক্ষা সংস্থা থ্যালেস। তারা জানিয়েছে, যন্ত্রাংশ ঠিকঠাক থাকলেও সফটওয়্যারটি তাদের দায়িত্বে নয়। কোন সংস্থা সফটওয়্যারটি বানিয়েছে—সেটি স্পষ্ট করেনি এয়ারবাস।
এদিকে আমেরিকান এয়ারলাইনস জানিয়েছে, শুক্রবারের সতর্কতার পরই ৩৪০টি বিমানে সফটওয়্যার আপডেটের কাজ শুরু হয়েছে। শনিবারের মধ্যে বেশিরভাগ বিমান স্বাভাবিক হতে পারে। যদিও কিছু ফ্লাইটে ‘সেভারাল ডিলে’ অনিবার্য।

অন্য দিকে এভিয়ানকা জানিয়েছে, আগামী ১০ দিন ধরে বড়সড় বিপর্যয় চলতেই পারে। ইউনাইটেড এয়ারলাইনস দাবি করেছে, তাদের বিমানগুলি আপাতত এই সমস্যায় পড়েনি।
বিশ্বের দুই জনপ্রিয় বিমানের প্রতিযোগিতায় এয়ারবাস A320 এখন পর্যন্ত এগিয়ে—১২,২৫৭টি বিক্রি হয়েছে, বোয়িং ৭৩৭-এর থেকে ৩টি বেশি। কিন্তু সফটওয়্যারের এই অচেনা সঙ্কট A320-এর নিরাপত্তা-ইমেজে বড় আঘাত কি না—তা নিয়েই এখন প্রশ্ন ওঠতে শুরু করেছে।

সূর্যের রশ্মির মারাত্মক প্রভাব, এত দিন কল্পনাতেই ছিল। এবার বাস্তবে তার ধাক্কায় নড়বড়ে হল গোটা বিশ্বের বিমান পরিষেবা।



