


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি সাক্ষাতের পরিসংখ্যান ৭-১ থেকে ৮-১ ।
T20 WC 2026: পাকিস্তান বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা করার পরে বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত বলেছিলেন, ‘খেলতে হবে না, খেললেই হারবে’। অভিজ্ঞ প্লেয়ারের পরামর্শ না মানার ফল হাতেনাতে পেল পাকিস্তান। বিশ্বকাপের মেগা ম্যাচে ভারতের কাছে ৬১ রানে হারল তারা। এই জয়ের ফলে ভারত দ্বিতীয় দল হিসেবে সুপার এইটে প্রবেশ করল। মাঠের বাইরে বয়কট, হুমকি দিলেও মাঠে পাকিস্তান একই রকম রইল। আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুই দলের হেড টু হেড লড়াইয়ে পরিসংখ্যান গিয়ে দাঁড়াল ভারতের পক্ষে ৮-১।

রুদ্ধশ্বাস বললেও কম বলা হয়! ৭ উইকেটে ১৭৬ রানের টার্গেট দিয়েছিল ভারত। কিন্তু সেই ম্যাচ এত সহজে এত তাড়াতাড়ি ঘুরে যাবে কে জানত! ব্যাট করতে নেমে পঞ্চম ওভারে কিছুটা গতি আনার চেষ্টা করেছিল পাকিস্তান। ত্রাতার ভূমিকা ছিলেন উসমান। কিন্তু ভারতের দিক থেকে পরপর আঘাতে তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ে পাকিস্তানের ডিফেন্স। শেষমেশ ১০ উইকেটের মাথায় ১১৪-এই ব্যাটিং থামল পাকিস্তানের। ৬১ রানের ব্যবধানে ম্যাচ তুলে নিল ভারত।

এই ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তান অধিনায়ক সলমন আলি আঘা। ফ্রেশ পিচে স্পিন ট্র্যাপে ভারতকে ফেলার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। সেটাই করতে গিয়েছেন তিনি। শুরুটা সলমন নিজে করেন। এর পর তিনি একের পর এক স্পিনার আনেন। একমাত্র শাহিন আফ্রিদি ছিলেন পেসার। তবে স্পিনারদের লেলিয়েও কিছু করতে পারেনি পাকিস্তান।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে স্লো পিচে ভালো শুরু পায়নি ভারত। প্রথম ওভারের শেষ বলে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন অভিষেক শর্মা। অসুস্থতা কাটিয়ে ফিরে তিনি রান পেলেন না। তবে তাঁর রান না পাওয়া পার্থক্য তৈরি করেনি। কারণ ক্রিজে ছিলেন ঈশান কিষান। অভিষেক ফেরার পর দলের হাল ধরেন তিনি। স্লো পিচে একের পর এক বড় শট খেলে দলের রান এগিয়ে নিয়ে যান।

অন্যদিকে তিলক বর্মা অন্য প্রান্ত থেকে তাঁকে ভরসা জোগান। ঈশান কিষান ও তিলক বর্মার জটি ৮৭ রান করে। এরমধ্যে ঈশানের অবদান ৭৬ আর তিলকের মাত্র ১১। সাইম আয়ুবের স্পিন ও গতি বুঝতে না পেরে ঈশান কিষান আউট হন ৭৭ রানে। এর পর জুটি গড়েন সূর্যকুমার যাদব ও তিলক বর্মা। এই জুটি ৩৮ করে।
৪০ বল খেলে ৭৭ রান করে ঈশান কিষান আউট হওয়ার পর রানের গতি কিছুটা হলেও কমে। তিলক ২৪ বলে করেন ২৫। সূর্য ২৯ বলে করেন ৩২। হতাশ করেন হার্দিক পান্ডিয়া। প্রথম বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে আউট হন তিনি। শেষে শিবম দুবে ও রিঙ্কু সিং নেমে দ্রুত রান করে দলের রান ১৭৫-এ নিয়ে যান।

এই ম্যাচে পাকিস্তান স্পিন বোলিংয়ে ফোকাস করে। আর তাতে পায় সাফল্য। সাইম আয়ুব তিনটে উইকেট নেন। একটি করে উইকেট নেন সলমন আলি আঘা, উসমান তারিক ও শাহিন আফ্রিদি।
রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়ে পাকিস্তান। প্রথম ওভারে হার্দিক পান্ডিয়ার বলে আউট হন সাহিবজ়াদা ফারহান। প্রথম ওভারটা মেডেন দেন তিনি। এর পর দ্বিতীয় ওভারে জোড়া শিকার বুমরার। ফেরান সাইম আয়ুব ও সলমন আলি আঘাকে। পাকিস্তানের প্রথম তিন ব্যাটারের মোট রান ১০। সর্বোচ্চ ৬। এর পর বাবর আজ়ম ফেরেন ৫ রান করে। এই ম্যাচেও বাবর নিজের মেজাজেই ব্যাট করলেন। সাত বল নিলেন মাত্র পাঁচ রান করতে। টি-টোয়েন্টিতে তিনি টেস্ট মেজাজ থেকে বেরতে পারছেন না।

তবে পাকিস্তানের হয়ে কিছুটা রান করার চেষ্টা করেন উসমান খান। ৩৪ বলে তিনি ৪৪ করেন। উসমান খান ও শাদাব খানের জুটি তোলে ৩৯। এটা বাদে আর কোনও জুটিই টেকেনি। আর পাকিস্তানের প্রতিটা উইকেটের নেপথ্যে রয়েছে বড় শট খেলতে যাওয়ার প্রবণতা। স্লো পিচে বল থেমে আসছে, ভারতের বোলাররা সেখানে আরও ধীরে বল করছেন, পাকিস্তান এখানেই মুখ থুবড়ে পড়ে। ৭৮ রানে সাত উইকেট পড়ার পর ম্যাচ শেষ হওয়া ছিল সময়ের অপেক্ষা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের অশ্বমেধের ঘোড়া ছুটছে। পাকিস্তানকে হারিয়ে ভারত পৌঁছে গেল সুপার এইটে।




