বাগডোগরা হয়ে পালানোর চেষ্টা,বিমানবন্দরে গ্রেফতার মালদহে অশান্তির ঘটনায় ‘মূলচক্রী’ মোফাক্কেরুল, জানাল কমিশন

0
109

মালদহের কালিয়াচকে অবরোধ-বিক্ষোভ এবং বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনায় ‘মূলচক্রী’ মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে এমনটাই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, পেশায় আইনজীবী মোফাক্কেরুল পালানোর চেষ্টা করছিলেন। সেই সময় তাঁকে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। অন্য দিকে, মালদহ কাণ্ডের তদন্তে শুক্রবার সকালেই কলকাতায় এসেছেন জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র আইজি সনিয়া সিংহ। এর পর তিনি মালদহে যাবেন।

মোফাক্কেরুলের সঙ্গে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মোথাবাড়ির ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এই ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে এনআইএ (NIA)-কে।  

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে SIR-এর কাজে জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়োগ করা হয়েছে। বিচারাধীন কেসগুলির জন্য ভোটারদের নথি খতিয়ে দেখছেন তাঁরা। এই কাজে গিয়েই মালদার মোথাবাড়িতে বুধবার বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। বুধবার বিকাল ৪টে থেকে মোথাবাড়ি বিধানসভার অন্তর্গত কালিয়াচক-২ বিডিও অফিসে মোট সাত জন জুডিশিয়াল অফিসারকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখানো হয় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনা ঘিরেই তোলপাড় শুরু হয়।

এই ঘটনায় উত্তেজিত জনতাকে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে মোফাক্কেরুলের বিরুদ্ধে। উস্কানিমূলক মন্তব্য করার পাশাপাশি প্রশাসনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। যাত্রিবাহী গাড়ির মাথায় দাঁড়িয়ে হ্যান্ডমাইক হাতে উস্কানি দিয়েছেন বলে অভিযোগ। এর পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জাতীয় নির্বাচন কমিশন মোফাক্কেরুলের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। শুক্রবার সকালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইজি উত্তরবঙ্গ শুক্রবার সকালে জানিয়েছেন, এই ঘটনায় মোট ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে এমআইএম (মিম)-এর প্রার্থী হয়েছিলেন মোফাক্কেরুল। উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার থেকে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। ইটাহারের হাটখোলার বাসিন্দা মোফাক্কেরুল দীর্ঘদিন রায়গঞ্জে জেলা আদালতের আইনজীবী ছিলেন। পরে কলকাতা হাইকোর্টেও প্র্যাকটিস শুরু করেন তিনি।

মোথাবাড়ির ঘটনায় রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। এই ঘটনার জেরে রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজি এবং জেলাশাসক-কে শো-কজ় করা হয়েছে। এই ঘটনায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-কে তদন্তের ভার দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।

মোফাক্কেরুলের গ্রেপ্তারির পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, ‘রাজ্যে পুলিশের সিআইডি শাখা নেপালে পালানোর সময় তাঁকে মোফাক্কেরুলকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি ইটাহারের বাসিন্দা। তৃণমূলের সংখ্যালঘু মোর্চার প্রেসিডেন্টও ইটাহারের বাসিন্দা। মোফাক্কেরুল আদতে কার হয়ে কাজ করে তা ভালো করে খতিয়ে দেখা উচিত। এই দুই ইটাহারবাসীর মধ্যে কী যোগসূত্র রয়েছে, কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।’

কে এই মোফাক্কেরুল ইসলাম?
উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের পোরসা হাটখোলার বাসিন্দা, বয়স চল্লিশের কোঠায়। এক সময়ে রায়গঞ্জ জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে কাজ করতেন তিনি। পরে কলকাতা হাই কোর্টেও নিয়মিত মামলা লড়তেন। হাই কোর্ট চত্বরে তাঁর নিজস্ব চেম্বার রয়েছে। বর্তমানে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে কলকাতাতেই বসবাস।
রাজনীতিতেও হাতেখড়ি হয়েছে কয়েক বছর আগে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল এমআইএম-এ যোগ দেন তিনি। সেই নির্বাচনে ইটাহার কেন্দ্র থেকে দলের প্রার্থীও হন।
তবে ভোটের ফল খুব একটা আশাব্যঞ্জক ছিল না। গত বিধানসভা নির্বাচনে এমআইএম প্রার্থী হিসেবে মাত্র ৮৩১টি ভোট পেয়েছিলেন মোফাক্কেরুল।

Previous articleTanay Shastri joins BJP: হাবড়ার বিজেপি প্রার্থীর হাত ধরেই বিজেপিতে যোগ তনয় শাস্ত্রীর
Next articleভোটের আগে সক্রিয় ইডি, পুরসভায় নিয়োগ-দুর্নীতি তদন্তে ইডি তলব করল মন্ত্রী সুজিত বসু এবং রথীন ঘোষকে!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here