বনগাঁয় করোনা আক্রান্ত সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি ব্যক্তিকে ট্রান্সফারের জন্যে মিলছে না অ্যাম্বুলেন্স

0
22530

দেশেরসময় বনগাঁ: এক সপ্তাহ আগে উত্তর ২৪পরগনার বনগাঁর এক বৃদ্ধ(৭৪) চিকিৎসার জন্য দিল্লি গিয়েছিলেন৷ সেখান থেকে বাড়ি ফিরেই ব্যাপক সর্দি,কাশির উপসর্গ তাঁকে চেপে ধরে৷এরপর শ্বাস কষ্ট এবং শারিরীক অসুস্থতা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার কারণে তাঁকে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷

চিকিৎসকদের পরামর্শে শনিবার ১১টা নাগাদ কলকাতা বেলেঘাটা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হলেও মিলছে না এ্যাম্বুলেন্স ৷ ওই বেক্তির শরীরে করোনা সংক্রমণ হয়েছে কিনা তা জানা যাবে বেলেঘাটায় চিকিৎসার পরই,এমনটাই জানা যাচ্ছে বনগাঁ হাসপাতাল সূত্রে।

বনগাঁর প্রাক্তন বিধায়ক তথা বনগাঁ তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ার ম্যান গোপাল শেঠ জানান ওই বৃদ্ধকে সুচিকিৎসার জন্য সমস্ত রকমের সাহায্য করা হবে।

উপসর্গ দেখে করোনাভাইরাস সন্দেহ হওয়ায় ৭৪ বছরের এই বৃদ্ধকে বনগাঁ থেকে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে নিয়ে যেতে রাজি হচ্ছে না কোনও অ্যাম্বুল্যান্স। নিয়মের ফাঁসে আটকে গেছে সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সে কলকাতায় পাঠানোর উপায়ও। ফলে বিপাকে পড়েছেন বনগাঁ মহকুমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সমস্যায় পড়েছেন রোগী ও তাঁর আত্মীয়রা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনকে। এখন তারা প্রশাসনের নির্দেশ আসার জন্য অপেক্ষা করছে।

সপ্তর্ষি চৌধুরী জানিয়েছেন যে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে যতটা সম্ভব চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া যায় তা তাঁরা দিচ্ছেন। ওই রোগীকে ওষুধের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছে এবং স্যালাইনও চলছে। তিনি বলেন, “আমরা যা সন্দেহ করছি সেব্যাপারে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা সেই রোগের চিকিৎসা শুরু করতে পারব না।” পরে তিনি বলেন, “আমাদের হাসপাতালের যে অ্যাম্বুল্যান্স রয়েছে তা আমরা দিতে পারছি না সংক্রমণের জন্য। অন্য অ্যাম্বুল্যান্স রাজি হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন থেকেও কেউ রাজি হচ্ছেন না। কাল (শুক্রবার) রাত থেকে আমরা চেষ্টা করছি। আজ আমরা বিষয়টি এসডিওকে জানিয়েছি। এখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যা বলবেন সেইমতো আমরা পদক্ষেপ করব।”

দিল্লির এইমস থেকে কয়েক দিন আগে চিকিৎসা করিয়ে ফিরেছেন বনগাঁর মোস্তাফিপাড়ার বাসিন্দা ৭৪ বছরের ওই বৃদ্ধ। দিল্লি থেকে ফিরে এসে সর্দি-কাশি-জ্বর নিয়ে ভর্তি হন বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে। গত এক সপ্তাহ ধরে তাঁর এই উপসর্গ রয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের ডেপুটিসুপার সপ্তর্ষি চৌধুরী। তিনি বলেন, “আমাদের সন্দেহ হচ্ছে যে ওঁর করোনাভাইরাস সংক্রমণ হলেও হতে পারে তাই আরও ভাল পরিকাঠামো ও ব্যবস্থা থাকার জন্য আমরা বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে রেফার করেছি। এখন অ্যাম্বুল্যান্স সাপোর্ট পেলে আমরা তাঁকে সেখানে পাঠিয়ে এব্যাপারে নিশ্চিত হব।”

সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সের গায়ে লেখাই থাকে ‘সংক্রামক ব্যাধির জন্য নয়’। সংক্রামক ব্যাধি হয়েছে এমন রোগীকে নিয়ে গেলে তারপরে পুরো অ্যাম্বুল্যান্সকে জীবাণুমুক্ত করতে যথেষ্ট সময় লাগে বলে পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেই কারণে সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সে রোগীকে পাঠানোর উপায় আপাতত নেই।

বনগাঁ মহকুমা শাসক এবং স্থানীয় প্রশসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে৷ তাঁরা ব্যাবস্থা গ্রহণের জন্য দ্রুত চেষ্টা করছেন৷ দেখুন ভিডিও:

Previous articleদিল্লিতে করোনাভাইরাসে মৃত্যু বৃদ্ধার, দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ২
Next articleকোভিড–১৯ মোকাবিলায় মোদীর ডাকে সাড়া ইমরানের

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here