বিশেষ প্রতিবেদন

দেশের সময়ঃহিন্দি বলয়ের তিন রাজ্যে কংগ্রেসের কাছে হেরে গেছে বিজেপি,এছাড়াও তেলেঙ্গানা ও মিজোরামেও নিজেদের আলাদা অস্তিত্বের কোন জানান দিতে পারে নি বিজেপি।সব মিলিয়ে সদ্য প্রকাশিত পাঁচ রাজ্যের ফলাফলে বিজেপির বিপর্যয়ই হয়েছে।২০২৯ এর আগে এই ফলাফল কংগ্রেস দল ও তাদের কর্মীদের যতটা চাঙ্গা করবে ঠিক ততটাই হতাশ ও হতোদ্যম করে দেবে বিজেপি নেতা ও কর্মীদের।এ রাজ্যেও যে তার ইঙ্গিত মিলতে শুরু করেছে তা পরিষ্কার বোঝা যায় বিজেপির অন্দরমোহলে কান পাতলেই।এ রাজ্যের যে নেতারা কিছুদিন আগেও বুক ফুলিয়ে বলতেন রাজ্যের শাসক পার্টির বিরুদ্ধে এ রাজ্যে বিজেপিই একমাত্র বিরোধী দল,তারাই তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে,আর কোন দলের সে মুরোদ নেই,সেই সব নেতারাই এখন চুপ করে বসে থেকে দেখে যাচ্ছেন সিপিএমের নের্তৃত্বে বিশাল কৃষক সভা হচ্ছে।রাস্তায় রাস্তায় প্রতিবাদ সভা হচ্ছে,মিছিল হচ্ছে।যে কংগ্রেসকে মনে হয়েছিল এ রাজ্যে একেবারে মৃত,সেই কংগ্রেসও রাণীরাসমনি এভ্যিনিউতে বিশাল জনসভা করে এ রাজ্যে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিয়েছে।আর বিজেপি সেই কবে ঘোষণা করে রেখেছিল তারা রথযাত্রা করবে,কিন্তু আইনি ও প্রশাসনিক প্যাচে পড়ে তা আটকেই রয়েছে।এরই মধ্যে ভিন রাজ্যের ফলাফল তাদের হতাশ করেছে।নিচু তলার কর্মীরা বিজেপির থেকে মুখ ফেরাতে শুরু করেছে।এ রাজ্যের সাংবাদিকরা জানেন যে সিপিএম ও কংগ্রেস কর্মীদের একটা বড় অংশ বিজেপিতে নাম লিখিয়েছিলেন শুধু মাত্র এই কারণে যে তারা তৃণমূলের মোকাবিলা করতে পারবেন।রাজ্যের শাসক দলের মোকাবিলা করতেই যে কেন্দ্রীয় শাসক দলে নাম লিখিয়ে ছিলেন,অনেকেই তা বুঝতে কারোর অসুবিধা হবার কথা নয়।তবে বিজেপি এ রাজ্যে সত্যিই তৃণমূলকে টক্কর দিতে চায় কীনা তা নিয়ে বার বার সন্দেহ তৈরি হয়েছে।যে ভাবে,সারদা নারদায় শাসক দলের অভিযুক্তরা ছাড় পেয়ে গেছে,যে ভাবে নারদায় অভিযুক্তদের আড়াল করতে সংসদীয় এথিক্স কমিটির মিটিং ডাকা বাতিল হয়েছে,তাতে পরিষ্কার এ রাজ্যের শাসক দলের সঙ্গে বিজেপির ভেতরে ভেতরে একটা বোঝাপড়া আছে।আর সেই বোঝাপড়ার কারণে বিজেপির উপর আস্থা একটু একটু করে নষ্ট হচ্ছিল অনেকেরই কিন্তু তাদের কোন উপায় ছিল না কারণ রাজ্যে সব বিরোধী দল শক্তি শূন্য তাই কোন একটা শক্তিশালী রাজনৈতিক দলের ছত্র ছায়ায় থাকতেই হত সাধারণ কর্মী সমর্থকদের।তবে সদ্য সমাপ্ত পাঁচ রাজ্যের ফল চিত্রটা এক মূহুর্তেই অনেকটা পাল্টে দিয়েছে।দিল্লির শাসনে বিজেপির ক্ষমতা হ্রাসের সম্ভাবনা দেখা দিতেই এ রাজ্যের তৃণমূল বিরোধী মানুষজন আবার কংগ্রেস ও সিপিএমের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে।বিপদ টের পেয়েছে বিজেপির রাজ্য নেতারাও,তরিঘরি তারা আইনি প্যাচ এড়িয়ে রথযাত্রার বদলে জনসভা করা যায় কীনা তা নিয়েও ভাবনা চিন্তা শুরু করে দিয়েছেন।এ রাজ্যে বিজেপির রাশ আলগা হতে চলেছে বুঝে রাজ্য নেতারাও একান্তে কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখাচ্ছেন।কেউ কেউ বলছেন চালাকি করে তৃণমূলের সঙ্গে বোঝাপড়া করার মাসুল এবার দিতে হবে।কোন সন্দেহ নেই এবার এ রাজ্যেও বিজেপির রাশ আলগা হতে শুরু করবে।অবস্থা বেগতিক বুঝে বিজেপির রাজ্য নেতারা দিল্লিকে বার্তা দিতেও শুরু করেছেন,বলা হচ্ছে দিল্লির নেতারা এখানে এসে মানুষকে ভরসা দিন,তারা যে এ রাজ্যে তৃণমূলকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বেন না সেই বার্তা দেওয়া না গেলে,এ রাজ্যে বিজেপির প্রধান বিরোধী দল হয়ে থাকা আর বেশী দিন সম্ভব হবে না।প্রমোদ গুনতে শুরু করেছেন দিলীপ ঘোষের মত নেতারাও,মুখে যাই বলুন,ভেতরে ভেতরে ভয় পাচ্ছেন দিলীপ ঘোষ,রাহুল সিনহারাও।কারণ তারা ভাল করেই জানেন তাঁদের যে এই আচমকা নেতা হয়ে ওঠা,নিরাপত্তা রক্ষীর বেষ্টনীতে ঘুরে বেড়ানো,সে সবই দিল্লিতে বিজেপি ক্ষমতায় আছে বলে,সে ক্ষমতা চলে গেলেই এঁদের মুখ বন্ধ হয়ে যাবে।এসব দু আনার নেতাদের তখন জায়গা হবে জঞ্জালের ডাষ্টবিনে।তাই ভিন রাজ্যের ফলাফল এ রাজ্যের বিজেপি নেতাদের কাছেও অশনি সংকেত।পরিশেষে এ কথাও বলতে হয়,ভিন রাজ্যের ভোটের এই ফল চাপে রাখল এ রাজ্যের শাসক তৃণমূলকেও,কারণ বিজেপি এ রাজ্যে প্রধান বিরোধী দল হয়ে থাকলে মুসলিম ভোট শাসক দলের দিকে এককাট্টা হয়ে পড়বে সে বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন মমতা,বিজেপি যদি প্রধান বিরোধী দল না থাকে,যদি দিল্লিতে বিজেপির ক্ষমতা হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়,আর তাতে যদি কংগ্রেসই প্রধান ভূমিকা নেয়,তাহলে এ রাজ্যের মুসলিমরাও তো চাইবেন কংগ্রেসেরই পাশে থাকতে।তাই এই ফলাফল মমতাকেও চাপে রাখবে।আর একটা বিষয় পরিষ্কার যে ২০১৯ এ যদি দিল্লির গদি পাল্টায় তবে নরেন্দ্র মোদীর চেয়ারের ধারে কাছেও রাহল গান্ধী ছাড়া কারোর নাম থাকবে না,পাঁচ রাজ্যের ভোটের ফলাফলের পর যে ভাবে সর্বভারতীয় প্রচারের আলো নিজের দিকে টেনে নিলেন কংগ্রেস সভাপতি তাতে রাজনৈতিক নির্বোধ ছাড়া কারোর পক্ষেই বোধহয় এই সত্যকে মেনে না নিয়ে উপায় নেই।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন এই কারণেই এ রাজ্যের উচ্চাকাঙ্ক্ষি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের সাফল্যে কংগ্রেস সভাপতিকে অভিনন্দন জানানোর সৌজন্যটুকুও দেখাতে পারেন নি।মমতা বুঝে গেছেন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তাঁকে একেবারে সাইটলাইনে ফেলে দিল এই পাঁচ রাজ্যের ভোটের ফল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.