

উত্তরবঙ্গের কোচবিহারের পর বৃহস্পতিবার নদিয়ার কৃষ্ণনগরে সভা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
গ্রাম থেকে শহর, পথশ্রী-রাস্তাশ্রী প্রকল্পে ২০ হাজার কিমি রাস্তার কাজের সূচনা করলেন : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
২০২৯ সালের আগে উল্টোবে: মমতা
বিজেপির ‘পতন’ শীঘ্রই, হুঙ্কার মমতার। নদিয়ার কৃষ্ণনগর থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, ‘ভোট করছে লুট আর ওরা বলছে ঝুট। এত করে কিছু হবে না। ‘২০২৯ সালের নির্বাচন পর্যন্ত যেতে হবে না। ওরা তার আগেই উল্টে যাবে। বলছে SIR-এ দেড় কোটি লোকের নাম বাদ দিতে হবে। বিজেপি সবার নামে অভিযোগ করেছে। শুধু বিজেপি বাদে সবাইয়ের নাম বাদ যাবে বলে দাবি।ওদের গদি তার আগেই উল্টে যাবে।’

দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভয়ঙ্কর: মুখ্যমন্ত্রী
অমিত শাহকে নাম করে আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি বলেন,‘দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভয়ঙ্কর। ওঁর দু-চোখ দেখলেই বোঝা যায় ভয়াবহ। এক চোখে দুর্যোধন ও অপর চোখে দুঃশাসন।’
কেন্দ্রের ভিক্ষা চাই না: মুখ্যমন্ত্রী
বাংলার বঞ্চনা নিয়ে ফের নদিয়ার মঞ্চ থেকে সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১০০ দিনের কাজের টাকা নিয়ে কেন্দ্রকে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর। তিনি বলেন, ‘ভালো কাজ করেও গোল্লা। আবাস ও ১০০ দিনের কাজে প্রথম ছিল বাংলা। তাও টাকা বন্ধ। আদালতের নির্দেশ পেয়েও ছ’মাস ঘুমিয়ে ছিল। এখন একটা চিঠি পাঠিয়ে বলছে টেন্ডার কর। আর এক মাস বাকি তার পরে ভোট। এ দিকে টেন্ডার করতেই তিন মাস যাবে। চালাকির খেলা খেলছে কেন্দ্র। তোমাদের চালাকির টাকা আমাদের লাগবে না। তোমাদের টাকা ছাড়াই আমরা ১০০ দিনের মধ্যে ৭৫ দিনের কাজ করেছি।’

দিল্লি থেকে কিছু লোক আসছে খবরদারি করতে: মুখ্যমন্ত্রী
বিজেপিকে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর। তিনি বলেন, ‘আমি সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদে বিশ্বাস করি না। সব ধর্মকে নিয়ে চলতে চাই। গীতা পাঠের জন্য পাবলিক মিটিং করার কী আছে। ঠাকুরের কাছে যে প্রার্থনা করে, আল্লার কাছে দোয়া চায়, তা তো মনে মনে করে সবাই। গীতা পাঠ তো সবাই বাড়িতে করে। যারা এই গীতা গীতা করছেন, তাদের কাছে জানতে চাই শ্রীকৃষ্ণ ধর্ম সম্পর্কে কী বলেছিলেন। ধর্ম মানে ধারণ। ধর্ম মানে ভাগাভাগি নয়। বাংলাটাকে ধ্বংস করতে চায় ওরা। বাংলা দখল করে বাংলায় কথা বলা বন্ধ করে দেবে। দিল্লি থেকে বিজেপি মার্কা কিছু লোককে পাঠানো হচ্ছে বাংলায়। বিজেপির যাঁরা গীতা পাঠ করছেন তারা আশা করি আমার কথা শুনতে পাচ্ছেন। ’

বাংলা থেকে কাউকে তাড়ালে কী করে ফিরিয়ে আনতে হয় আমরা জানি: মুখ্যমন্ত্রী
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,‘বাংলা থেকে কাউকে তাড়ালে কী করে ফিরিয়ে আনতে হয় আমরা জানি। বাংলা থেকে কাউকে তাড়াতে দেব না।’
সরকারি প্রকল্পের সুবিধা তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
ভোটের আগে রাজ্যে সড়ক পরিকাঠামোয় আরও জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার। তারই অঙ্গ হিসেবে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার নদিয়ার কৃষ্ণনগর থেকে রিমোট টিপে পথশ্রী ও রাস্তাশ্রী প্রকল্পের চতুর্থ পর্বে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার রাস্তার কাজের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ।
একই সঙ্গে মঞ্চে রাখা ইট, বালি, সিমেন্ট দিয়ে প্রতীকি হিসেবে প্রকল্পের কাজও শুরু করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর
সঙ্গে সরকারি সভায় উপস্থিত রয়েছেন রাজ্যের মুখ্য সচিব এবং পঞ্চায়েত সচিবও। অনুষ্ঠানে ছিলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র, রাজ্যের মন্ত্রী তথা কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভার বিধায়ক উজ্জ্বল বিশ্বাসও। অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে সড়ক নির্মাণের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়।

প্রশাসন সূত্রের খবর, পথশ্রী ও রাস্তাশ্রী প্রকল্পের চতুর্থ পর্বে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ পঞ্চায়েত দফতরের আওতায়। ৯,১১৪টি রাস্তা, মোট ১৫,০১১ কিলোমিটার—যার অনুমানিত ব্যয় ৬,৯৮৭ কোটি টাকা। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর রিমোট টেপার মুহূর্ত থেকেই এই বিশাল পরিমাণ রাস্তার কাজ শুরু হয়ে গেল।
শহরাঞ্চলে, অর্থাৎ কেএমডিএর অধীনে তৈরি হবে ১১,৩৬৫টি রাস্তা, দূরত্ব ৫,০১৯ কিলোমিটার। ব্যয় ধরা হয়েছে ১,৫০০ কোটি টাকা। এই কাজ শুরু হবে জানুয়ারি থেকে।
দুই মিলিয়ে পথশ্রী–রাস্তাশ্রীর এই পর্বে নতুন রাস্তার সংখ্যা ২০,৪৭৯টি। মোট দূরত্ব ২০,০৩০ কিলোমিটার। খরচ ২১,৯৮৭ কোটি টাকা—যা রাজ্যের অন্যতম বড় পরিকাঠামো প্রকল্প।

এসআইআর নিয়ে তোপ
ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর। বিদ্রুপাত্মক ভঙ্গিতে তিনি বলেন, ব্যাঙ্কের কাজে, প্যান কার্ডে আধার কার্ড বাধ্যতামূলক হলেও ভোটাধিকার এবং নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে আধার গ্রাহ্য করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিজেপির তাঁবেদারির জন্য আধার কার্ড চলবে? ইয়েস স্যর।”

প্যাটিস বিতর্কে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী
ব্রিগেডে প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধরের ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মারধরের ঘটনায় তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সবকটাকে গ্রেফতার করেছি! এটা বাংলা, উত্তরপ্রদেশ নয়।”



