গোপাল শেঠের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব, ৬ তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়ি লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি ,গুলি– বোমাবাজি , দুষ্কৃতী হামলায় উত্তপ্ত বনগাঁ

0
81

দেশের সময় , বনগাঁ :বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল শেঠের বিরুদ্ধে এ বার অনাস্থার আবেদন আনলেন তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলররা। এ দিন তাঁরা অনাস্থার আবেদন জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন পুরসভার এগজ়িকিউটিভঅফিসার এবং বনগাঁর এসডিও-র কাছে। অনাস্থার আবেদনপত্রে ১০ জন কাউন্সিলার সই করেছেন। পরবর্তী সময়ে দলের নির্দেশ এবং নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেই জানিয়েছেন বনগাঁর তৃণমূল নেতৃত্ব। যদিও এ দিন অনাস্থার আবেদনে সই করেননি বাকি ৯ জন কাউন্সিলার। ফলে এই ইস্যুতে তৃণমূলের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে।

গত ৬ ডিসেম্বর বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যানের পদ থেকে গোপাল শেঠকে ইস্তফা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল দল। নির্দেশ অমান্য করার। পর বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার পক্ষ থেকে ১৫ নভেম্বর সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়ও পেরিয়ে গিয়েছে। এর মধ্যেই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ছুটি নিয়েছেন গোপাল। তাঁর অবর্তমানে ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সুরজিৎ দাসকে দায়িত্বভার দেওয়ার প্রস্তাব করে গোপাল চিঠি দেন এগজিকিউটিভ অফিসারকে।এ বার গোপালের বিরুদ্ধে অনাস্থার আবেদন জানালেন তৃণমূলের কাউন্সিলাররা।

বুধবার দুপুরে বনগাঁর তৃণমূল পার্টি অফিসে বৈঠকের পরেই কাউন্সিলাররা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থার আবেদন জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন পুরসভার এগজ়িকিউটিভঅফিসার সুরেশ চন্দ্র হীরা এবং বনগাঁর এসডিও-র কাছে। অনাস্থার আবেদন পত্রে ১০ জন তৃণমূলের কাউন্সিলার সই করেছেন। বাকি কাউন্সিলাররা অবশ্য এই অনাস্থার আবেদনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার সুরেশ চন্দ্র হীরা বলেন, ‘পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থার আবেদন জানিয়ে কাউন্সিলাররা চিঠি দিয়েছেন এ দিন। তাঁদের আবেদন রিসিভ করা হয়েছে।’ চেয়ারম্যান গোপাল শেঠকে ফোনে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী মোট কাউন্সিলারের এক তৃতীয়াংশ অনাস্থার আবেদন করতে পারেন।’

এদিন গভীর রাতে দুষ্কৃতীদের একের পর এক হামলায় তীব্র উত্তেজনা ছড়াল বনগাঁ পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত ছ’জন কাউন্সিলর ও তৃণমূল ওয়ার্ড সভাপতির বাড়িতে ইটবৃষ্টি, বোমাবাজি এবং গুলিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

২ নম্বর ওয়ার্ড: কাউন্সিলর শিখা ঘোষ ও ওয়ার্ড সভাপতি উত্তম ঘোষের বাড়ি লক্ষ্য করে তাণ্ডব : রাত প্রায় ১১টা নাগাদ শতাধিক বাইকে করে দুষ্কৃতীরা পৌঁছে যায় ২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর শিখা ঘোষ ও ওয়ার্ড সভাপতি উত্তম ঘোষের বাড়ির সামনে। অভিযোগ, বড় বড় ইট ছুড়ে বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা, লাগাতার গালিগালাজ, সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়।

এব্যাপারে তৃণমূলের ২ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি উত্তম ঘোষ জানান, “এত লোক বাইক নিয়ে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়েছিল যে বাইরে বেরোনোই সম্ভব হয়নি। পুলিশকে ফোন করা হলেও তারা অনেক দেরিতে আসে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।” তাদের দাবি, গোপাল শেঠের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে সই না করায় তাঁদের নিশানা করা হয়েছে।
একই রাতে বোমার শব্দে কেঁপে ওঠে ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড। অভিযোগ ওঠে, ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বন্দনা কীর্তনীয়ার বাড়ির সামনে দুষ্কৃতীরা বোমাবাজি চালায়। কাউন্সিলরের কথায়, “দলের সঙ্গেই আছি। তবু গোপাল শেঠের বিরুদ্ধে অনাস্থা কাগজে সই না করায় আমাদের ভয় দেখানো হচ্ছে।”

একই রাতে বোমার শব্দে কেঁপে ওঠে ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড। অভিযোগ ওঠে, ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বন্দনা কীর্তনীয়ার বাড়ির সামনে দুষ্কৃতীরা বোমাবাজি চালায়। কাউন্সিলরের কথায়, “দলের সঙ্গেই আছি। তবু গোপাল শেঠের বিরুদ্ধে অনাস্থা কাগজে সই না করায় আমাদের ভয় দেখানো হচ্ছে।”

দলের ৯ নম্বর ওয়ার্ড কান্সিলর বন্দনা মুন্সির বাড়ির আশেপাশেও বোমা ফাটানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় সমগ্র এলাকা আতঙ্কিত। একই রাতে ১১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শম্পা মহন্তর বাড়ির সামনে গুলিচালনার ঘটনা ঘটেছে। রাতে হঠাৎই শূন্যে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা, অভিযোগ কাউন্সিলর শম্পা মহন্তর। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, তীব্র শব্দে চারদিক কেঁপে ওঠে, আতঙ্কে বাইরে বেরোতে পারেননি কেউ।

বুধবার রাতেই বনগাঁ পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দিপালী বিশ্বাসের বাড়ির সামনেও হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, রাত প্রায় ১২ টা নাগাদ একদল দুষ্কৃতী মাথায় হেলমেট পড়ে বাড়ির কাছে নামে। আর তারপর সার্টার লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি শুরু করে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা চলে যায়। দ্বিতীয়বার ফের তারা আসে। এই ঘটনায় আতঙ্কিত কাউন্সিলর এবং তাঁর পরিবার।

১৯ নম্বর ওয়ার্ড : কাউন্সিলর শর্মিলা দাস বৈরাগীর বাড়িতে ৬ রাউন্ড গুলি চলেছে বলে কাউন্সিলর নিজেই জানিয়েছেন। রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ টার্গেট করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। শর্মিলা দাস বৈরাগীর অভিযোগ, অন্তত ৬ রাউন্ড গুলি চলেছে, জানালা–দরজায় গুলির চিহ্ন মিলেছে। তবে এভাবে ভয় দেখিয়ে তাঁদের দমিয়ে রাখা যাবে না বলে জানিয়েছেন কাউন্সিলর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়।

বনগাঁ পুরসভার প্রধান গোপাল শেঠের ঘনিষ্ঠ রাজা হালদারের বাড়িতেও হামলা ঘটনা ঘটেছে। রাজা হালদারের অভিযোগ, তাঁর বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর, জানলার কাচ চূর্ণ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, “এটি পরিকল্পিত হামলা, কাউন্সিলরদের ভয় দেখাতে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আরও বাড়ছে।” গত রাতে গোপাল শেঠ ঘনিষ্ট তৃণমূল কাউন্সিলরদের বাড়িতে একের পর এক এইভাবে হামলার ঘটনা এখন এলাকার মানুষের কাছে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Previous articleBangaon Local Train: নিত্যযাত্রীদের জন্য বড় খবর! এ বার শিয়ালদহ থেকে সন্ধ্যায় ১৫ মিনিট অন্তর বনগাঁ লোকাল? বড় পরিকল্পনা পূর্ব রেলের
Next articleঠাকুরনগরে মুখ্যমন্ত্রীর সভার প্রস্তুতি নিয়ে ঠাকুরবাড়িতে বৈঠক করলেন মমতাবালা-জ্যোতিপ্রিয়, মতুয়া ভাইদের চোখে জল, বললেন বালু

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here